🚨 জাতীয় জরুরি সেবা: 999  |  স্বাস্থ্য সেবা: 16263 ✉️ info@specialistdoctorkhulna.com
ডপ

ডাঃ শারূপ চন্দ্র পোদ্দার

হেমাটোলজিস্ট

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (হেমাটোলজি), এমআরসিপি (ইউএসএ)
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও হেমাটোলজিস্ট (রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ)

🎯 যেসব রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ: বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজর, সিকেল সেল, পাইরুভেট কাইনেজ, গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ডিহাইড্রোজেনেজ, অটোইমিউন হিমোলাইটিক (রোগসমূহ)

🎓 কনসালট্যান্ট (হেমাটোলজি মেডিসিন বিভাগ)

🏛️ খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা

💼 ১৪+ বছরের অভিজ্ঞতা 📍 Khulna
New (0 reviews)
—বিএমডিসি রেজি. নং
1চেম্বার
Newরেটিং (০)
1জেলা

👨‍⚕️ পরিচিতি

কনসালট্যান্ট (হেমাটোলজি মেডিসিন বিভাগ) — খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা

ডাঃ স্বরূপ চন্দ্র পোদ্দার খুলনা শহরের সেরা হেমাটোলজিস্ট (রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ) এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার সাথে আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। খুলনায় সেরা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে রোগীরা তার কাছে বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজর, সিকল সেল অ্যানিমিয়া এবং অটোইমিউন হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (AIHA)-এর মতো অত্যন্ত মারাত্মক জন্মগত ও ইমিউনোলজিক্যাল রক্তরোগের বিশ্বস্ত সমাধান পেয়ে থাকেন। পাইরুভেট কাইনেজ ডেফিসিয়েন্সি, জি৬পিডি (G6PD) ডেফিসিয়েন্সি এবং জটিল ইন্টারনাল মেডিসিনের চিকিৎসায় তিনি অত্যন্ত দক্ষ। মেডিসিন (FCPS) এবং হেমাটোলজিতে (MD) সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী এই চিকিৎসক তার নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং ১৪ বছরের অভিজ্ঞতালব্ধ চিকিৎসার মাধ্যমে রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়া রোধ করেন এবং রোগীদের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করেন।

🏥 চেম্বার ও বসার সময় (১)

চেম্বার ১ 📍 Khulna

🏥 Community Care Hospital & Diagnostic · Private Hospital

📍 ১৯, কেডিএ এভিনিউ, মহসেন টাওয়ার, তেঁতুলতলা মোড়, খুলনা

🕒 Visiting hours: দুপুর ২:২০টা থেকে রাত ৮:৩০টা (বন্ধ: শুক্রবার)

💳 Consultation fee: ৳800

📖 ডাক্তার সম্পর্কে আরও

ডাঃ স্বরূপ চন্দ্র পোদ্দার – খুলনার সেরা হেমাটোলজিস্ট ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

ডাঃ স্বরূপ চন্দ্র পোদ্দার খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের একজন প্রখ্যাত কনসালটেন্ট, যার রক্তরোগ ও মেডিসিন চিকিৎসায় ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজর, সিকল সেল ডিজিজ, পাইরুভেট কাইনেজ ডেফিসিয়েন্সি, G6PD ডেফিসিয়েন্সি এবং অটোইমিউন হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। রক্তকণিকা দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাওয়া (হেমোলাইসিস) এবং অস্থিমজ্জার যেকোনো জটিল অবস্থায় তিনি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।

প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি 

ডাঃ স্বরূপ চন্দ্র পোদ্দার সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পুরো শরীরের সিস্টেম এবং রক্তরোগ চিকিৎসায় তার গভীর প্রতিশ্রুতির প্রমাণস্বরূপ তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগদান করেন এবং ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএস (FCPS in Medicine) অর্জন করেন। এরপর তিনি হেমাটোলজিতে দেশের সর্বোচ্চ ক্লিনিক্যাল ডিগ্রি ডক্টর অব মেডিসিন (MD in Hematology) সম্পন্ন করেন এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ MRCP (USA) স্বীকৃতি লাভ করেন। মেডিসিন এবং হেমাটোলজির এই অসামান্য দ্বৈত ডিগ্রি প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু রক্তরোগেরই নয়, বরং রক্তরোগের কারণে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের (যেমন হার্ট ও লিভার) যে ক্ষতি হয় তা সামলাতেও সমানভাবে পারদর্শী। খুলনায় সেরা হেমাটোলজিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সরকারি হাসপাতালের ১৪ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।

তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজরের জন্য নিরাপদ রক্ত প্রদান ও আয়রন চিলেশন (Iron chelation), সিকল সেলের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ ও হাইড্রোক্সিউরিয়া থেরাপি, G6PD ও পাইরুভেট কাইনেজের জন্য বিশেষ মেটাবলিক ব্যবস্থাপনা এবং AIHA এর জন্য কড়া ইমিউনোসাপ্রেসিভ চিকিৎসা। তিনি হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস, কুম্বস (Coombs) টেস্ট এবং পেরিফেরাল ব্লাড স্মিয়ারের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত ও নির্ভুল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।

এক নজরে প্রোফাইল

প্রোফাইল তথ্যবিবরণ
পূর্ণ নামডাঃ স্বরূপ চন্দ্র পোদ্দার
প্রধান বিশেষজ্ঞতাহেমাটোলজি (রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ)
উপ-বিশেষজ্ঞতাইন্টারনাল মেডিসিন ও হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া
পদবীকনসালটেন্ট, হেমাটোলজি
কর্মস্থলখুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা
মোট অভিজ্ঞতা১৪+ বছর
অবস্থানখুলনা, বাংলাদেশ

যোগ্যতা ও শিক্ষা

  • এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি

  • বিসিএস (স্বাস্থ্য) – বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য ক্যাডার)

  • এফসিপিএস (মেডিসিন) – ফেলো অব দ্য বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস

  • এমডি (হেমাটোলজি) – ডক্টর অব মেডিসিন (হেমাটোলজি)

  • এমআরসিপি (USA) – মেম্বার অব দ্য রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস

পদবী ও কর্মস্থল

  • পদবী: কনসালটেন্ট, হেমাটোলজি

  • কর্মস্থল: হেমাটোলজি বিভাগ, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা

যে সকল রক্তরোগের চিকিৎসা করা হয়

  • বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজরে আজীবন নিরাপদ রক্ত প্রদান ও শরীরের অতিরিক্ত আয়রন কমানোর চিকিৎসা।

  • সিকল সেল ডিজিজে তীব্র ব্যথার (Vaso-occlusive crisis) চিকিৎসা ও হাইড্রোক্সিউরিয়া থেরাপি।

  • অটোইমিউন হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়ায় (AIHA) উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড ও ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট চিকিৎসা।

  • জি৬পিডি (G6PD) ডেফিসিয়েন্সিতে রক্ত ভেঙে যাওয়ার ইমার্জেন্সি চিকিৎসা ও ট্রিগার এড়িয়ে চলার পরামর্শ।

  • পাইরুভেট কাইনেজ ডেফিসিয়েন্সিতে রক্তশূন্যতার বিশেষ যত্ন এবং প্রয়োজনে প্লীহা (Spleen) অপারেশনের পরামর্শ।

  • অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় (রক্ত তৈরি বন্ধ হওয়া) ইমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপি।

  • অ্যাকিউট লিউকেমিয়ায় (ব্লাড ক্যানসার - AML/ALL) কড়া কেমোথেরাপি ও মনিটরিং।

  • ক্রনিক লিউকেমিয়ায় (CML/CLL) টার্গেটেড টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর।

  • লিম্ফোমায় (লসিকা গ্রন্থির ক্যানসার) সিস্টেমিক ইমিউনোকেমোথেরাপি।

  • মাল্টিপল মায়েলোমায় (অস্থিমজ্জার ক্যানসার) বিশেষ ওষুধ ও হাড়ের যত্ন।

  • ইমিউন থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ায় (ITP) স্টেরয়েড বা টার্গেটেড বায়োলজিক্স চিকিৎসা।

  • হিমোফিলিয়ায় ফ্যাক্টর রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ও রক্তপাত বন্ধের চিকিৎসা।

  • ডিভিটি (DVT - রক্ত জমাট বাঁধা) রোগে রক্ত পাতলা করার উন্নত চিকিৎসা।

ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র

  • হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া ও হিমোগ্লোবিনোপ্যাথি: জন্মগত বা ইমিউন সিস্টেমের ত্রুটির কারণে যখন শরীরে রক্ত তৈরি হওয়ার চেয়ে ভেঙে যায় অনেক বেশি দ্রুত (যেমন থ্যালাসেমিয়া, সিকল সেল, AIHA), তার অত্যন্ত নিবিড় চিকিৎসা।

  • লোহিত রক্তকণিকার এনজাইম ঘাটতি: G6PD বা পাইরুভেট কাইনেজের মতো বিরল জন্মগত মেটাবলিক ত্রুটির নিখুঁত নির্ণয়, যা হঠাৎ করে রোগীর রক্তকণিকা ফাটিয়ে দিয়ে মারাত্মক রক্তশূন্যতা তৈরি করে।

  • হেমাটোলজিতে সিস্টেমিক মেডিসিন: এফসিপিএস (মেডিসিন) ডিগ্রির আলোকে দীর্ঘমেয়াদী রক্তরোগের কারণে লিভার বা হার্ট ফেইলিউরের মতো মারাত্মক শারীরিক জটিলতাগুলোর অত্যন্ত দক্ষ ব্যবস্থাপনা।

অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ

ক্রনিক ট্রান্সফিউশন ও আয়রন চিলেশন (Iron Chelation) থেরাপি

বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজর রোগীরা নিজেরা সুস্থ রক্ত তৈরি করতে পারে না, তাই বেঁচে থাকতে তাদের প্রতি কয়েক সপ্তাহ পরপর রক্ত নিতে হয়। কিন্তু বারবার রক্ত নেওয়ার ফলে শরীরে প্রচুর আয়রন জমে যায়, যা হার্ট ও লিভারকে ধ্বংস করে দেয়। ডাঃ পোদ্দার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে 'আয়রন চিলেশন থেরাপি' (বিশেষ বড়ি বা ইনজেকশন) পরিচালনা করেন, যা প্রস্রাব বা পায়খানার সাথে শরীরের এই বিষাক্ত আয়রন বের করে দিয়ে রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়।

অ্যাডভান্সড হেমোলাইসিস ও কুম্বস (Coombs) টেস্ট মূল্যায়ন

যখন কোনো রোগীর হঠাৎ মারাত্মক রক্তশূন্যতা ও জন্ডিস দেখা দেয়, তখন ডাঃ পোদ্দার বিশেষ ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেখেন শরীর তার নিজের রক্ত নিজে ধ্বংস করছে কি না। ডাইরেক্ট কুম্বস টেস্ট (Direct Coombs test) এবং রেটিকুলোসাইট কাউন্টের মাধ্যমে তিনি নিখুঁতভাবে পার্থক্য করেন যে রক্ত ভাঙার কারণটি ইমিউন সিস্টেমের আক্রমণ (AIHA) নাকি জন্মগত এনজাইমের অভাব (G6PD)।

AIHA এর জন্য সিস্টেমিক ইমিউনোসাপ্রেসিভ প্রটোকল

অটোইমিউন হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়ায় (AIHA) ইমিউন সিস্টেম পাগল হয়ে গিয়ে নিজের সুস্থ লোহিত রক্তকণিকাগুলোকে ধ্বংস করতে থাকে। ডাঃ পোদ্দার অবিলম্বে উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড দিয়ে ইমিউন সিস্টেমকে দমন করেন। সাধারণ ওষুধে কাজ না হলে তিনি রিটুক্সিমাব (Rituximab)-এর মতো আধুনিক বায়োলজিক ওষুধ ব্যবহার করেন বা সার্জনদের সাহায্যে প্লীহা (Spleen) ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা

বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজর (Beta-Thalassemia Major)

এটি একটি মারাত্মক জন্মগত বা জেনেটিক রক্তরোগ। এই শিশুরা জন্মের পর থেকেই শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না, ফলে চরম রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। প্রতি ৩-৪ সপ্তাহ পরপর আজীবন রক্ত না দিলে শিশুর হাড় বেঁকে যায়, পেট (প্লীহা ও লিভার) বিশাল বড় হয়ে যায় এবং শিশু খুব দ্রুত মৃত্যুবরণ করে। এই শিশুদের সারাজীবন একজন বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্টের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়।

সিকল সেল ডিজিজ (Sickle Cell Disease)

এটি একটি জেনেটিক রোগ যেখানে লোহিত রক্তকণিকাগুলো গোল হওয়ার বদলে কাস্তের (Sickle) মতো বাঁকা ও শক্ত হয়ে যায়। এই বাঁকা রক্তকণিকাগুলো ছোট রক্তনালীতে আটকে গিয়ে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে রোগীর হঠাৎ হঠাৎ হাড়ে ও বুকে অবর্ণনীয় তীব্র ব্যথা (Vaso-occlusive crisis) হয় এবং অঙ্গের ক্ষতি হয়। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা কমানো এবং 'হাইড্রোক্সিউরিয়া' ওষুধের মাধ্যমে রক্তকণিকাকে গোল রাখা।

জি৬পিডি ডেফিসিয়েন্সি (G6PD Deficiency)

এটি মানুষের সবচেয়ে সাধারণ এনজাইমের ঘাটতি। G6PD এনজাইমটি লোহিত রক্তকণিকাকে রক্ষা করে। এই জেনেটিক ত্রুটি থাকা রোগীরা সাধারণত ভালোই থাকেন, কিন্তু যখন তারা নির্দিষ্ট কিছু খাবার (যেমন ফাভা বিনস বা শিম জাতীয় বিচি) খান, বিশেষ কিছু ওষুধ (ম্যালেরিয়া বা কিছু অ্যান্টিবায়োটিক) নেন, বা তীব্র ইনফেকশনে ভোগেন, তখন তাদের রক্তকণিকাগুলো খুব দ্রুত ফেটে যেতে শুরু করে। ফলে হঠাৎ চরম রক্তশূন্যতা ও কালচে প্রস্রাব শুরু হয়।

ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি

ডাঃ স্বরূপ চন্দ্র পোদ্দার তার ১৪ বছরের দীর্ঘ ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞা দিয়ে মেডিসিনের (FCPS) গভীর জ্ঞানের সাথে হেমাটোলজির (MD) দক্ষতাকে চমৎকারভাবে সমন্বয় করেন। তিনি জন্মগত রক্তরোগ প্রতিরোধের জন্য জেনেটিক স্ক্রিনিংয়ের ওপর জোর দেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিরাপদে আজীবন রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থাপনা করেন এবং রক্ত ভেঙে যাওয়ার মতো (হেমোলাইটিক) ইমার্জেন্সি অবস্থায় দ্রুত জীবন রক্ষাকারী সিদ্ধান্ত নেন।

বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী

জরুরি সতর্কতা: যদি কোনো রোগীর হঠাৎ চরম ক্লান্তি আসে, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায় এবং প্রস্রাবের রঙ কোলা বা কালচে রঙের হয় (রক্ত ভেঙে যাওয়ার লক্ষণ), সিকল সেল রোগীর হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা, কাশি ও জ্বর আসে (অ্যাকিউট চেস্ট সিনড্রোম), অথবা মারাত্মক রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীর হঠাৎ শুয়ে থাকা অবস্থায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয় ও বুক ধড়ফড় করে (হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ), তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ

  • সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)

  • ফেলো, বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (FCPS)

  • মেম্বার, রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস (MRCP, USA credentials)

  • কনসালটেন্ট, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার

রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি

  • পূর্বের করা যেকোনো কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC), হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস, রেটিকুলোসাইট কাউন্ট, কুম্বস টেস্ট এবং লিভার/কিডনি টেস্টের রিপোর্ট সাথে আনুন।

  • থ্যালাসেমিয়া/রক্ত নেওয়া রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার রক্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ ডায়েরি বা লগবুক সাথে আনবেন (কবে রক্ত নিয়েছেন, কত ব্যাগ নিয়েছেন এবং রক্ত নেওয়ার পর কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না)।

  • বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন, বিশেষ করে আয়রন চিলেটর (যেমন Deferasirox) বা সম্প্রতি খাওয়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের নাম।

  • হঠাৎ কালচে প্রস্রাব হওয়া, হাড়ে তীব্র ব্যথা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির বিষয়গুলো ডায়রিতে লিখে আনলে চিকিৎসকের বুঝতে সুবিধা হয়।

Last Modified: October 28, 2026

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা

বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজর (Major) এবং মাইনর (Minor)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

যাদের থ্যালাসেমিয়া "মাইনর" (বা ট্রেইট) আছে, তারা শুধুমাত্র একটি ত্রুটিপূর্ণ জিন বহন করেন, তাদের কোনো বড় সমস্যা বা রক্তশূন্যতা থাকে না এবং কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না। কিন্তু থ্যালাসেমিয়া "মেজর" মানে হলো শিশুটি বাবা এবং মা—উভয়ের কাছ থেকেই ত্রুটিপূর্ণ জিন পেয়েছে, যার কারণে তার শরীরে রক্তই তৈরি হতে পারে না এবং বেঁচে থাকার জন্য তাকে জন্মের পর থেকেই প্রতি ৩-৪ সপ্তাহ পরপর আজীবন রক্ত নিতে হয়।

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য আয়রন চিলেশন (Iron Chelation) থেরাপি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

মানুষের শরীরে অতিরিক্ত আয়রন বের করে দেওয়ার কোনো প্রাকৃতিক ব্যবস্থা নেই। প্রতি ব্যাগ রক্তে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। বছরের পর বছর রক্ত নেওয়ার ফলে এই বিষাক্ত আয়রন হার্ট, লিভার এবং হরমোন গ্রন্থিতে জমা হয়। আয়রন চিলেশন (যেমন- Deferasirox) ওষুধগুলো এই জমে থাকা আয়রনকে প্রস্রাব বা পায়খানার মাধ্যমে বের করে দেয়। এই ওষুধ না খেলে অতিরিক্ত আয়রনের কারণে হার্ট ফেইলিউর হয়ে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত।

G6PD ডেফিসিয়েন্সি (G6PD Deficiency) রোগে রক্ত ভেঙে যাওয়ার কারণ বা 'ট্রিগার'গুলো কী কী?

G6PD এনজাইমের ঘাটতি থাকা রোগীরা সাধারণত স্বাভাবিকই থাকেন, যতক্ষণ না তারা কোনো 'ট্রিগার' বা প্রভাবকের সংস্পর্শে আসেন। সাধারণ ট্রিগারগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু খাবার (যেমন শিম জাতীয় বিচি বা Fava beans), কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ (যেমন ম্যালেরিয়ার ওষুধ, সালফা অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যাসপিরিন), এবং তীব্র ব্যাকটেরিয়াল বা ভাইরাল ইনফেকশন। এগুলো শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে যা রক্তকণিকাকে দ্রুত ফাটিয়ে দেয়।

একজন হেমাটোলজিস্টের মেডিসিনে এফসিপিএস (FCPS) ডিগ্রি থাকার সুবিধা কী?

রক্তরোগ শুধু রক্তেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি পুরো শরীরের সিস্টেমকে ধ্বংস করে। যেমন- তীব্র রক্তশূন্যতা হার্টকে অকেজো করে দেয়, এবং অতিরিক্ত আয়রন লিভার ও প্যানক্রিয়াসকে নষ্ট করে ডায়াবেটিস তৈরি করে। ডাঃ পোদ্দারের ইন্টারনাল মেডিসিনে FCPS থাকার অর্থ হলো, পুরো শরীরের সিস্টেম সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান রয়েছে, যার ফলে তিনি রক্তরোগের পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গের জটিলতাগুলোও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

অটোইমিউন হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (AIHA) কী?

AIHA হলো এমন একটি রোগ যেখানে আপনার ইমিউন সিস্টেম ভুল করে আপনার নিজের সুস্থ লোহিত রক্তকণিকাগুলোকে 'শত্রু' ভেবে তাদের ধ্বংস করার জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এর ফলে খুব দ্রুত মারাত্মক রক্তশূন্যতা, ক্লান্তি এবং জন্ডিস দেখা দেয়। ডাঃ পোদ্দারের মতো একজন বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্ট দ্রুত উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড বা ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট ওষুধ দিয়ে ইমিউন সিস্টেমকে দমন করে এই আক্রমণ থামান।

পাইরুভেট কাইনেজ ডেফিসিয়েন্সি (Pyruvate Kinase Deficiency) কী?

এটি লোহিত রক্তকণিকার একটি অত্যন্ত বিরল জন্মগত মেটাবলিক ত্রুটি। পাইরুভেট কাইনেজ হলো একটি এনজাইম যা রক্তকণিকাকে শক্তি তৈরি করতে সাহায্য করে। এই এনজাইম না থাকলে রক্তকণিকাগুলো শক্তি হারিয়ে সময়ের অনেক আগেই মারা যায় বা ভেঙে যায় (হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া)। এর চিকিৎসায় রক্তশূন্যতা নিয়ন্ত্রণ, ফলিক অ্যাসিড দেওয়া এবং অনেক সময় প্লীহা (Spleen) কেটে ফেলার প্রয়োজন হয়।

সিকল সেল ডিজিজ (Sickle Cell Disease) কীভাবে চিকিৎসা করা হয়?

বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া সিকল সেলের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। এর চিকিৎসায় মূলত রক্তনালী ব্লক হওয়া রোধ করা হয়। ডাঃ পোদ্দার এর জন্য 'হাইড্রোক্সিউরিয়া' (Hydroxyurea) নামক ওষুধ দেন, যা রক্তকণিকাকে কাস্তের মতো বাঁকা হতে বাধা দেয়। এছাড়া যখন হঠাৎ মারাত্মক ব্যথা (Vaso-occlusive crisis) শুরু হয়, তখন প্রচুর স্যালাইন এবং বিশেষ ব্যথানাশক প্রটোকলের মাধ্যমে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা দেওয়া হয়।

থ্যালাসেমিয়া রোগ কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?

হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য। যদি দুজন থ্যালাসেমিয়া মাইনর (বাহক) ব্যক্তি একে অপরকে বিয়ে করেন, তবে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া মেজর হওয়ার ঝুঁকি ২৫% থাকে। ডাঃ পোদ্দার জোরালোভাবে পরামর্শ দেন যে, বিয়ের আগে বা সন্তান নেওয়ার আগে পাত্র-পাত্রী উভয়েরই একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা (Hemoglobin Electrophoresis) করানো উচিত, যাতে দুজন বাহক বিয়ে করে কোনো অসুস্থ সন্তানের জন্ম না দেন।

⭐ Patient Reviews (0)

এখনো কোনো মতামত নেই — প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

মতামত লিখুন

📞 01711 894 175 📅 অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন