ডাঃ ফররুখ উদ্দীন রাসেল – খুলনার সেরা ডেন্টাল সার্জন ও ওরাল স্পেশালিস্ট
ডাঃ ফররুখ উদ্দীন রাসেল খুলনার অ্যাভিনিউ ডেন্টাল-এর চিফ কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন, যার দাঁত ও মুখের জটিল সার্জারিতে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি গোরলিন-গোল্টজ সিনড্রোম, গার্ডনার সিনড্রোম, পিউটজ-জেঘারস সিনড্রোম এবং এহলারস-ডানলস সিনড্রোমের মতো অত্যন্ত বিরল জেনেটিক রোগের ডেন্টাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সমস্যার একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। নষ্ট বা ব্যথাযুক্ত দাঁতের সাধারণ চিকিৎসার বাইরে গিয়ে চোয়ালের যেকোনো জটিল টিউমার বা সিস্টের সার্জারিতে তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
ডাঃ ফররুখ উদ্দীন রাসেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (RU) থেকে সফলতার সাথে বিডিএস (BDS) ডিগ্রি অর্জন করেন। দাঁত ও চোয়ালের উন্নত সার্জারিতে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে তিনি ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারিতে (OMFS) পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং (PGT) সম্পন্ন করেন। এই বিশেষায়িত ক্লিনিক্যাল ট্রেনিং তাকে সাধারণ দাঁত তোলার বাইরে গিয়ে চোয়ালের বিরল টিউমারগুলো নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার এবং কানেক্টিভ টিস্যুর দুর্বলতা থাকা রোগীদের (যেমন EDS) অত্যন্ত নিরাপদে সার্জারি করার অসামান্য দক্ষতা প্রদান করেছে। খুলনায় সেরা ডেন্টাল সার্জন খুঁজতে গেলে রোগীরা অ্যাভিনিউ ডেন্টালে তার চিফ কনসালটেন্ট হিসেবে নিবিড় অভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে গোরলিন-গোল্টজ সিনড্রোমে চোয়ালের একাধিক সিস্টের (OKC) সার্জিক্যাল অপারেশন, গার্ডনার সিনড্রোমে চোয়ালের হাড়ের টিউমার (Osteoma) এবং আটকে থাকা দাঁত বের করা, এবং এহলারস-ডানলস সিনড্রোমে চোয়ালের জয়েন্ট (TMJ) সুরক্ষিত রেখে ব্যথামুক্ত ডেন্টাল চিকিৎসা প্রদান। তিনি ওপিজি (OPG), সিবিসিটি (CBCT) স্ক্যান এবং বায়োপসির ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদী এবং নির্ভুল ডেন্টাল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | ডাঃ ফররুখ উদ্দীন রাসেল |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | ওরাল ও ডেন্টাল সার্জারি |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | সিনড্রোমিক চোয়ালের প্যাথলজি ও মাইনর ওরাল সার্জারি |
| পদবী | চিফ কনসালটেন্ট, ডেন্টাল |
| কর্মস্থল | অ্যাভিনিউ ডেন্টাল, খুলনা |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
বিডিএস (RU) – ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
পিজিটি (OMFS) – পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইন ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি
পদবী ও কর্মস্থল
পদবী: চিফ কনসালটেন্ট, ডেন্টাল
কর্মস্থল: অ্যাভিনিউ ডেন্টাল, খুলনা
যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়
গোরলিন-গোল্টজ সিনড্রোমে চোয়ালের একাধিক আক্রমণাত্মক সিস্ট (OKC) সার্জারি করে বের করা।
গার্ডনার সিনড্রোমে চোয়ালের হাড়ের শক্ত টিউমার (ওস্টিওমা) এবং আটকে থাকা অতিরিক্ত দাঁত তোলা।
এহলারস-ডানলস সিনড্রোমে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যথামুক্ত ডেন্টাল চিকিৎসা ও TMJ সুরক্ষা।
পিউটজ-জেঘারস সিনড্রোমে ঠোঁট ও মুখের দাগ শনাক্ত করে পেটের চিকিৎসকের কাছে রেফার করা।
ইমপ্যাক্টেড আক্কেল দাঁত (আটকে থাকা দাঁত) সার্জারির মাধ্যমে নিরাপদ এক্সট্রাকশন বা তোলা।
ডেন্টাল ক্যারিজ (দাঁত ক্ষয়) বা গর্তের জন্য নিখুঁত কম্পোজিট ফিলিং ও রুট ক্যানেল।
ইরিভার্সিবল পালপাইটিসে (দাঁতের তীব্র ব্যথা) আধুনিক ও ব্যথামুক্ত রুট ক্যানেল থেরাপি।
পেরিঅ্যাপাইক্যাল অ্যাবসেসে (দাঁতের গোড়ায় পুঁজ) রুট ক্যানেল বা সার্জারি করে পুঁজ বের করা।
মারাত্মক পেরিওডোনটাইটিসে (মাড়ির রোগ) ডিপ স্কেলিং, রুট প্ল্যানিং ও ইনফেকশন কন্ট্রোল।
টিএমজে (TMJ) বা চোয়ালের জয়েন্টের সমস্যায় স্প্লিন্ট থেরাপি বা সার্জিক্যাল চিকিৎসা।
ডেন্টাল ট্রমা (দাঁত বা চোয়াল ভাঙা) ইমার্জেন্সি রুট ক্যানেল ও সার্জিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
সিনড্রোমিক ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি: জন্মগত বা জেনেটিক কারণে যখন চোয়ালের হাড়ে বারবার একাধিক সিস্ট বা টিউমার তৈরি হয়, তখন হাড়কে সুরক্ষিত রেখে পর্যায়ক্রমিক সার্জারির মাধ্যমে মুখমণ্ডলকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করা।
কানেক্টিভ টিস্যু ডেন্টিস্ট্রি: যাদের মুখের চামড়া ও মাড়ি অত্যন্ত পাতলা এবং চোয়ালের জয়েন্ট খুব সহজেই ছুটে যায় (যেমন এহলারস-ডানলস), তাদের জন্য বিশেষ অ্যানেস্থেসিয়া ও অত্যন্ত নিরাপদ ডেন্টাল চিকিৎসা প্রদান।
মাইনর ওরাল সার্জারি (OMFS): ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারির বিশেষ ট্রেনিংয়ের সাহায্যে আটকে থাকা আক্কেল দাঁত তোলা, সিস্ট অপারেশন করা এবং মুখের ভেতরের জটিল ইনফেকশনের চিকিৎসা।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
মাল্টিপল OKC এনুক্লিয়েশন (গোরলিন-গোল্টজ সিনড্রোম)
গোরলিন-গোল্টজ সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীদের ওপরের ও নিচের চোয়ালে বারবার আক্রমণাত্মক সিস্ট (OKC) তৈরি হয়। ডাঃ রাসেল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সার্জারি করে হাড়ের ভেতর থেকে এই সিস্টগুলোকে পুরোপুরি ছাড়িয়ে আনেন (Enucleation) এবং হাড়ের গর্তটি কেমিক্যাল দিয়ে পুড়িয়ে দেন। যেহেতু এই রোগীদের সারাজীবনে আরও অনেকবার সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই তিনি হাড় বাঁচিয়ে সার্জারি করেন যাতে চোয়ালটি ফাঁপা ও ভঙ্গুর না হয়ে যায়।
জ-ওস্টিওমা ও অতিরিক্ত দাঁত তোলা (গার্ডনার সিনড্রোম)
গার্ডনার সিনড্রোমের ফলে চোয়ালের হাড়ে এবং মাথার খুলিতে শক্ত হাড়ের টিউমার (ওস্টিওমা) তৈরি হয় এবং প্রচুর অতিরিক্ত দাঁত হাড়ের ভেতর আটকে থাকে। ডাঃ রাসেল থ্রি-ডি (CBCT) স্ক্যানের সাহায্যে এই শক্ত টিউমার ও আটকে থাকা দাঁতগুলোর ম্যাপ তৈরি করেন। যেসব টিউমার মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে বা চিবানোতে সমস্যা করে, তিনি অত্যন্ত নিখুঁত সার্জারির মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করেন।
অ্যাট্রমাটিক সার্জারি ও TMJ স্ট্যাবিলাইজেশন (এহলারস-ডানলস সিনড্রোম)
এহলারস-ডানলস (EDS) রোগীদের কোলাজেন টিস্যু ত্রুটিপূর্ণ থাকে। এর ফলে তাদের মাড়ি খুব দ্রুত ছিঁড়ে যায়, ঘা শুকাতে অনেক দেরি হয় এবং সাধারণ অবশ করার ইনজেকশন ঠিকমতো কাজ করে না। এছাড়া ডেন্টিস্টের কাছে মুখ বড় করে খুললেই তাদের চোয়ালের জয়েন্ট (TMJ) ছুটে গিয়ে আটকে যেতে পারে। ডাঃ রাসেল এই রোগীদের জন্য বিশেষ অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার করেন এবং সার্জারির সময় চোয়ালকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বিশেষ 'বাইট ব্লক' ব্যবহার করেন, যাতে কোনোভাবেই চোয়াল ছুটে না যায়।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
গোরলিন-গোল্টজ সিনড্রোম (Gorlin-Goltz Syndrome)
এটি একটি অত্যন্ত বিরল জেনেটিক রোগ। ডেন্টাল দিক থেকে এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, খুব অল্প বয়স থেকেই রোগীর চোয়ালে একাধিক আক্রমণাত্মক সিস্ট (OKC) তৈরি হতে থাকে। এই সিস্টগুলো খুব দ্রুত হাড় নষ্ট করে দেয়, দাঁতকে জায়গা থেকে সরিয়ে দেয় এবং মুখ ফুলিয়ে দেয়। এই রোগীদের স্কিন ক্যানসার এবং পাঁজরের হাড়ের ত্রুটিও থাকে, তাই ডেন্টাল সার্জনের পাশাপাশি চর্মরোগ ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞের সমন্বিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
গার্ডনার সিনড্রোম (Gardner Syndrome)
এটি একটি বিরল জেনেটিক রোগ। যদিও এই রোগের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো পেটের নাড়িতে হাজার হাজার পলিপ হওয়া (যা থেকে পরে কোলন ক্যানসার হয়), কিন্তু এই রোগের প্রথম লক্ষণগুলো সাধারণত একজন ডেন্টাল সার্জনই দেখতে পান। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোয়ালের হাড়ে একাধিক শক্ত টিউমার (ওস্টিওমা) এবং হাড়ের ভেতর আটকে থাকা অতিরিক্ত দাঁত। এই লক্ষণগুলো দেখে ডাঃ রাসেল রোগীকে দ্রুত পেটের ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টের কাছে পাঠান।
পিউটজ-জেঘারস সিনড্রোম (Peutz-Jeghers Syndrome)
এটি একটি জন্মগত রোগ, যার প্রধান লক্ষণ হলো পরিপাকতন্ত্রে পলিপ হওয়া এবং ঠোঁট, গালের ভেতর ও চোখের আশপাশে গাঢ় বাদামি বা কালচে তিলের মতো দাগ (Macules) দেখা যাওয়া। মুখের এই দাগগুলো নিজে থেকে কোনো সমস্যা বা ক্যানসার তৈরি করে না, তাই এদের কোনো ডেন্টাল চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। কিন্তু একজন দক্ষ ডেন্টাল সার্জন যখন এই দাগগুলো চিনতে পারেন, তখন তিনি রোগীকে পেটের পলিপ চেক করার জন্য সঠিক চিকিৎসকের কাছে পাঠিয়ে রোগীর জীবন বাঁচাতে পারেন।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
ডাঃ ফররুখ উদ্দীন রাসেল তার দীর্ঘ ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞা দিয়ে রুট ক্যানেল থেরাপির মাধ্যমে দাঁত বাঁচানো এবং ওরাল সার্জারির মাধ্যমে চোয়ালের রোগ নিরাময়ের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় সাধন করেন। তার লক্ষ্য থাকে মুখের লক্ষণ দেখে শরীরের ভেতরের বড় কোনো জেনেটিক রোগ শনাক্ত করা (যেমন গার্ডনার বা পিউটজ-জেঘারস), দুর্বল টিস্যুর রোগীদের জন্য একটি শতভাগ নিরাপদ ও ব্যথামুক্ত সার্জিক্যাল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জেনেটিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী যত্ন প্রদান করা।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি এহলারস-ডানলস (EDS) রোগীর মুখ খোলার পর চোয়াল ছুটে গিয়ে আটকে যায় এবং আর বন্ধ না হয় (TMJ dislocation), চোয়ালের সিস্ট থাকা কোনো রোগীর হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা ও জ্বরসহ গাল দ্রুত ফুলে যায় (সিস্টে মারাত্মক ইনফেকশন), অথবা দুর্বল টিস্যুর কোনো রোগীর দাঁত তোলার পর কোনোভাবেই রক্ত পড়া বন্ধ না হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
চিফ কনসালটেন্ট, ওরাল ও ডেন্টাল সার্জন
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইন্ড (PGT), ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা যেকোনো দাঁত বা চোয়ালের এক্স-রে (OPG), সিবিসিটি (CBCT) স্ক্যান এবং মুখের ঘা বা টিউমারের বায়োপসি বা জেনেটিক রিপোর্ট থাকলে সাথে আনুন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন, বিশেষ করে ডেন্টিস্টের কাছে লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া (অবশ করার ইনজেকশন) ঠিকমতো কাজ না করার কোনো পূর্ব ইতিহাস থাকলে তা চিকিৎসককে অবশ্যই জানাবেন (যা EDS রোগীদের ক্ষেত্রে খুব সাধারণ)।
হা করে খেতে গেলে চোয়ালে কটকট শব্দ হয় কি না বা ব্যথা করে কি না, তা ডায়রিতে লিখে আনলে চিকিৎসকের বুঝতে সুবিধা হয়।
সন্দেহভাজন জেনেটিক সিনড্রোমের রোগীদের ক্ষেত্রে, আপনার বিস্তারিত বংশগত ইতিহাস (পরিবারের অন্য কারও এমন দাগ বা টিউমার আছে কি না) চিকিৎসককে সঠিকভাবে জানাবেন।
Last Modified: October 29, 2026