মেজর ডাঃ মোঃ এনামুল ইসলাম – খুলনার মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ (মানসিক রোগ, মাদকাসক্তি ও সিজোফ্রেনিয়া)
মেজর ডাঃ মোঃ এনামুল ইসলাম বাংলাদেশ নৌবাহিনী হাসপাতাল, খলিসপুর, খুলনা-এর সাইকিয়াট্রি (মনোরোগ) বিভাগের প্রখ্যাত বিভাগীয় প্রধান, যার মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ সামরিক ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ডিসোসিয়েটিভ অ্যামনেসিয়া, ফ্যাকটিশাস ডিসঅর্ডার, পিকা, র্যুমিনেশন ডিসঅর্ডার এবং জেন্ডার ডিসফোরিয়া-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
মেজর ডাঃ মোঃ এনামুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ (DMC) থেকে সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। সামরিক বাহিনীর একজন মেডিকেল অফিসার হিসেবে তিনি সাইকিয়াট্রিতে কঠোর গ্রেডিং কোর্স সম্পন্ন করেন। মানসিক রোগের চিকিৎসায় নিজেকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অফ সাইকিয়াট্রিস্টস থেকে মর্যাদাপূর্ণ মেম্বারশিপ (MRCPsych, UK) অর্জন করেন। খুলনায় সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সামরিক ও ক্লিনিক্যাল নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে ট্রমা-ফোকাসড থেরাপির মাধ্যমে স্মৃতি ফেরানো, অসুস্থতার ভান করা বা ফ্যাকটিশাস ডিসঅর্ডারের গভীর মূল্যায়ন, অখাদ্য খাওয়ার বাতিক (পিকা) দূর করতে আচরণগত পরিবর্তন এবং জেন্ডার ডিসফোরিয়ার জন্য সহানুভূতিশীল মানসিক সহায়তা প্রদান। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে রোগীদের কথা শোনেন এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সুস্থতার জন্য কার্যকর চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | মেজর ডাঃ মোঃ এনামুল ইসলাম |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | সাইকিয়াট্রি (মানসিক রোগ ও ব্রেইন) |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | মাদকাসক্তি, সিজোফ্রেনিয়া ও আচরণগত সমস্যা |
| পদবী | বিভাগীয় প্রধান (সাইকিয়াট্রি) |
| কর্মস্থল | বাংলাদেশ নৌবাহিনী হাসপাতাল, খলিসপুর, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ১৩+ বছর |
| অবস্থান | খলিসপুর, খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
এমবিবিএস (DMC) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ
গ্রেডিং কোর্স (সাইকিয়াট্রি) – অ্যাডভান্সড মিলিটারি সাইকিয়াট্রিক ট্রেনিং
এমআরসিপিএসওয়াইসিএইচ (ইউকে) – মেম্বার অব দ্য রয়্যাল কলেজ অফ সাইকিয়াট্রিস্টস, যুক্তরাজ্য
পদবী ও কর্মস্থল
পদবী: বিভাগীয় প্রধান (সাইকিয়াট্রি)
কর্মস্থল: সাইকিয়াট্রি (মনোরোগ) বিভাগ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী হাসপাতাল, খলিসপুর, খুলনা
যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়
ডিসোসিয়েটিভ অ্যামনেসিয়ায় (মানসিক ট্রমায় স্মৃতি হারানো) নিবিড় থেরাপি প্রয়োজন।
ফ্যাকটিশাস ডিসঅর্ডারে (অসুস্থতার ভান করা) বিশেষ মানসিক মূল্যায়ন লাগে।
পিকা (অখাদ্য খাওয়ার রোগ) দূর করতে আচরণগত পরিবর্তন জরুরি।
র্যুমিনেশন ডিসঅর্ডারে (খাবার উগলে ফেলা) কগনিটিভ চিকিৎসা প্রয়োজন।
জেন্ডার ডিসফোরিয়ায় সহানুভূতিশীল মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট দেওয়া হয়।
সিজোফ্রেনিয়া স্পেকট্রামে দীর্ঘমেয়াদী অ্যান্টিসাইকোটিক ব্যবস্থাপনা।
মাদকাসক্তি ও নেশা নিরাময়ে বিজ্ঞানসম্মত ডিটক্সিফিকেশন।
তীব্র বিষণ্ণতায় (Major depression) সঠিক মুড স্টেবিলাইজেশন প্রয়োজন।
সাধারণ উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে সুনির্দিষ্ট ওষুধ ও থেরাপি।
পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস (PTSD) বা মানসিক আঘাতের ট্রমা কাউন্সেলিং।
অবসেসিভ-কম্পালসিভ বা শুচিবাই (OCD) রোগে বিশেষায়িত চিকিৎসা।
বাইপোলার ডিসঅর্ডারে মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তনের সঠিক চিকিৎসা।
প্যানিক ডিসঅর্ডারে আকস্মিক ভয়ের আক্রমণ থেকে মুক্তির চিকিৎসা।
পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে দীর্ঘমেয়াদী ডায়ালেক্টিক্যাল থেরাপি লাগে।
অনিদ্রা বা স্লিপ ডিসঅর্ডারে ঘুমের সঠিক চিকিৎসা।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
জটিল আচরণগত ও খাদ্যাভ্যাসের রোগ: পিকা (মাটি, বালি খাওয়া) এবং র্যুমিনেশনের মতো বিরল আচরণগত সমস্যা দূর করতে বিশেষ হ্যাবিট-রিভার্সাল থেরাপি।
পরিচয় ও ডিসোসিয়েটিভ রোগ: মানসিক ট্রমার কারণে স্মৃতি হারিয়ে ফেলা (অ্যামনেসিয়া) এবং জেন্ডার ডিসফোরিয়ায় মানসিক সহায়তা প্রদান।
গুরুতর মানসিক রোগ ও আসক্তি: সিজোফ্রেনিয়া, মানসিক বিকৃতি এবং মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির জন্য আধুনিক কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
ট্রমা-ইনফর্মড মেমরি ইন্টিগ্রেশন থেরাপি
এটি ডিসোসিয়েটিভ অ্যামনেসিয়ার রোগীদের জন্য একটি বিশেষ থেরাপি। এর মাধ্যমে একটি নিরাপদ পরিবেশে রোগীকে তার অবদমিত মানসিক আঘাত বা ট্রমাগুলো প্রসেস করতে সাহায্য করা হয়, যার ফলে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চেতনায় ফিরে আসে।
পিকা ও র্যুমিনেশনের জন্য বিহেভিয়ারাল মডিফিকেশন
অখাদ্য খাওয়ার ইচ্ছা বা খাবার উগলে ফেলার প্রবণতা কমানোর একটি থেরাপি। র্যুমিনেশনের ক্ষেত্রে রোগীকে ডায়াফ্রাগমেটিক ব্রিদিং (পেটের শ্বাস-প্রশ্বাস) শেখানো হয়, যা শারীরিকভাবে খাবার উগলে ফেলার রিফ্লেক্সকে বাধা দেয়।
জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সাইকিয়াট্রিক সাপোর্ট
যাদের জন্মগত লিঙ্গ এবং মানসিক লিঙ্গ পরিচয়ের মধ্যে অমিল রয়েছে, তাদের সেই মানসিক কষ্ট (ডিসফোরিয়া) দূর করার জন্য একটি সম্মানজনক ও নিরাপদ কাউন্সেলিং। এর লক্ষ্য রোগীর মানসিক চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করা।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
ডিসোসিয়েটিভ অ্যামনেসিয়া (Dissociative Amnesia)
এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে ব্যক্তি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যান। এটি কোনো সাধারণ ভুলে যাওয়া নয়, বরং তীব্র মানসিক আঘাত (ট্রমা) থেকে মনকে রক্ষা করার জন্য মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট কিছু স্মৃতি ব্লক করে দেয়। থেরাপির মাধ্যমে এই স্মৃতি ফেরানো সম্ভব।
ফ্যাকটিশাস ডিসঅর্ডার (Factitious Disorder)
পূর্বে এটি মাঞ্চহাউসেন সিনড্রোম নামে পরিচিত ছিল। এই মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি টাকা বা ছুটির লোভে নয়, বরং মানুষের সিমপ্যাথি বা মনোযোগ পাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অসুস্থতার ভান করেন বা নিজেকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করে অসুস্থ সাজেন।
পিকা (Pica)
এটি একটি খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি যেখানে রোগীর মাটি, বালি, চক, রং বা চুলের মতো পুষ্টিহীন অখাদ্য খাওয়ার অদম্য ইচ্ছা জাগে। এর ফলে পেটে ব্লক হওয়া বা বিষক্রিয়ার মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি তৈরি হয়।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
মেজর ডাঃ মোঃ এনামুল ইসলাম সামরিক চিকিৎসাবিদ্যার শৃঙ্খলা এবং গভীর সহানুভূতির সমন্বয় ঘটিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন। তিনি মানসিক রোগের পেছনের লুকিয়ে থাকা ট্রমাগুলো খুঁজে বের করেন। মানসিক রোগ নিয়ে সমাজে থাকা ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি রোগীদের সঠিক শিক্ষা প্রদান করেন।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি কোনো রোগী বিষাক্ত অখাদ্য খেয়ে তীব্র পেটের ব্যথায় ভোগেন (পিকা), অসুস্থ সাজার জন্য নিজের মারাত্মক ক্ষতি করেন (ফ্যাকটিশাস), নিজের পরিচয় ভুলে গিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ান (ডিসোসিয়েটিভ ফিউগ), অথবা আত্মহত্যার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
সদস্য, রয়্যাল কলেজ অফ সাইকিয়াট্রিস্টস (MRCPsych, যুক্তরাজ্য)
সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সাইকিয়াট্রিস্টস (BAP)
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা সাইকিয়াট্রিক প্রেসক্রিপশন, সাইকোলজিক্যাল টেস্ট, বা গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির রিপোর্ট (পিকা রোগের ক্ষেত্রে) সাথে আনুন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা (বিশেষ করে অতীত মানসিক রোগের ওষুধ) সাথে রাখুন।
রোগীর স্মৃতিভ্রম, অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাস বা মেজাজ পরিবর্তনের কারণগুলো একটি ডায়রিতে লিখে আনলে ভালো হয়।
স্মৃতি হারানো বা অদ্ভুত আচরণের সঠিক ইতিহাস দেওয়ার জন্য পরিবারের একজন বিশ্বস্ত সদস্যকে সাথে আনুন।
Last Modified: October 21, 2026