এমবিবিএস, ডিএ (অ্যানেস্থেসিওলজি)
কার্ডিয়াক অ্যানেস্থেসিওলজি বিশেষজ্ঞ
🎯 টাইপ এ অ্যাওর্টিক, অ্যাকিউট অ্যাওর্টিক, সিভিয়ার মাইট্রাল এবং পোস্ট-ইনফার্কশন ভেন্ট্রিকুলার সমস্যা
প্রোফাইল দেখুন →অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট
এমবিবিএস, এমসিপিএস (অ্যানেস্থেসিওলজি), ডিএ (বিএসএমএমইউ)
পেইন অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ
🎯 যেসব রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ: ম্যালিগন্যান্ট হাইপারথার্মিয়া, ডিফিকাল্ট এয়ারওয়ে (শ্বাসপথের জটিলতা), ফিওক্রোমোসাইটোমা পেরিঅপারেটিভ, অবস্টেট্রিক অ্যামনিওটিক জটিলতা, কার্ডিওপালমোনারি বাইপাস
🎓 কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগ)
🏛️ শহীদ শেখ আবু-নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল
কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগ) — শহীদ শেখ আবু-নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল
ডাঃ মোঃ বেলাল উদ্দিন খুলনা শহরের সেরা অ্যানেসথেসিওলজিস্ট (অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ) এবং পেইন স্পেশালিস্ট (ব্যথা নিরাময় বিশেষজ্ঞ) হিসেবে দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার সাথে অত্যন্ত জটিল সার্জারিতে রোগীকে অজ্ঞান করা ও জীবন রক্ষাকারী নিবিড় পরিচর্যা সেবা প্রদান করছেন। খুলনায় সেরা অ্যানেসথেসিয়া ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে সার্জন ও রোগীরা তার কাছে ম্যালিগন্যান্ট হাইপারথার্মিয়া, ডিফিকাল্ট এয়ারওয়ে (জটিল শ্বাসনালী ব্যবস্থাপনা) এবং কার্ডিওপালমোনারি বাইপাসের মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিশ্বস্ত সমাধান পেয়ে থাকেন। ফিওক্রোমোসাইটোমা টিউমারের অপারেশনকালীন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, অ্যামনিওটিক ফ্লুইড এমবোলিজম (প্রসূতিদের চরম ইমার্জেন্সি) এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা নিরাময়ে তিনি অত্যন্ত দক্ষ। এমসিপিএস (MCPS) এবং ডিএ (DA) ডিগ্রিধারী এই চিকিৎসক তার ১৬ বছরের অভিজ্ঞতালব্ধ প্রজ্ঞার মাধ্যমে বড় সার্জারিতে রোগীর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং ক্যানসার বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের ব্যথামুক্ত জীবন উপহার দেন।
🏥 Doctors Point Specialized Hospital, Khulna · Private Hospital
📍 ৪৯, কেডিএ অ্যাভিনিউ, খুলনা
🕒 Visiting hours: সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা (শুক্রবার বন্ধ)
💳 Consultation fee: ৳800
ডাঃ মোঃ বেলাল উদ্দিন খুলনার শহীদ শেখ আবু-নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের একজন প্রখ্যাত কনসালটেন্ট, যার অ্যানেসথেসিয়া, ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং ব্যথা নিরাময়ে ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ম্যালিগন্যান্ট হাইপারথার্মিয়া, ডিফিকাল্ট এয়ারওয়ে, ফিওক্রোমোসাইটোমার মতো জটিল সার্জারি এবং গর্ভবতী মায়েদের অ্যামনিওটিক ফ্লুইড এমবোলিজমের মতো অত্যন্ত মারাত্মক ও বিরল ইমার্জেন্সির একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। যেকোনো বড় সার্জারিতে রোগীকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্তভাবে অজ্ঞান করা এবং ক্যানসারের মতো রোগের শেষ পর্যায়ে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা ব্যথামুক্ত রাখার ক্ষেত্রে তিনি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
ডাঃ মোঃ বেলাল উদ্দিন সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। সার্জারির সময় রোগীর জীবন রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা নিরাময়ে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে তিনি দেশের শীর্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU) থেকে অ্যানেসথেসিওলজিতে ডিপ্লোমা (DA) এবং বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস থেকে এমসিপিএস (MCPS in Anesthesiology) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এই উচ্চতর ডিগ্রি তাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের অজ্ঞান করা, লাইফ সাপোর্ট মেশিন নিয়ন্ত্রণ করা এবং ক্রনিক ব্যথার জন্য নার্ভ ব্লক ইনজেকশন দেওয়ার অসামান্য দক্ষতা প্রদান করেছে। খুলনায় সেরা অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও পেইন স্পেশালিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা আবু-নাসের হাসপাতালের এই বিশেষজ্ঞের ১৬ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে ম্যালিগন্যান্ট হাইপারথার্মিয়ায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা, ডিফিকাল্ট এয়ারওয়েতে ফাইবারঅপ্টিক ইনটিউবেশন, ফিওক্রোমোসাইটোমা সার্জারিতে নিখুঁত ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ, কার্ডিওপালমোনারি বাইপাস ব্যবস্থাপনা এবং ক্যানসার রোগীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার। তিনি রোগীর শারীরিক অবস্থা, রক্তচাপ এবং ব্যথার তীব্রতা নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করে অত্যন্ত নিরাপদ সার্জিক্যাল ও পেইন ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা তৈরি করেন।
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | ডাঃ মোঃ বেলাল উদ্দিন |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | অ্যানেসথেসিওলজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | পেইন ম্যানেজমেন্ট (ব্যথা নিরাময়) ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার |
| পদবী | কনসালটেন্ট, অ্যানেসথেসিওলজি |
| কর্মস্থল | শহীদ শেখ আবু-নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ১৬+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি
এমসিপিএস (MCPS) – মেম্বার অব দ্য বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (অ্যানেসথেসিওলজি)
ডিএ (DA) – ডিপ্লোমা ইন অ্যানেসথেসিওলজি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU)
পদবী: কনসালটেন্ট, অ্যানেসথেসিওলজি
কর্মস্থল: অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগ, শহীদ শেখ আবু-নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, বয়রা, খুলনা
ম্যালিগন্যান্ট হাইপারথার্মিয়ায় (অজ্ঞান অবস্থায় পেশীর তীব্র খিঁচুনি ও জ্বর) ইমার্জেন্সি ড্যানট্রোলিন চিকিৎসা।
ডিফিকাল্ট এয়ারওয়েতে (শ্বাসনালীতে টিউব ঢোকাতে সমস্যা) ফাইবারঅপ্টিক ক্যামেরার সাহায্যে ইনটিউবেশন।
ফিওক্রোমোসাইটোমা সার্জারিতে টিউমার ধরার সময় রোগীর তীব্র ব্লাড প্রেসার নিবিড়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
অ্যামনিওটিক ফ্লুইড এমবোলিজমে (প্রসূতির ইমার্জেন্সি) তাৎক্ষণিক লাইফ সাপোর্ট ও রক্ত সঞ্চালন।
কার্ডিওপালমোনারি বাইপাসে (ওপেন-হার্ট সার্জারি) রোগীর ব্রেইন ও রক্ত চলাচল মেশিনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ।
দীর্ঘস্থায়ী ক্যানসারের ব্যথায় টার্গেটেড এপিডুরাল ব্লক ও নার্ভ ব্লকের মাধ্যমে ব্যথা কমানো।
নিউরোপ্যাথিক ব্যথায় (যেমন- ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া বা সায়াটিকা) বিশেষ ইনজেকশন থেরাপি।
টার্মিনাল ইলনেস বা প্যালিয়েটিভ কেয়ারে (ক্যানসারের শেষ পর্যায়) রোগীর কষ্ট লাঘব ও সহানুভূতিশীল চিকিৎসা।
সার্জারির পর তীব্র ব্যথায় মাল্টিমোডাল অ্যানালজেসিয়া ও বিশেষ পেইন পাম্প ব্যবহার।
সেপসিস বা সেপটিক শকে আইসিইউ (ICU)-তে নিবিড় পরিচর্যা ও ব্লাড প্রেসার ধরে রাখার চিকিৎসা।
অ্যাডভান্সড সার্জিক্যাল অ্যানেসথেসিয়া: ব্রেইন, হার্ট বা পেটের বড় ও জটিল সার্জারিতে হাই-রিস্ক বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের সম্পূর্ণ নিরাপদে অজ্ঞান করা এবং সার্জারি চলাকালীন তাদের রক্তচাপ ও হার্টবিট ঠিক রাখা।
পেইন অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ মেডিসিন: দীর্ঘমেয়াদী কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা বা ক্যানসারের ব্যথায় সাধারণ ওষুধের বদলে সরাসরি নার্ভের গোড়ায় বিশেষ ইনজেকশন (নার্ভ ব্লক) দিয়ে ব্যথা চিরতরে দূর করা।
ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও রিসাসিটেশন: অপারেশন থিয়েটারে বা আইসিইউতে হঠাৎ রোগীর হার্ট বন্ধ হয়ে গেলে বা ভয়াবহ অ্যালার্জি হলে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক ওষুধ দিয়ে রোগীর জীবন ফিরিয়ে আনা।
সার্জারির সময় অজ্ঞান রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য গলার ভেতর একটি শ্বাস-প্রশ্বাসের টিউব (Intubation) ঢোকাতে হয়। কিন্তু কিছু রোগীর ঘাড় খুব ছোট হলে, অতিরিক্ত ওজন থাকলে বা গলায় টিউমার থাকলে এই টিউবটি সাধারণ উপায়ে ঢোকানো যায় না। একে "ডিফিকাল্ট এয়ারওয়ে" বলে। ডাঃ বেলাল এ ধরনের চরম ইমার্জেন্সিতে ফাইবারঅপ্টিক ব্রঙ্কোস্কোপি বা ভিডিও ল্যারিঙ্গোস্কোপি (গলায় ক্যামেরা ঢুকিয়ে) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নিরাপদে টিউবটি সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেন।
ফিওক্রোমোসাইটোমা হলো কিডনির ওপরের একটি টিউমার যা প্রচুর পরিমাণে অ্যাড্রেনালিন হরমোন তৈরি করে। সার্জন যখন অপারেশন করে টিউমারটি কাটতে যান, তখন রোগীর রক্তচাপ সেকেন্ডের মধ্যে এত ভয়াবহভাবে বেড়ে যেতে পারে যে রোগীর স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। ডাঃ বেলাল এই সার্জারির সময় অত্যন্ত কড়া নজরদারি রাখেন এবং বিশেষ আইভি (IV) ইনজেকশনের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে এই ভয়াবহ ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখেন।
দীর্ঘমেয়াদী তীব্র ব্যথা বা ক্যানসারের শেষ পর্যায়ের ব্যথায় মুখে খাওয়ার ওষুধ কাজ করে না। ডাঃ বেলাল এক্স-রে বা আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনের সাহায্যে দেখে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সরাসরি সেই স্নায়ুর গোড়ায় (যেমন মেরুদণ্ডের এপিডুরাল স্পেসে) লোকাল অ্যানেস্থেটিক এবং স্টেরয়েড ইনজেকশন পুশ করেন, যেখান থেকে ব্যথা তৈরি হচ্ছে। প্যালিয়েটিভ কেয়ারের মাধ্যমে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর জীবনের শেষ দিনগুলোকে ব্যথামুক্ত ও শান্তিময় করার ব্যবস্থা করেন।
এটি অজ্ঞান করার কিছু গ্যাস এবং পেশী শিথিল করার ওষুধের কারণে সৃষ্ট একটি অত্যন্ত বিরল, জিনগত ও জীবনঘাতী অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া। ওষুধ দেওয়ার সাথে সাথে রোগীর শরীরের সব পেশী তীব্রভাবে সংকুচিত হয়ে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা রকেটের গতিতে বেড়ে ১০৯° ফারেনহাইট পর্যন্ত চলে যায়। মুহূর্তের মধ্যে রোগীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। এটি একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্টের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। ডাঃ বেলাল দ্রুত বরফ দিয়ে শরীর ঠান্ডা করেন এবং 'ড্যানট্রোলিন' (Dantrolene) নামক বিশেষ অ্যান্টিডোট দিয়ে রোগীর জীবন রক্ষা করেন।
এটি প্রসূতি বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ভয়াবহ, অকল্পনীয় এবং দ্রুত প্রাণঘাতী ইমার্জেন্সি। প্রসবের সময় যদি শিশুর চারপাশের পানি (অ্যামনিওটিক ফ্লুইড) ভুল করে মায়ের রক্তনালীতে ঢুকে ফুসফুসে চলে যায়, তবে মায়ের শরীরে এক ভয়াবহ অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন শুরু হয়। মায়ের হার্ট ও ফুসফুস সাথে সাথে কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং সারা শরীর থেকে মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রোগীকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিক লাইফ সাপোর্ট ও প্রচুর রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
ওপেন-হার্ট সার্জারির সময় রোগীর হার্ট সম্পূর্ণ থামিয়ে দেওয়া হয়। এই সময় ডাঃ বেলালের মতো একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্টকে হার্ট-লাং বা বাইপাস মেশিন নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিমভাবে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্ত চলাচল চালু রাখতে হয়। ব্রেইনকে বাঁচাতে তিনি অনেক সময় রোগীর শরীরের তাপমাত্রা মারাত্মক কমিয়ে আনেন এবং সার্জারি শেষে অত্যন্ত সাবধানে রোগীর নিজের হার্টকে আবার চালু (Wean off) করেন।
ডাঃ মোঃ বেলাল উদ্দিন তার ১৬ বছরের দীর্ঘ ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞা দিয়ে অপারেশন থিয়েটার এবং আইসিইউ-তে বিন্দুমাত্র ভুলের সুযোগ না থাকা অবস্থায় চমৎকার সাফল্য নিশ্চিত করেন। তার লক্ষ্য থাকে সার্জারির আগেই রোগীর ঝুঁকিগুলো নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করা, সার্জারির সময় যেকোনো হার্ট বা প্রেসারের ওঠানামা সেকেন্ডের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা, এবং ক্যানসার বা তীব্র ব্যথায় ভোগা রোগীদের জন্য অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও বিজ্ঞানসম্মত উপশমমূলক (Palliative) চিকিৎসা প্রদান করা।
জরুরি সতর্কতা: যদি অজ্ঞান করা অবস্থায় কোনো রোগীর হঠাৎ পেশী শক্ত হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড দ্রুত জ্বর আসতে থাকে (ম্যালিগন্যান্ট হাইপারথার্মিয়া), প্রসবকালীন সময়ে কোনো মা হঠাৎ শ্বাসকষ্টে নীল হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন (অ্যামনিওটিক ফ্লুইড এমবোলিজম), অথবা জানা টিউমার (যেমন ফিওক্রোমোসাইটোমা) থাকা কোনো রোগীর হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও বুক ধড়ফড় শুরু হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ সাপোর্ট ও ইমার্জেন্সি চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
সদস্য, বাংলাদেশ সোসাইটি অফ অ্যানেসথেসিওলজিস্টস (BSA)
কনসালটেন্ট, অ্যানেসথেসিওলজি, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার
সার্জারির জন্য অত্যন্ত জরুরি: হাসপাতাল থেকে দেওয়া "NPO" (খালি পেট) নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলবেন। সার্জারির আগে নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা কোনোভাবেই কোনো খাবার বা পানি খাওয়া যাবে না।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন, বিশেষ করে ব্লাড প্রেসারের ওষুধ, রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা কোনো হারবাল ওষুধ।
অতীতে সার্জারির সময় অজ্ঞান করতে গিয়ে আপনার বা আপনার পরিবারের কারও যদি কোনো বড় সমস্যা (যেমন প্রচণ্ড জ্বর আসা) হয়ে থাকে, তবে তা অ্যানেসথেসিওলজিস্টকে অবশ্যই আগে থেকে জানাবেন।
ব্যথা নিরাময় বা পেইন ম্যানেজমেন্টের জন্য এলে, আক্রান্ত স্থানের আগের সব এমআরআই (MRI), সিটি স্ক্যান এবং এক্স-রে রিপোর্ট সাথে আনবেন।
Last Modified: October 29, 2026
জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া বা সম্পূর্ণ অজ্ঞান করার পদ্ধতিতে রোগীর পুরো ব্রেইন ঘুমিয়ে পড়ে, কোনো জ্ঞান থাকে না এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য গলায় টিউব দিতে হয়। অন্যদিকে রিজিওনাল অ্যানেসথেসিয়া (যেমন স্পাইনাল বা এপিডুরাল ব্লক) পদ্ধতিতে মেরুদণ্ডে ইনজেকশন দিয়ে শরীরের একটি নির্দিষ্ট বড় অংশ (যেমন কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত) অবশ করা হয়। এতে রোগী জেগে থাকেন, নিজে নিজে শ্বাস নিতে পারেন, কিন্তু সার্জারির কোনো ব্যথা পান না।
যখন আপনাকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান (General anesthesia) করা হয়, তখন আপনার শরীরের প্রাকৃতিক রিফ্লেক্সগুলো (যেমন কাশি দেওয়া বা বমি আটকানো) পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। যদি আপনার পেটে খাবার বা পানি থাকে, তবে তা সহজেই উঠে এসে গলার মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে (Aspiration)। পেটের অ্যাসিড অত্যন্ত ক্ষতিকর হওয়ায় এটি ফুসফুসকে পুড়িয়ে দেয়, যা দ্রুত রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
প্যালিয়েটিভ কেয়ার হলো ক্যানসারের মতো অত্যন্ত দুরারোগ্য বা শেষ পর্যায়ের রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা। এই রোগের যেহেতু কোনো নিরাময় বা 'কিউর' নেই, তাই প্যালিয়েটিভ কেয়ারের মূল লক্ষ্য হলো রোগীর প্রচণ্ড ব্যথা, কষ্ট এবং মানসিক চাপকে কমিয়ে আনা। ডাঃ বেলালের মতো বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন যেন রোগীর জীবনের শেষ দিনগুলো যথাসম্ভব ব্যথামুক্ত এবং মর্যাদাপূর্ণ হয়।
সাধারণত একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট একটি যন্ত্র দিয়ে জিহ্বা সরিয়ে সহজেই গলার শ্বাসনালী দেখতে পান এবং টিউব ঢুকিয়ে দেন। কিন্তু রোগীর ঘাড় খুব ছোট হলে, অতিরিক্ত মোটা হলে বা গলায় টিউমার থাকলে শ্বাসনালীটি কোনোভাবেই দেখা যায় না। এটি একটি মারাত্মক ইমার্জেন্সি, কারণ কয়েক মিনিটের মধ্যে ফুসফুসে টিউবটি না ঢোকাতে পারলে অক্সিজেনের অভাবে রোগীর ব্রেইন ডেড হয়ে যায় বা মৃত্যু ঘটে। একেই 'ডিফিকাল্ট এয়ারওয়ে' বলে।
এটি সাধারণত কিডনির ওপরে থাকা অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির একটি বিরল টিউমার। এটি অনেকটা কারখানার মতো প্রচুর পরিমাণে 'অ্যাড্রেনালিন' হরমোন তৈরি করে, যার কারণে রোগীর ব্লাড প্রেসার হঠাৎ করেই ভয়ংকরভাবে বেড়ে যায়। সার্জারি করে এটি ফেলে দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ টিউমারটিতে হাত লাগার সাথে সাথেই রোগীর স্ট্রোক হওয়ার মতো ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। এই সময় অ্যানেসথেসিওলজিস্টকে জাদুর মতো দ্রুত ওষুধ দিয়ে প্রেসার আটকাতে হয়।
এটি একটি জেনেটিক বা বংশগত রোগ। যদি অতীতে সার্জারি করার সময় আপনার বা রক্তের সম্পর্কের কারও হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর বা পেশী শক্ত হয়ে যাওয়ার ইতিহাস থাকে, তবে আপনার এই জিন থাকতে পারে। কিন্তু যাদের এমন কোনো ইতিহাস নেই, তাদের ক্ষেত্রে প্রথমবার অজ্ঞান করার ওষুধ দেওয়ার পরেই হঠাৎ করে এই জীবনঘাতী রিয়্যাকশন শুরু হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যানেসথেসিওলজিস্টকে সামলাতে হয়।
একজন পেইন স্পেশালিস্ট শুধু ব্যথার কড়া ওষুধ লিখে দেন না, তিনি ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ডাঃ বেলাল এক্স-রে বা আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনের সাহায্যে দেখে ঠিক যে রগ বা স্নায়ুটি ব্যথার সৃষ্টি করছে, তার একেবারে গোড়ায় একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুঁই দিয়ে বিশেষ স্টেরয়েড ও অবশ করার ওষুধ (যেমন এপিডুরাল ইনজেকশন) পুশ করেন। এতে ব্যথার সিগন্যাল যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং পেশীর প্রদাহ বা ফোলা কমে যায়।
এটি প্রসবকালীন সময়ের একটি বিরল কিন্তু ভয়ংকর প্রাণঘাতী জটিলতা। শিশুর চারপাশের পানি (অ্যামনিওটিক ফ্লুইড) যদি কোনোভাবে মায়ের রক্তনালীতে ঢুকে ফুসফুসে চলে যায়, তবে মায়ের শরীরে একটি মারাত্মক অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে মায়ের হার্ট বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। অ্যানেসথেসিওলজিস্টকে তখন অবিলম্বে সিপিআর (CPR) দিয়ে এবং প্রচুর রক্ত দিয়ে মায়ের জীবন বাঁচাতে হয়।
এখনো কোনো মতামত নেই — প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।