🚨 জাতীয় জরুরি সেবা: 999  |  স্বাস্থ্য সেবা: 16263 ✉️ info@specialistdoctorkhulna.com
ডক

ডাঃ প্রিয়াঙ্কা কর ✔ যাচাইকৃত

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমসিপিএস (মনোরোগবিদ্যা), এফসিপিএস (এফপি)
মনোরোগবিদ্যা (মানসিক স্বাস্থ্য, আসক্তি, বিষণ্ণতা) বিশেষজ্ঞ

🎯 যেসব রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ: পরিহারকারী ব্যক্তিত্ব, নির্ভরশীল ব্যক্তিত্ব, আত্মমুগ্ধ ব্যক্তিত্ব, নাটকীয় ব্যক্তিত্ব, সন্দেহবাতিক ব্যক্তিত্ব

🎓 কনসালটেন্ট (সাইকিয়াট্রি বিভাগ)

🏛️ খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা

💼 ৮+ বছরের অভিজ্ঞতা 📍 Khulna
New (0 reviews)
84489বিএমডিসি রেজি. নং ✔
1চেম্বার
Newরেটিং (০)
1জেলা

👨‍⚕️ পরিচিতি

কনসালটেন্ট (সাইকিয়াট্রি বিভাগ) — খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা

ডাঃ প্রিয়াঙ্কা কর খুলনা শহরের সেরা মনোরোগ ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার সাথে আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। খুলনায় সেরা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে রোগীরা তার কাছে এভয়েড্যান্ট পার্সোনালিটি (এড়িয়ে চলার প্রবণতা), ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি (অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা) এবং নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি (আত্মঅহংকার)-এর বিশ্বস্ত সমাধান পেয়ে থাকেন। হিস্ট্রিওনিক পার্সোনালিটি (মনোযোগ আকর্ষণের বাতিক), প্যারানয়েড পার্সোনালিটি (সন্দেহবাতিকতা) এবং জটিল মানসিক সমস্যার চিকিৎসায় তিনি অত্যন্ত দক্ষ। তিনি বিজ্ঞানসম্মত ওষুধ এবং নিবিড় সাইকোথেরাপির সমন্বয়ের মাধ্যমে রোগীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করেন।

🏥 চেম্বার ও বসার সময় (১)

চেম্বার ১ 📍 Khulna

🏥 Sunrise Diagnostic & Consultation Center · Diagnostic Center

📍 ৪২৮, খানজাহান আলী রোড (হামিদ আলী স্কুলের বিপরীতে), খুলনা

🕒 Visiting hours: দুপুর ২:৩০টা থেকে বিকাল ৯:০০টা (শুক্রবার বন্ধ)

💳 Consultation fee: ৳800

📖 ডাক্তার সম্পর্কে আরও

ডাঃ প্রিয়াঙ্কা কর – খুলনার সেরা সাইকিয়াট্রি বিশেষজ্ঞ

ডাঃ প্রিয়াঙ্কা কর খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি (মনোরোগ) বিভাগের একজন প্রখ্যাত কনসালটেন্ট, যার মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি এভয়েড্যান্ট পার্সোনালিটি, ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি, নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি, হিস্ট্রিওনিক পার্সোনালিটি এবং প্যারানয়েড পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের আবেগ ও আচরণের সুস্থতা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি

ডাঃ প্রিয়াঙ্কা কর সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগদান করেন এবং মানসিক রোগে উচ্চতর ডিগ্রি মেম্বারশিপ (MCPS in Psychiatry) ও ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রিতে ফেলোশিপ (FCPS in FP) অর্জন করেন। এই ডিগ্রিগুলো মানুষের জটিল আচরণগত সমস্যা, গুরুতর মানসিক রোগ এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরাময়ে তার গভীর দক্ষতা ও পারদর্শিতাকে নির্দেশ করে। খুলনায় সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সরকারি মেডিকেল কলেজের অভিজ্ঞতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।

তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে এভয়েড্যান্ট ও ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটির জন্য কগনিটিভ-বিহেভিয়ারাল চিকিৎসা, নার্সিসিস্টিক ও হিস্ট্রিওনিক আচরণের জন্য স্কিমা থেরাপি, সন্দেহবাতিক বা প্যারানয়েড রোগীদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং এবং বিষণ্ণতা ও আসক্তি নিরাময়। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে রোগীদের কথা শোনেন এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সুস্থতার জন্য কার্যকর চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।

এক নজরে প্রোফাইল

প্রোফাইল তথ্যবিবরণ
পূর্ণ নামডাঃ প্রিয়াঙ্কা কর
প্রধান বিশেষজ্ঞতাসাইকিয়াট্রি (মানসিক স্বাস্থ্য ও বিষণ্ণতা)
উপ-বিশেষজ্ঞতাপার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার ও আসক্তি চিকিৎসা
পদবীকনসালটেন্ট (সাইকিয়াট্রি)
কর্মস্থলখুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা
মোট অভিজ্ঞতা৮+ বছর
অবস্থানখুলনা, বাংলাদেশ

যোগ্যতা ও শিক্ষা

  • এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি

  • বিসিএস (স্বাস্থ্য) – বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য ক্যাডার)

  • এমসিপিএস (সাইকিয়াট্রি) – মেম্বার অব দ্য কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (সাইকিয়াট্রি)

  • এফসিপিএস (এফপি) – ফেলো অব দ্য কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি)

পদবী ও কর্মস্থল

  • পদবী: কনসালটেন্ট (সাইকিয়াট্রি)

  • কর্মস্থল: সাইকিয়াট্রি (মনোরোগ) বিভাগ, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা

যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়

  • এভয়েড্যান্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে সামাজিক ভীতি দূর করার থেরাপি।

  • ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটিতে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির মানসিক চিকিৎসা।

  • নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটিতে (আত্মঅহংকার) বিশেষ আচরণগত থেরাপি।

  • হিস্ট্রিওনিক পার্সোনালিটিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণের সাইকোথেরাপি।

  • প্যারানয়েড পার্সোনালিটিতে (অমূলক সন্দেহ) বিশেষ সাইকিয়াট্রিক মূল্যায়ন।

  • তীব্র বিষণ্ণতায় (Major depression) সঠিক মুড স্টেবিলাইজেশন প্রয়োজন।

  • সাধারণ উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে সুনির্দিষ্ট ওষুধ ও থেরাপি।

  • প্যানিক ডিসঅর্ডারে আকস্মিক ভয়ের আক্রমণ থেকে মুক্তির চিকিৎসা।

  • অবসেসিভ-কম্পালসিভ বা শুচিবাই (OCD) রোগে বিশেষায়িত চিকিৎসা।

  • বাইপোলার ডিসঅর্ডারে মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তনের সঠিক চিকিৎসা।

  • পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস (PTSD) বা মানসিক আঘাতের ট্রমা কাউন্সেলিং।

  • সিজোফ্রেনিয়া স্পেকট্রামে দীর্ঘমেয়াদী অ্যান্টিসাইকোটিক ব্যবস্থাপনা।

  • অনিদ্রা বা স্লিপ ডিসঅর্ডারে ঘুমের সঠিক চিকিৎসা।

  • মাদকাসক্তি ও নেশা নিরাময়ে বিজ্ঞানসম্মত ডিটক্সিফিকেশন।

  • সোমাটিক সিম্পটম ডিসঅর্ডারে (শারীরিক সমস্যার অমূলক বোধ) মানসিক মূল্যায়ন।

ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র

  • পার্সোনালিটি ও আচরণগত রোগ: মানুষের স্বভাব বা ব্যক্তিত্বের গভীরে লুকিয়ে থাকা নেতিবাচক দিকগুলো (Cluster A, B, C Personality Disorders) দূর করার আধুনিক থেরাপি।

  • মুড ও অ্যাংজাইটি সাইকিয়াট্রি: তীব্র বিষণ্ণতা, সাধারণ উদ্বেগ এবং প্যানিক অ্যাটাকের জন্য ওষুধ ও সাইকোথেরাপির নিখুঁত সমন্বয়।

  • মাদকাসক্তি ও ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি: আসক্তি থেকে মুক্তির পুনর্বাসন এবং মানসিক রোগীর কারণে পরিবারের ভেতরের সম্পর্কের জটিলতা নিরসন।

অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ

কম্প্রিহেনসিভ পার্সোনালিটি সাইকোমেট্রিক্স ও প্রোফাইলিং

রোগীর স্বভাব, চিন্তাধারা এবং আচরণের ধরন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারগুলো সঠিকভাবে নির্ণয় করার একটি কাঠামোবদ্ধ ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি।

কগনিটিভ-বিহেভিয়ারাল ও স্কিমা থেরাপি

এটি পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের রোগীদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী থেরাপি। এর মাধ্যমে রোগী নিজের সম্পর্কে এবং অন্যদের সম্পর্কে তার ভুল ও নেতিবাচক ধারণাগুলো (Schemas) ভাঙতে পারেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শিখতে পারেন।

সাইকোফার্মাকোলজিক্যাল সিম্পটম ম্যানেজমেন্ট

পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের মূল চিকিৎসা থেরাপি হলেও, এই রোগীদের তীব্র মানসিক কষ্ট, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা কমানোর জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সঠিক মাত্রায় মানসিক রোগের ওষুধ প্রয়োগ করা।

কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা

এভয়েড্যান্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (Avoidant Personality Disorder)

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চরম সামাজিক ভীতিতে ভোগেন। তারা অন্যদের সাথে মিশতে চান, কিন্তু কেউ তাকে বিচার করবে, অপমান করবে বা প্রত্যাখ্যান করবে—এই ভয়ে তারা সমাজ থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেন।

নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (Narcissistic Personality)

এই মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদেরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তারা চান সবাই তাদের প্রশংসা করুক এবং তারা অন্যের আবেগকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই অতিরিক্ত অহংকারের আড়ালে তাদের আত্মবিশ্বাস খুবই দুর্বল থাকে এবং সামান্য সমালোচনাতেই তারা ভেঙে পড়েন।

প্যারানয়েড পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (Paranoid Personality)

এটি অমূলক সন্দেহ করার রোগ। এই রোগীরা সব সময় ভাবেন যে অন্যরা তাদের ক্ষতি করতে চাইছে বা ধোঁকা দিচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই তারা বন্ধু, স্বামী/স্ত্রী বা সহকর্মীদের সন্দেহ করেন, যার ফলে তাদের সম্পর্কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি

ডাঃ প্রিয়াঙ্কা কর অত্যন্ত সহানুভূতি ও মনোযোগের সাথে রোগীর কথা শোনেন। পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের রোগীদের নেতিবাচক আচরণগুলোর পরিবর্তন আনতে তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি পরিবারের সদস্যদেরও সঠিক পরামর্শ দেন এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করেন।

বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী

জরুরি সতর্কতা: যদি কোনো রোগীর মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা থেকে আত্মহত্যার প্রবল ইচ্ছা দেখা দেয়, নিজেকে মারাত্মকভাবে আঘাত করার প্রবণতা তৈরি হয়, অমূলক সন্দেহের কারণে চরম আক্রমণাত্মক আচরণ করে, অথবা মাদক ছাড়ার পর তীব্র শারীরিক কষ্ট বা খিঁচুনি শুরু হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ

  • সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)

  • সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সাইকিয়াট্রিস্টস (BAP)

রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি

  • পূর্বের করা সাইকিয়াট্রিক প্রেসক্রিপশন, সাইকোলজিক্যাল টেস্ট বা কাউন্সেলিং নোট সাথে আনুন।

  • বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা (বিশেষ করে অতীত মানসিক রোগের ওষুধ) সাথে রাখুন।

  • রোগীর আচরণ, মানুষের সাথে সম্পর্কের জটিলতা এবং মেজাজ পরিবর্তনের কারণগুলো একটি ডায়রিতে লিখে আনলে ভালো হয়।

  • পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস দেওয়ার জন্য পরিবারের একজন বিশ্বস্ত সদস্যকে সাথে আনুন।

Last Modified: October 22, 2026

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা

এভয়েড্যান্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার এবং সাধারণ লাজুকতার মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

সাধারণ লাজুক মানুষ নতুন পরিবেশে কিছুটা নার্ভাস বোধ করলেও তারা সামাজিক কাজ চালিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু এভয়েড্যান্ট পার্সোনালিটি হলো একটি মারাত্মক মানসিক অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি মানুষের সাথে মিশতে চাইলেও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বা অপমানিত হওয়ার তীব্র আতঙ্কে পুরোপুরি একাকী জীবনযাপন করেন, যা তার ক্যারিয়ার ও জীবনকে স্থবির করে দেয়।

ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা) কীভাবে চিকিৎসা করা হয়?

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না এবং সব সময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকেন। এর চিকিৎসায় মূলত কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) ব্যবহার করা হয়। থেরাপির মাধ্যমে রোগীকে ধীরে ধীরে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস জোগাতে সাহায্য করা হয়।

নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের (NPD) রোগীরা কি থেরাপির মাধ্যমে আদৌ পরিবর্তন হতে পারে?

হ্যাঁ, পরিবর্তন সম্ভব, তবে এটি বেশ কঠিন। কারণ এই রোগীরা সাধারণত মানতেই চান না যে তাদের কোনো সমস্যা আছে। স্কিমা থেরাপির মাধ্যমে তাদের অহংকারের পেছনের দুর্বল আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করা হয়। রোগীর যদি পরিবর্তনের সদিচ্ছা থাকে, তবে দীর্ঘমেয়াদী থেরাপিতে তারা অন্যের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে শিখতে পারেন।

হিস্ট্রিওনিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?

হিস্ট্রিওনিক পার্সোনালিটির প্রধান লক্ষণ হলো সব সময় মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এরা মনোযোগ আকর্ষণের জন্য নাটকীয় আচরণ করেন, মাত্রাতিরিক্ত আবেগ দেখান এবং অন্যের কাছে আকর্ষণীয় সাজার চেষ্টা করেন। মনোযোগ না পেলে তারা মারাত্মক অস্বস্তি বা হতাশায় ভোগেন।

প্যারানয়েড পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের (অমূলক সন্দেহ) চিকিৎসা করা এত চ্যালেঞ্জিং কেন?

কারণ এই রোগের মূল লক্ষণই হলো গভীর অবিশ্বাস। এই রোগীরা মনে করেন সবাই তাদের ক্ষতি করতে চায়—এমনকি ডাক্তারকেও তারা সন্দেহ করেন। তাই চিকিৎসার শুরুতে চিকিৎসককে অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে, কোনো তর্কে না জড়িয়ে রোগীর বিশ্বাস অর্জন করতে হয়। বিশ্বাস তৈরি হওয়ার পরই কেবল থেরাপি কাজ শুরু করতে পারে।

বিষণ্ণতার (Depression) মতো রোগের চেয়ে পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারগুলো কীভাবে আলাদা?

বিষণ্ণতা বা অ্যাংজাইটি সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে (Episode) আসে এবং যায়। কিন্তু পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার হলো মানুষের চিন্তাভাবনা ও আচরণের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় ছাঁচ, যা সাধারণত বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই শুরু হয়। এটি মানুষের স্বভাবের সাথে এমনভাবে মিশে থাকে যে রোগ নির্ণয় করতে দীর্ঘমেয়াদী ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়।

পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের রোগীদের কি মাদকাসক্তির ঝুঁকি বেশি থাকে?

হ্যাঁ, অনেক বেশি থাকে। ক্লাস্টার বি (যেমন নার্সিসিস্টিক) বা ক্লাস্টার সি (যেমন এভয়েড্যান্ট) পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের রোগীরা ভেতরে তীব্র একাকীত্ব, শূন্যতা বা দুশ্চিন্তা অনুভব করেন। এই মানসিক কষ্ট থেকে সাময়িক মুক্তি পেতেই তারা অনেক সময় ড্রাগস বা অ্যালকোহলের আশ্রয় নেন। তাই মানসিক রোগ ও আসক্তি—উভয়েরই একসাথে চিকিৎসা করা জরুরি।

পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় ওষুধের ভূমিকা কী?

পার্সোনালিটি বা স্বভাব পরিবর্তন করার মতো কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই; এর মূল চিকিৎসা হলো সাইকোথেরাপি। তবে ডাঃ প্রিয়াঙ্কা কর রোগীর তীব্র কষ্ট কমানোর জন্য ওষুধ দেন। যেমন- ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটির রোগীর তীব্র বিষণ্ণতা কমাতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অথবা এভয়েড্যান্ট রোগীর সামাজিক ভীতি কমাতে অ্যাংজাইটির ওষুধ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

⭐ Patient Reviews (0)

এখনো কোনো মতামত নেই — প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

মতামত লিখুন

📞 01711 894 175 📅 অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন