সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নাজমুল হক – খুলনার সেরা ইউরোলজিস্ট ও অ্যান্ড্রোলজিস্ট
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নাজমুল হক শহীদ শেখ আবু-নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, খুলনা-এর ইউরোলজি বিভাগের একজন প্রখ্যাত সহকারী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট, যার জেনারেল এবং ইউরোলজিক্যাল সার্জারিতে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি রেনাল কলিক, পায়োনেফ্রোসিস, কাইলুরিয়া, রেনাল ইনফার্কশন এবং এপিডিকেডি (ADPKD)-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। ইউরোলজি ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির যেকোনো জটিল এবং ইমার্জেন্সি অবস্থায় তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
ডাঃ মোঃ নাজমুল হক সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগদান করেন এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি জেনারেল সার্জারিতে ফেলোশিপ (FCPS in Surgery) এবং ইউরোলজিতে মাস্টার অব সার্জারি (MS in Urology) সম্পন্ন করেন। জেনারেল সার্জারি এবং ইউরোলজির এই বিরল ও সমৃদ্ধ সমন্বয় তাকে পেটের যেকোনো জটিল অ্যানাটমি ও মারাত্মক কিডনি ইনফেকশন সামলাতে অনন্য দক্ষতা প্রদান করেছে। খুলনায় সেরা ইউরোলজিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সরকারি হাসপাতালের ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা এবং সার্জিক্যাল নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে পায়োনেফ্রোসিসের জন্য জরুরি পিসিএন (PCN) ড্রেনেজ, সাদা প্রস্রাব বা কাইলুরিয়ার জন্য স্ক্লেরোথেরাপি, রেনাল কলিক ও রেনাল ইনফার্কশনের জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং পলিসিস্টিক কিডনির দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা। তিনি আধুনিক সিটি ইউরোগ্রাম, রেনাল ডপলার এবং সিস্টোস্কোপির ওপর ভিত্তি করে নির্ভুল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নাজমুল হক |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | ইউরোলজি ও কিডনি সার্জারি |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | জেনারেল সার্জারি ও অ্যাকিউট রেনাল কেয়ার |
| পদবী | সহকারী অধ্যাপক (ইউরোলজি) |
| কর্মস্থল | শহীদ শেখ আবু-নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ২৫+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি
বিসিএস (স্বাস্থ্য) – বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য ক্যাডার)
এফসিপিএস (সার্জারি) – ফেলো অব দ্য কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (সার্জারি)
এমএস (ইউরোলজি) – মাস্টার অব সার্জারি (ইউরোলজি)
পদবী ও কর্মস্থল
পদবী: সহকারী অধ্যাপক (ইউরোলজি)
কর্মস্থল: ইউরোলজি বিভাগ, শহীদ শেখ আবু-নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, খুলনা
যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়
রেনাল কলিকে (পাথরের তীব্র ব্যথা) জরুরি ব্যথা নিরাময় ও পাথর অপসারণ।
পায়োনেফ্রোসিসে (কিডনিতে পুঁজ) জরুরি পিসিএন (PCN) ড্রেনেজ সার্জারি।
কাইলুরিয়ায় (দুধের মতো সাদা প্রস্রাব) বিশেষ স্ক্লেরোথেরাপি বা সার্জারি।
রেনাল ইনফার্কশনে (কিডনির রক্তনালী ব্লক) জরুরি ভাস্কুলার মূল্যায়ন।
পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজে (ADPKD) দীর্ঘমেয়াদী কিডনি সুরক্ষা চিকিৎসা।
কিডনি ও প্রস্রাবের নালীর পাথরে লেজার লিথোট্রিপসি অপারেশন।
প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়ায় (BPH) নিখুঁত টার্প (TURP) অপারেশন।
মূত্রনালীর সংকোচন বা স্ট্রিকচারে রিকনস্ট্রাকটিভ ইউরেথ্রোপ্লাস্টি।
হাইড্রোনেফ্রোসিসে (কিডনি ফোলা) জরুরি স্টেন্টিং ও ব্লক অপসারণ।
ব্লাডার ক্যানসারে সিস্টোস্কোপিক টিউমার অপসারণ (TURBT)।
প্রোস্টেট ক্যানসারে অনকোলজিক্যাল মূল্যায়ন ও সার্জারি।
মূত্রনালীর সংক্রমণে (UTI) কালচার-ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা।
ভেরিকোসিলে (শিরার ফুলে যাওয়া) ল্যাপারস্কোপিক বা মাইক্রোসার্জারি।
হাইড্রোসিল বা অণ্ডকোষে পানি জমায় নিখুঁত সার্জারি।
পুরুষ বন্ধ্যত্ব বা মেল ইনফার্টেলিটি দূর করতে আধুনিক পরীক্ষা।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
অ্যাকিউট ইউরো-ইমার্জেন্সি ও ইনফেকশন: অবরুদ্ধ কিডনিতে পুঁজ জমা (পায়োনেফ্রোসিস) এবং কিডনির পাথরের তীব্র ব্যথায় (রেনাল কলিক) জীবন ও কিডনি রক্ষাকারী জরুরি সার্জারি।
জটিল কিডনি প্যাথলজি: প্রস্রাবে লিম্ফ বা লসিকা মিশ্রিত হওয়া (কাইলুরিয়া) এবং কিডনির রক্ত চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার (রেনাল ইনফার্কশন) উন্নত চিকিৎসা।
জেনারেল ও রিকনস্ট্রাকটিভ ইউরোলজি: প্রোস্টেট অপারেশন, কিডনির পাথর এবং গঠনগত ত্রুটি মেরামতে ২৫ বছরের সার্জিক্যাল অভিজ্ঞতা।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
পায়োনেফ্রোসিসের জন্য পারকিউটেনিয়াস নেফ্রোস্টোমি (PCN)
যখন কিডনির নালী ব্লক হয়ে কিডনির ভেতর প্রচুর পুঁজ জমে যায়, তখন রোগীর শরীরে মারাত্মক বিষক্রিয়া (Sepsis) শুরু হয়। জীবন বাঁচাতে আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে পিঠের দিক থেকে একটি ছোট টিউব সরাসরি কিডনিতে পরিয়ে দিয়ে দ্রুত পুঁজ বের করে আনা হয়। এটি একটি জরুরি জীবন রক্ষাকারী পদ্ধতি।
কাইলুরিয়ার জন্য স্ক্লেরোথেরাপি ও লিম্ফ্যাটিক ডিসকানেকশন
যাদের প্রস্রাবের সাথে লসিকা বা চর্বিযুক্ত সাদা তরল (Chyle) বের হয়, তাদের কিডনির ভেতরে সিলভার নাইট্রেট বা পভিডোন আয়োডিন ইনজেকশন দেওয়া হয় (স্ক্লেরোথেরাপি) যাতে লিক হওয়া অংশটি জোড়া লেগে যায়। এতে কাজ না হলে মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে লিক হওয়া লসিকা নালীগুলো কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়।
ADPKD এর জন্য সিস্ট ডেকর্টিকেশন
পলিসিস্টিক কিডনি রোগে কিডনিতে অসংখ্য পানিভর্তি সিস্ট বা থলি তৈরি হয়। যদি কোনো বড় সিস্টের কারণে প্রচণ্ড ব্যথা হয় বা রক্তক্ষরণ হয়, তবে ল্যাপারস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে সেই সিস্টের ওপরের অংশ কেটে পানি বের করে দেওয়া হয়, যাতে ব্যথা ও চাপ চিরতরে কমে যায়।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
পায়োনেফ্রোসিস (Pyonephrosis)
এটি ইউরোলজিতে একটি চরম ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা। কিডনির পাথর বা অন্য কোনো ব্লকের কারণে কিডনিতে প্রস্রাব জমে সেখানে মারাত্মক ইনফেকশন হয়ে পুঁজ তৈরি হয়। পুঁজ বের হতে না পেরে রক্তে বিষক্রিয়া ছড়ায়। দ্রুত সার্জারি করে পুঁজ না বের করলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কাইলুরিয়া (Chyluria)
এটি একটি বিরল সমস্যা যেখানে প্রস্রাব দুধের মতো সাদা হয়ে যায়। সাধারণত ফাইলেরিয়া (গোদ রোগ) বা অন্য কোনো প্যারাসাইটের আক্রমণে লসিকা গ্রন্থি ব্লক হয়ে গেলে, পেটের লসিকা (লিম্ফ) ফেটে কিডনির প্রস্রাবের রাস্তার সাথে মিশে যায়। এর ফলে প্রস্রাবের সাথে চর্বি ও প্রোটিন বেরিয়ে যায় এবং রোগী মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েন।
রেনাল ইনফার্কশন (Renal Infarction)
হার্ট বা অন্য কোনো জায়গা থেকে রক্তের দলা (Blood clot) ছুটে গিয়ে যদি কিডনির রক্তনালীকে হঠাৎ ব্লক করে দেয়, তবে তাকে রেনাল ইনফার্কশন বলে। এর ফলে হঠাৎ করে মাজার কাছে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় যা হুবহু কিডনির পাথরের ব্যথার মতো মনে হয়। দ্রুত সিটি স্ক্যান করে রোগ নির্ণয় না করলে অক্সিজেনের অভাবে কিডনিটি মরে যায়।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
ডাঃ মোঃ নাজমুল হক অত্যন্ত সহানুভূতি ও মনোযোগের সাথে রোগীর কথা শোনেন। পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জটিল ও ইমার্জেন্সি কিডনির রোগগুলোতে অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি কিডনির দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোতে কিডনির কার্যক্ষমতা সর্বোচ্চ সময় ধরে রাখার ওপর জোর দেন।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি হঠাৎ করে পেটের একপাশে বা মাজার কাছে তীব্র ও অসহ্য ব্যথা শুরু হয় এবং বমি হয় (রেনাল কলিক), প্রচণ্ড কাঁপুনি দিয়ে উচ্চ জ্বর আসে ও মাজার কাছে ফুলে যায় (পায়োনেফ্রোসিস), অথবা প্রস্রাব হঠাৎ করে সাদা দুধের মতো হয়ে জমাট বেঁধে প্রস্রাব আটকে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
সদস্য, সোসাইটি অফ সার্জনস অফ বাংলাদেশ (SSB)
সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইউরোলজিক্যাল সার্জনস (BAUS)
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা আল্ট্রাসাউন্ড (USG KUB), সিটি ইউরোগ্রাম, রেনাল ডপলার এবং এক্স-রে রিপোর্ট সাথে আনুন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধ, বিশেষ করে ব্লাড প্রেসার বা রক্ত পাতলা করার ওষুধের তালিকা সাথে রাখুন।
প্রস্রাবের রঙ কখন পরিবর্তন হয় (যেমন সাদা দুধের মতো বা লাল) এবং ব্যথার তীব্রতা ডায়রিতে লিখে আনলে চিকিৎসকের বুঝতে সুবিধা হয়।
পায়োনেফ্রোসিসের মতো জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে, তাই অবশ্যই পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে সাথে আনুন।
Last Modified: October 22, 2026