ডাঃ উম্মে সায়মা সানি – খুলনার সেরা ডেন্টাল সার্জন ও ওরাল স্পেশালিস্ট
ডাঃ উম্মে সায়মা সানি খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগের একজন প্রখ্যাত কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান, যার মুখ, চোয়াল এবং দাঁতের জটিল সার্জারিতে ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি পায়োজেনিক গ্রানুলোমা, পেরিফেরাল জায়ান্ট সেল গ্রানুলোমা, ইরাপশন সিস্ট, গ্ল্যান্ডুলার ওডোনটোজেনিক সিস্ট এবং ক্যালসিফাইং এপিথেলিয়াল ওডোনটোজেনিক টিউমারের মতো মুখের বিরল প্যাথলজির একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। মুখ ও মাড়ির যেকোনো জটিল টিউমার, রক্তপাত এবং দাঁতের সার্জারিতে তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
ডাঃ উম্মে সায়মা সানি দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU) থেকে সফলতার সাথে বিডিএস (BDS) ডিগ্রি অর্জন করেন। মুখ ও চোয়ালের উন্নত সার্জারিতে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে তিনি ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারিতে (OMFS) পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং (PGT) সম্পন্ন করেন। এই বিশেষায়িত সার্জিক্যাল ট্রেনিং তাকে দাঁতের সাধারণ ফিলিং বা স্কেলিংয়ের বাইরে গিয়ে চোয়ালের কঠিন সিস্ট, টিউমার এবং আক্কেল দাঁতের জটিল অপারেশনে অসামান্য দক্ষতা প্রদান করেছে। খুলনায় সেরা ডেন্টাল সার্জন খুঁজতে গেলে রোগীরা গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তার ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে রক্তপাতযুক্ত পায়োজেনিক গ্রানুলোমার নিখুঁত সার্জিক্যাল এক্সিশন, পেরিফেরাল জায়ান্ট সেল গ্রানুলোমা সমূলে বিনাশ করা, গ্ল্যান্ডুলার ওডোনটোজেনিক সিস্ট সার্জারি করে বের করা এবং শিশুদের ইরাপশন সিস্টের চিকিৎসা। তিনি ওপিজি (OPG), সিবিসিটি (CBCT) স্ক্যান এবং হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল বায়োপসির ওপর ভিত্তি করে মুখের যেকোনো টিউমার বা সিস্টের নির্ভুল সার্জিক্যাল পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | ডাঃ উম্মে সায়মা সানি |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জারি (মুখ ও দাঁতের শল্যচিকিৎসা) |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | মাইনর ওরাল সার্জারি (OMFS) ও ওরাল প্যাথলজি |
| পদবী | কনসালটেন্ট, বিভাগীয় প্রধান (ডেন্টাল) |
| কর্মস্থল | গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ৬+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
বিডিএস (DU) – ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পিজিটি (OMFS) – পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইন ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি
পদবী ও কর্মস্থল
পদবী: কনসালটেন্ট, বিভাগীয় প্রধান (ডেন্টাল)
কর্মস্থল: ডেন্টাল বিভাগ, গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা
যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়
পায়োজেনিক গ্রানুলোমায় (মাড়ির রক্তক্ষরণযুক্ত টিউমার) নিখুঁত সার্জারি ও বায়োপসি।
পেরিফেরাল জায়ান্ট সেল গ্রানুলোমায় পুনরায় টিউমার হওয়া রোধে ডিপ সার্জিক্যাল এক্সিশন।
ইরাপশন সিস্টে (শিশুদের দাঁত আটকে থাকা) দাঁত ওঠার রাস্তা পরিষ্কার করতে সার্জারি (Unroofing)।
গ্ল্যান্ডুলার ওডোনটোজেনিক সিস্টে (চোয়ালের আক্রমণাত্মক সিস্ট) নিখুঁত সার্জিক্যাল এনুক্লিয়েশন।
ক্যালসিফাইং এপিথেলিয়াল ওডোনটোজেনিক টিউমারে (পিন্ডবর্গ টিউমার) চোয়ালের টিউমার অপসারণ।
ইমপ্যাক্টেড আক্কেল দাঁত (আটকে থাকা দাঁত) সার্জারির মাধ্যমে নিরাপদ এক্সট্রাকশন বা তোলা।
ডেন্টাল ক্যারিজ (দাঁত ক্ষয়) বা গর্তের জন্য নিখুঁত কম্পোজিট ফিলিং ও রুট ক্যানেল।
মারাত্মক পেরিওডোনটাইটিসে (মাড়ির রোগ) স্কেলিং, রুট প্ল্যানিং ও মাইনর ফ্ল্যাপ সার্জারি।
জিঞ্জিভাল হাইপারপ্লাসিয়ায় (মাড়ি ফুলে বড় হওয়া) সার্জিক্যাল জিঞ্জিভেকটমি।
ওডোনটোজেনিক অ্যাবসেসে (দাঁতের গোড়ায় পুঁজ) ইমার্জেন্সি পুঁজ বের করা ও চিকিৎসা।
ডেন্টাল ট্রমা (দাঁত বা চোয়াল ভাঙা) ইমার্জেন্সি স্প্লিন্টিং ও সার্জিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
ওরাল প্যাথলজি ও লেশন ম্যানেজমেন্ট: মাড়িতে তৈরি হওয়া যেকোনো মাংসপিণ্ড (টিউমার), রক্তপাতযুক্ত ঘা বা চোয়ালের ভেতরের বিরল সিস্ট অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সার্জারি করে বের করা এবং ক্যানসার কি না তা নিশ্চিত করতে বায়োপসি করানো।
মাইনর ওরাল সার্জারি (OMFS): ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারির বিশেষ ট্রেনিংয়ের সাহায্যে আটকে থাকা আক্কেল দাঁত তোলা, সিস্ট অপারেশন করা এবং মুখের ভেতরের জটিল ইনফেকশনের চিকিৎসা।
জেনারেল ও পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি: দাঁত ক্ষয়, মাড়ির রোগ এবং শিশুদের দাঁত ওঠার সময়কার সমস্যাগুলোর (যেমন ইরাপশন সিস্ট) অত্যন্ত যত্নশীল ও ব্যথামুক্ত চিকিৎসা।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
ওরাল টিউমারের সার্জিক্যাল এক্সিশন ও বায়োপসি
পায়োজেনিক গ্রানুলোমার মতো টিউমারগুলোতে প্রচুর রক্তনালী থাকে, তাই সামান্য ছোঁয়াতেই প্রচুর রক্ত পড়ে। শুধু সাধারণ স্কেলিং দিয়ে এগুলো সারে না। ডাঃ সানি লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে টিউমারটি কেটে বের করেন এবং টিউমার তৈরির মূল কারণ (যেমন দাঁতের পাথর বা ধারালো হাড়) পরিষ্কার করেন। ক্যানসার ঝুঁকি এড়াতে কাটা অংশটি সবসময় বায়োপসির জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়।
গ্ল্যান্ডুলার ওডোনটোজেনিক সিস্ট অপারেশন
এটি চোয়ালের একটি অত্যন্ত বিরল এবং আক্রমণাত্মক সিস্ট, যা অপারেশন করার পরও বারবার ফিরে আসার জন্য কুখ্যাত। ডাঃ সানি অ্যাডভান্সড সার্জিক্যাল এনুক্লিয়েশন (Enucleation) পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তিনি সিস্টের পাতলা আবরণীটি চোয়ালের হাড় থেকে পুরোপুরি ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন এবং হাড়ের ভেতরের গর্তটি ভালোভাবে পরিষ্কার করেন, যাতে সিস্টের কোনো ক্ষুদ্র কোষও বেঁচে থাকতে না পারে।
ইরাপশন সিস্টের জন্য সার্জিক্যাল আনরুফিং (Unroofing)
শিশুদের নতুন দাঁত ওঠার সময় অনেক সময় দাঁতটি মাড়ির শক্ত চামড়া ভেদ করে বের হতে পারে না। সেখানে পানি জমে নীলচে রঙের একটি বেলুন বা সিস্ট তৈরি হয়, যাকে ইরাপশন সিস্ট বলে। এটি নিজে থেকে না ফাটলে শিশু ব্যথায় খেতে পারে না। তখন ডাঃ সানি একটি ছোট ও ব্যথামুক্ত মাইনর সার্জারির (আনরুফিং) মাধ্যমে চামড়াটি সামান্য কেটে দেন, যাতে নতুন দাঁতটি সহজেই মুখে বেরিয়ে আসতে পারে।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
পায়োজেনিক গ্রানুলোমা (Pyogenic Granuloma)
নামে 'পায়োজেনিক' হলেও এতে কোনো পুঁজ থাকে না। এটি মাড়ির ওপর তৈরি হওয়া একটি ব্যথাহীন, টকটকে লাল রঙের এবং দ্রুত বর্ধনশীল মাংসপিণ্ড। এটি পুরোপুরি ছোট ছোট রক্তনালী দিয়ে তৈরি হয়, তাই ব্রাশ করার সময় বা সামান্য ছোঁয়াতেই প্রচুর রক্ত পড়ে। এটি সাধারণত দাঁতের পাথর (Plaque) জমার কারণে বা গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে (যাকে প্রেগন্যান্সি টিউমার বলে) তৈরি হয়।
পেরিফেরাল জায়ান্ট সেল গ্রানুলোমা
এটিও মাড়ির ওপর তৈরি হওয়া একটি টিউমার, যা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী আঘাত বা অপরিষ্কার দাঁতের কারণে হয়। এটি দেখতে কালচে লাল বা বেগুনি রঙের হয়। পায়োজেনিক গ্রানুলোমার মতো এটি শুধু ওপরের মাড়িতে থাকে না, এটি হাড়ের অনেক গভীর থেকে জন্ম নেয়। তাই সময়মতো সার্জারি করে হাড়ের গভীর পর্যন্ত পরিষ্কার না করলে এটি চোয়ালের হাড় গলিয়ে ফেলতে পারে এবং পাশের সুস্থ দাঁতগুলো নড়িয়ে দিতে পারে।
ক্যালসিফাইং এপিথেলিয়াল ওডোনটোজেনিক টিউমার (CEOT)
এটি 'পিন্ডবর্গ টিউমার' (Pindborg tumor) নামেও পরিচিত। এটি চোয়ালের একটি অত্যন্ত বিরল টিউমার, যা দাঁতের এনামেল তৈরি করা কোষগুলো থেকে জন্ম নেয়। এটি ধীরে ধীরে নীরবে বড় হয় এবং চোয়ালের হাড়কে ফুলিয়ে দেয়। এই টিউমারের ভেতরে হাড়ের মতো শক্ত দানাদার অংশ তৈরি হয় এবং এটি প্রায়শই নতুন দাঁত উঠতে বাধা দেয়। টিউমারসহ আশপাশের সামান্য সুস্থ হাড় কেটে ফেলাই এর একমাত্র চিকিৎসা।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
ডাঃ উম্মে সায়মা সানি তার ৬ বছরের সার্জিক্যাল প্রজ্ঞা দিয়ে এমন সব মুখের টিউমার ও ঘা-এর চিকিৎসা করেন, যেগুলো সাধারণ ডেন্টিস্টরা করতে ভয় পান বা রেফার করে দেন। তার লক্ষ্য থাকে মিনিম্যালি ইনভেসিভ (যতটা সম্ভব কম কেটে) সার্জারির মাধ্যমে মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখা, প্রতিটি টিউমারের বায়োপসি নিশ্চিত করা এবং সার্জারির ভয়ে ভীত রোগীদের অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও ব্যথামুক্ত চিকিৎসা প্রদান করা।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি মাড়ির কোনো টিউমার বা দাঁত তোলার পর একটানা রক্ত পড়া শুরু হয় যা কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না, নিচের চোয়াল বা গলা হঠাৎ দ্রুত ফুলে গিয়ে ঢোক গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয় (লুডউইগস অ্যাঞ্জাইনা - মারাত্মক ডেন্টাল ইনফেকশন), অথবা মুখে মারাত্মক আঘাত পাওয়ার পর ওপরের ও নিচের দাঁত একসাথে ঠিকমতো না মেলে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
বিভাগীয় প্রধান (ডেন্টাল), গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইন্ড (PGT), ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা যেকোনো দাঁত বা চোয়ালের এক্স-রে (OPG), সিবিসিটি (CBCT) স্ক্যান এবং মুখের ঘা বা টিউমারের বায়োপসি রিপোর্ট সাথে আনুন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন। বিশেষ করে রোগী যদি গর্ভবতী হন (প্রেগন্যান্সি টিউমার বোঝার জন্য) বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তবে তা চিকিৎসককে অবশ্যই জানাবেন।
মাড়ির টিউমারটি কত দ্রুত বড় হয়েছে, ব্রাশ করার সময় রক্ত পড়ে কি না বা ঠোঁট-থুতনিতে কোনো অবশ ভাব আছে কি না তা ডায়রিতে লিখে আনলে চিকিৎসকের বুঝতে সুবিধা হয়।
ইরাপশন সিস্টে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে, মুখ ফুলে যাওয়ার সময়কাল এবং দাঁতের সমস্যার পূর্বের ইতিহাস চিকিৎসককে সঠিকভাবে জানাবেন।
Last Modified: October 28, 2026