🚨 জাতীয় জরুরি সেবা: 999  |  স্বাস্থ্য সেবা: 16263 ✉️ info@specialistdoctorkhulna.com
অস

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সুলতান-ই-মঞ্জুর ✔ যাচাইকৃত

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস, এফসিপিএস (সাইকিয়াট্রি), এমসিপিএস, এম.ফিল
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (মানসিক স্বাস্থ্য, আসক্তি, বিষণ্নতা, সিজোফ্রেনিয়া)

🎯 যেসব রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ: টুরেট সিনড্রোম, নারকোলেপসি (অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া), অনিদ্রা, রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম (পা অস্থির লাগা), দুঃস্বপ্নজনিত সমস্যা

🎓 অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি বিভাগ)

🏛️ আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা

💼 ১২+ বছরের অভিজ্ঞতা 📍 Khulna
New (0 reviews)
—বিএমডিসি রেজি. নং ✔
1চেম্বার
Newরেটিং (০)
1জেলা

👨‍⚕️ পরিচিতি

অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি বিভাগ) — আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সুলতান-ই-মনজুর খুলনা শহরের সেরা মনোরোগ ও স্লিপ মেডিসিন (ঘুমের সমস্যা) বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার সাথে আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। খুলনায় সেরা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে রোগীরা তার কাছে ট্যুরেট সিনড্রোম (Tourette syndrome), নারকোলেপসি (অতিরিক্ত ঘুম), এবং ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা রোগের বিশ্বস্ত সমাধান পেয়ে থাকেন। রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম, দুঃস্বপ্ন দেখার মানসিক রোগ (Nightmare disorder) এবং সিজোফ্রেনিয়া চিকিৎসায় তিনি অত্যন্ত দক্ষ। তিনি বিজ্ঞানসম্মত ওষুধ এবং আচরণগত স্লিপ থেরাপির সমন্বয়ের মাধ্যমে রোগীদের মানসিক ও স্নায়বিক সুস্থতা নিশ্চিত করেন।

🏥 চেম্বার ও বসার সময় (১)

চেম্বার ১ 📍 Khulna

🏥 Doctors Point Specialized Hospital, Khulna · Private Hospital

📍 ৪৯, কেডিএ অ্যাভিনিউ, খুলনা

🕒 Visiting hours: বিকাল ৭:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা (শুক্রবার বন্ধ)

💳 Consultation fee: ৳800

📖 ডাক্তার সম্পর্কে আরও

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সুলতান-ই-মনজুর – খুলনার মানসিক স্বাস্থ্য, আসক্তি, বিষণ্নতা, সিজোফ্রেনিয়া ও সাইকিয়াট্রি বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সুলতান-ই-মনজুর আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা-এর সাইকিয়াট্রি (মনোরোগ) বিভাগের একজন প্রখ্যাত অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট, যার মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ঘুম ও স্নায়বিক মানসিক রোগ যেমন ট্যুরেট সিনড্রোম, নারকোলেপসি, ইনসমনিয়া এবং রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি 

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সুলতান-ই-মনজুর সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি মানসিক রোগে উচ্চতর ডিগ্রি মেম্বারশিপ (MCPS) ও ফেলোশিপ (FCPS in Psychiatry) অর্জন করেন। মস্তিষ্ক ও মানসিক রোগের গবেষণায় আরও গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তিনি মাস্টার অব ফিলোসফি (M.Phil) ডিগ্রি লাভ করেন। এই ডিগ্রিগুলো মস্তিষ্ক, মানসিক রোগ এবং ঘুমজনিত জটিলতায় তার গভীর দক্ষতা ও পারদর্শিতাকে নির্দেশ করে। খুলনায় সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার এক যুগের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা এবং একাডেমিক সুনামের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।

তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে ট্যুরেট সিনড্রোমের জন্য কম্প্রিহেনসিভ টিক ম্যানেজমেন্ট, নারকোলেপসির জন্য অত্যাধুনিক ওষুধ নির্ধারণ, দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা দূর করতে কগনিটিভ-বিহেভিয়ারাল থেরাপি ফর ইনসমনিয়া (CBT-I), রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমের স্নায়বিক চিকিৎসা এবং দুঃস্বপ্ন বা নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডারের ট্রমা-ফোকাসড থেরাপি। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে রোগীদের কথা শোনেন এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সুস্থতার জন্য কার্যকর চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।

এক নজরে প্রোফাইল

প্রোফাইল তথ্যবিবরণ
পূর্ণ নামঅধ্যাপক ডাঃ মোঃ সুলতান-ই-মনজুর
প্রধান বিশেষজ্ঞতাসাইকিয়াট্রি (মানসিক স্বাস্থ্য, মন ও ব্রেইন)
উপ-বিশেষজ্ঞতাস্লিপ মেডিসিন (ঘুমের রোগ), আসক্তি ও নিউরো-সাইকিয়াট্রি
পদবীঅধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি)
কর্মস্থলআদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা
মোট অভিজ্ঞতা১২+ বছর
অবস্থানখুলনা, বাংলাদেশ

যোগ্যতা ও শিক্ষা

  • এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি

  • এমসিপিএস (MCPS) – মেম্বার অব দ্য কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস

  • এফসিপিএস (সাইকিয়াট্রি) – ফেলো অব দ্য কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (সাইকিয়াট্রি)

  • এম.ফিল (M.Phil) – মাস্টার অব ফিলোসফি (সাইকিয়াট্রি)

পদবী ও কর্মস্থল

  • পদবী: অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি)

  • কর্মস্থল: সাইকিয়াট্রি (মনোরোগ) বিভাগ, আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা

যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়

  • ট্যুরেট সিনড্রোমে বিশেষ আচরণগত থেরাপি ও টিক (Tic) ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

  • নারকোলেপসি বা অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যায় আধুনিক ওষুধ লাগে।

  • ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা দূর করতে নির্দিষ্ট কগনিটিভ-বিহেভিয়ারাল থেরাপি।

  • রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমে স্নায়বিক ও মানসিক চিকিৎসার সমন্বয়।

  • নাইটমেয়ার বা দুঃস্বপ্ন দেখার মানসিক রোগে ট্রমা থেরাপি প্রয়োজন।

  • সিজোফ্রেনিয়া স্পেকট্রামে দীর্ঘমেয়াদী অ্যান্টিসাইকোটিক ব্যবস্থাপনা।

  • তীব্র বিষণ্ণতায় (Major depression) সঠিক মুড স্টেবিলাইজেশন প্রয়োজন।

  • মাদকাসক্তি ও নেশা নিরাময়ে বিজ্ঞানসম্মত ডিটক্সিফিকেশন।

  • বাইপোলার ডিসঅর্ডারে মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তনের সঠিক চিকিৎসা।

  • সাধারণ উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে সুনির্দিষ্ট ওষুধ ও থেরাপি।

  • প্যানিক ডিসঅর্ডারে আকস্মিক ভয়ের আক্রমণ থেকে মুক্তির চিকিৎসা।

  • অবসেসিভ-কম্পালসিভ বা শুচিবাই (OCD) রোগে বিশেষায়িত চিকিৎসা।

  • পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস (PTSD) বা মানসিক আঘাতের ট্রমা কাউন্সেলিং।

  • সাইকো-সেক্সুয়াল বা যৌন মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় বিশেষ কাউন্সেলিং।

  • এডিএইচডি (ADHD) বা অতিরিক্ত চঞ্চলতায় আচরণগত থেরাপি লাগে।

ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র

  • স্লিপ মেডিসিন ও ক্রোনোথেরাপি: অনিদ্রা (Insomnia), দিনে অতিরিক্ত ঘুম (Narcolepsy) এবং ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখার মতো রোগের সঠিক নিরাময়।

  • নিউরো-সাইকিয়াট্রি ও মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার: ট্যুরেট সিনড্রোম (অনিচ্ছাকৃত শারীরিক নড়াচড়া বা শব্দ করা) এবং রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমের অত্যাধুনিক চিকিৎসা।

  • গুরুতর মানসিক রোগ ও আসক্তি: সিজোফ্রেনিয়া, তীব্র বিষণ্ণতা এবং মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির জন্য আধুনিক কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন।

অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ

ইনসমনিয়ার জন্য কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT-I)

ঘুমের ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা দূর করার একটি বিজ্ঞানসম্মত থেরাপি। এর মাধ্যমে রোগীর ঘুমের ভুল অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যকর ঘুমের পরিবেশ ও মানসিকতা তৈরি করা হয়।

কম্প্রিহেনসিভ টিক ম্যানেজমেন্ট (CBIT)

ট্যুরেট সিনড্রোমের রোগীদের জন্য একটি বিশেষ থেরাপি। এতে রোগীকে তার অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া বা টিক (Tic) শুরু হওয়ার আগের অনুভূতিটি বুঝতে শেখানো হয় এবং ক্ষতিকর কাজটির বদলে একটি স্বাভাবিক কাজের অভ্যাস গড়ে তোলা হয়।

ঘুম-জাগরণ সমস্যার সাইকোফার্মাকোথেরাপি

নারকোলেপসি রোগীদের দিনে জেগে থাকার জন্য এবং রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম দূর করার জন্য অত্যন্ত নিখুঁত মাত্রায় নিউরোমডুলেটিং ওষুধের ব্যবহার, যা কোনো আসক্তি তৈরি না করেই মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে।

কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা

ট্যুরেট সিনড্রোম (Tourette Syndrome)

এটি একটি স্নায়বিক মানসিক রোগ যেখানে রোগী অনিচ্ছাকৃতভাবে বারবার মুখ বা শরীরের অন্য অংশ বাঁকায়, কাঁধ ঝাঁকায় বা হঠাৎ করে অসংলগ্ন শব্দ করে বসে, যাকে 'টিক' বলা হয়। এটি রোগীর সামাজিক জীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।

নারকোলেপসি (Narcolepsy)

এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের রোগ যেখানে রোগী দিনের বেলায় তীব্র ঘুম অনুভব করেন এবং কথা বলতে বলতে বা কাজ করতে করতে হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়েন। এটি রোগীর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময়।

ইনসমনিয়া ডিসঅর্ডার (অনিদ্রা রোগ)

এটি হলো ঘুমাতে যাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ ঘুম না আসা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অনেক ভোরে ঘুম ভেঙে আর না ঘুমানোর সমস্যা। দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা মানুষের মেজাজ খিটখিটে করে দেয় এবং হার্ট ও ব্রেইনের ওপর মারাত্মক চাপ ফেলে।

ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সুলতান-ই-মনজুর অত্যন্ত সহানুভূতি ও মনোযোগের সাথে রোগীর কথা শোনেন। তিনি মানসিক রোগের পেছনের শারীরিক কারণগুলো (যেমন দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের ঘাটতি) খুঁজে বের করেন। মানসিক রোগ ও ঘুমের সমস্যা নিয়ে সমাজে থাকা ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি রোগীদের সঠিক শিক্ষা প্রদান করেন।

বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী

জরুরি সতর্কতা: যদি কোনো রোগীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবল ইচ্ছা দেখা দেয়, দীর্ঘদিনের ঘুমের অভাবের কারণে কাল্পনিক কিছু দেখে বা শোনে (হ্যালুসিনেশন), গাড়ি চালানো বা কাজের সময় হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার (নারকোলেপসি) মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়, অথবা মাদক ছাড়ার পর তীব্র খিঁচুনি শুরু হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ

  • সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)

  • সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সাইকিয়াট্রিস্টস (BAP)

রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি

  • পূর্বের করা সাইকিয়াট্রিক প্রেসক্রিপশন, স্লিপ স্টাডি (Polysomnography) রিপোর্ট বা কাউন্সেলিং নোট সাথে আনুন।

  • বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা (বিশেষ করে ঘুমের ওষুধ বা অন্য মানসিক রোগের ওষুধ) সাথে রাখুন।

  • অন্তত দুই সপ্তাহের একটি "স্লিপ ডায়রি" তৈরি করে আনুন, যেখানে কখন ঘুমাতে যান, কতক্ষণ ঘুমান এবং দিনে কতটুকু ক্লান্তি লাগে তা লেখা থাকবে।

  • ঘুমের সময়কার কোনো অস্বাভাবিক আচরণ বা টিক (Tic) এর সঠিক ইতিহাস দেওয়ার জন্য পরিবারের একজন সদস্যকে সাথে আনুন।

Last Modified: October 21, 2026

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা

ট্যুরেট সিনড্রোমের টিক (Tic) এবং সাধারণ নার্ভাস অভ্যাসের মধ্যে পার্থক্য কী?

সাধারণ নার্ভাস অভ্যাস মানুষ টেনশন কমানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে করে থাকে। কিন্তু ট্যুরেট সিনড্রোমের টিক হলো সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত, দ্রুত এবং বারবার ঘটা শারীরিক নড়াচড়া বা শব্দ। রোগীরা জানান যে, টিক হওয়ার আগে তাদের শরীরে এক ধরণের অস্বস্তিকর অনুভূতি কাজ করে, যা কেবল ওই নড়াচড়া বা শব্দটি করলেই শান্ত হয়।

নারকোলেপসি (অতিরিক্ত ঘুম) রোগটি কি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য?

নারকোলেপসি একটি দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক রোগ, যেখানে ব্রেইন ঘুম-জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। এটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও, সঠিক ওষুধ, নির্দিষ্ট সময়ে দিনের বেলা ছোট ঘুম (Nap) এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে রোগটিকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, ফলে রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রার জন্য শুধুমাত্র ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক কেন?

শুধুমাত্র ঘুমের ওষুধ (Sedatives) খাওয়া বিপজ্জনক কারণ এগুলো দ্রুত আসক্তি তৈরি করে এবং একই কাজ পাওয়ার জন্য ধীরে ধীরে ওষুধের মাত্রা বাড়াতে হয়। ওষুধ ছেড়ে দিলে অনিদ্রা আরও ভয়াবহ আকারে ফিরে আসে (Rebound insomnia)। ইনসমনিয়ার মূল চিকিৎসা হলো CBT-I (কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি), যা ঘুমের পেছনের মানসিক ও আচরণগত সমস্যাগুলো চিরতরে দূর করে।

রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম (RLS) কীভাবে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে?

রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীরা রাতে পা নাড়ানোর তীব্র অদম্য ইচ্ছা অনুভব করেন, যার ফলে তাদের ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের ঘাটতি রোগীকে তীব্র বিষণ্ণতা, হতাশা ও দুশ্চিন্তায় ঠেলে দেয়। মজার ব্যাপার হলো, কিছু বিষণ্ণতার ওষুধ উল্টো RLS বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মানসিক রোগ ও স্লিপ মেডিসিনে দক্ষ একজন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে এর চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডার বা দুঃস্বপ্ন দেখার রোগ কি সাধারণ খারাপ স্বপ্ন দেখার চেয়ে আলাদা?

হ্যাঁ। সাধারণ মানুষ মাঝে মাঝে খারাপ স্বপ্ন দেখতেই পারেন। কিন্তু নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডারে রোগী ঘন ঘন অত্যন্ত ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেন, ফলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে, ঘামতে ঘামতে এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন নিয়ে জেগে ওঠেন। এর ফলে রোগী ঘুমাতে ভয় পান এবং তার দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে যায়। এটি সাধারণত কোনো মানসিক আঘাত বা ট্রমা (PTSD) থেকে তৈরি হয় এবং থেরাপির মাধ্যমে ভালো হয়।

মানসিক চিকিৎসায় এম.ফিল (M.Phil) ডিগ্রি থাকার বিশেষত্ব কী?

এম.ফিল (মাস্টার অব ফিলোসফি) হলো একটি উচ্চতর গবেষণামূলক ডিগ্রি। এটি প্রমাণ করে যে, চিকিৎসক শুধুমাত্র ক্লিনিক্যাল জ্ঞানই রাখেন না, বরং মানসিক রোগের পেছনের স্নায়বিক, রাসায়নিক এবং মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো নিয়ে তার গভীর গবেষণালব্ধ জ্ঞান রয়েছে। এর ফলে তিনি জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত ও নিখুঁত চিকিৎসা দিতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের ঘাটতি সিজোফ্রেনিয়া বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে?

ঘুম হলো মস্তিষ্কের সুস্থতার প্রধান চাবিকাঠি। বাইপোলার ডিসঅর্ডারের রোগীদের ক্ষেত্রে দুই-তিন রাতের একটানা ঘুম না হওয়া তাদের চরম উত্তেজনার বা ম্যানিক এপিসোডের (Manic episode) দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর সিজোফ্রেনিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রে ঘুমের অভাব তাদের গায়েবি আওয়াজ শোনা বা অমূলক সন্দেহ করার প্রবণতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই রোগীদের ঘুম ঠিক করাটাই প্রথম ও প্রধান চিকিৎসা।

মাদকাসক্তির চিকিৎসা কি রোগীকে রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি না করেই করা সম্ভব?

প্রাথমিক বা মাঝারি মাত্রার আসক্তির ক্ষেত্রে, আউটডোর চিকিৎসার মাধ্যমে (নিয়মিত চেকআপ, বিকল্প ওষুধ ও কাউন্সেলিং) রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব। তবে রোগীর পরিবারে যদি সাপোর্ট দেওয়ার কেউ না থাকে, অথবা আসক্তি যদি এতই তীব্র হয় যে ওষুধ ছাড়া তার জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে হাসপাতালে ভর্তি থেকে ডিটক্সিফিকেশন করা আবশ্যক।

⭐ Patient Reviews (0)

এখনো কোনো মতামত নেই — প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

মতামত লিখুন

📞 01795383803 📅 অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন