এমবিবিএস, এম.ফিল (অনকোলজি), এফসিপিএস (রেডিওথেরাপি)
অনকোলজিস্ট (ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ)
🎯 অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া, ক্রনিক লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া, মাল্টিপল মাইলোমা, হজকিন লিম্ফোমা, ডিফিউজ লার্জ বি-সেল লিম্ফোমা ইত্যাদি রোগের বিশেষজ্ঞ
প্রোফাইল দেখুন →অনকোলজিস্ট (অনকোলজি)
এমবিবিএস, এমফিল (অনকোলজি)
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ
🎯 যেসব রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ: অস্টিওসারকোমা, ইউইং সারকোমা, কনড্রোসারকোমা, কর্ডোমা এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার ব্যবস্থাপনা
🎓 সহযোগী অধ্যাপক, রেডিওথেরাপি অনকোলজি বিভাগ (এক্স)
🏛️ খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা
সহযোগী অধ্যাপক, রেডিওথেরাপি অনকোলজি বিভাগ (এক্স) — খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা
ডাঃ মৃণাল কান্তি সরকার খুলনা শহরের সেরা অনকোলজিস্ট (ক্যানসার বিশেষজ্ঞ) হিসেবে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার সাথে আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। খুলনায় সেরা বোন ক্যানসার (হাড়ের ক্যানসার) এবং সারকোমা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে রোগীরা তার কাছে অস্টিওসারকোমা (Osteosarcoma), ইউইং সারকোমা (Ewing sarcoma) এবং কনড্রোসারকোমা-এর মতো মারাত্মক রোগের বিশ্বস্ত সমাধান পেয়ে থাকেন। কর্ডোমা, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার (GIST) এবং কঠিন টিউমারের রেডিওথেরাপিতে তিনি অত্যন্ত দক্ষ। তিনি নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং ৩০ বছরের অভিজ্ঞতালব্ধ কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মাধ্যমে রোগীদের অঙ্গহানি রোধ করেন এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করেন।
🏥 Khulna City Medical College & Hospital · Private Hospital
📍 ২৫/২৬, কেডিএ এভিনিউ, ময়লাপোটা স্কয়ার, খুলনা সদর, খুলনা
🕒 Visiting hours: সকাল ১০:০০টা থেকে দুপুর ২:০০টা (শুক্রবার বন্ধ)
💳 Consultation fee: ৳800
ডাঃ মৃণাল কান্তি সরকার খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রখ্যাত এক্স-অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর (সহযোগী অধ্যাপক), যার ক্যানসার চিকিৎসায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি অস্টিওসারকোমা, ইউইং সারকোমা, কনড্রোসারকোমা, কর্ডোমা এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার (GIST)-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। হাড়, মাংসপেশি এবং পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো বিরল ক্যানসারের চিকিৎসায় তিনি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
ডাঃ মৃণাল কান্তি সরকার সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ক্যানসার চিকিৎসায় তার গভীর গবেষণামূলক দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ তিনি অনকোলজিতে এম.ফিল (M.Phil in Oncology) অর্জন করেন। এই উচ্চতর ডিগ্রি প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু ক্যানসারের ওষুধ প্রয়োগেই নয়, বরং ক্যানসারের আণুবীক্ষণিক জীববিদ্যা এবং রেডিয়েশন ফিজিক্সেও সমানভাবে পারদর্শী। খুলনায় সেরা অনকোলজিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সরকারি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে তিন দশকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে হাড়ের ক্যানসারের জন্য নিওঅ্যাডজুভেন্ট কেমোথেরাপি (যাতে পা কাটতে না হয়), GIST ক্যানসারের জন্য টার্গেটেড থেরাপি (TKI), ইউইং সারকোমা ও কর্ডোমার জন্য বিশেষ রেডিওথেরাপি এবং সলিড টিউমারের আধুনিক রেডিয়েশন প্ল্যানিং। তিনি বোন এমআরআই (MRI), পিইটি-সিটি (PET-CT) স্ক্যান এবং ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি (যেমন CD117) রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নির্ভুল ক্যানসার চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | ডাঃ মৃণাল কান্তি সরকার |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | অনকোলজি (মেডিকেল ও রেডিওথেরাপি) |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | বোন ও সফট টিস্যু সারকোমা (হাড়ের ক্যানসার), GIST |
| পদবী | এক্স-অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর (রেডিওথেরাপি) |
| কর্মস্থল | খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ৩০+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি
এম.ফিল (অনকোলজি) – মাস্টার অফ ফিলোসফি ইন অনকোলজি
পদবী: এক্স-অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, রেডিওথেরাপি
কর্মস্থল: খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা-এর সাথে যুক্ত
অস্টিওসারকোমায় (হাড়ের ক্যানসার) সার্জারির আগে কড়া কেমোথেরাপি দিয়ে পা রক্ষা করা।
ইউইং সারকোমায় (শিশুদের হাড়ের ক্যানসার) বিশেষ কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি।
কনড্রোসারকোমায় (তরুণাস্থির ক্যানসার) সার্জারি এবং রেডিওথেরাপির গাইডলাইন।
কর্ডোমায় (মেরুদণ্ড ও মাথার খুলির বিরল ক্যানসার) অত্যন্ত নিখুঁত রেডিওথেরাপি।
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমারে (GIST) বিশেষ টার্গেটেড বড়ি (Imatinib) প্রদান।
স্তন ক্যানসারে (Breast cancer) অপারেশনের পর রেডিওথেরাপি ও হরমোনাল চিকিৎসা।
ফুসফুসের ক্যানসারে (Lung cancer) কেমোরেডিয়েশন বা টার্গেটেড থেরাপি।
কোলন বা মলাশয়ের ক্যানসারে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি।
মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে অত্যন্ত নিখুঁত রেডিওথেরাপি (সেঁক)।
প্রোস্টেট ক্যানসারে হরমোন থেরাপি ও লোকাল রেডিওথেরাপি।
জরায়ুমুখের ক্যানসারে (Cervical cancer) এক্সটার্নাল রেডিয়েশন ও ব্র্যাকিথেরাপি।
সফট টিস্যু সারকোমায় (মাংসপেশির ক্যানসার) সার্জারির পর রেডিওথেরাপি।
হাড়ের মেটাস্ট্যাসিসে (ক্যানসার হাড়ে ছড়ালে) দ্রুত ব্যথা কমাতে প্যালিয়েটিভ রেডিয়েশন।
ব্রেইন মেটাস্ট্যাসিসে (ক্যানসার ব্রেইনে ছড়ালে) হোল-ব্রেইন রেডিয়েশন।
বোন ও সফট টিস্যু সারকোমা: হাড়, মাংসপেশি এবং কার্টিলেজের অত্যন্ত বিরল ক্যানসারগুলোর আধুনিক চিকিৎসা প্রদান করা, যেখানে অর্থোপেডিক সার্জনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে রোগীর পা বা হাত না কেটেই ক্যানসার দূর করা হয়।
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল ক্যানসার (GIST): পেটের পরিপাকতন্ত্রের এই বিরল টিউমারগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণ কেমোর বদলে আধুনিক টার্গেটেড ডিএনএ-লেভেল থেরাপির ব্যবহার।
জেনারেল রেডিওথেরাপি ও মেডিকেল অনকোলজি: ৩০ বছরের অভিজ্ঞতায় কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ ক্যানসারের নিবিড় চিকিৎসা।
অস্টিওসারকোমার মতো ভয়ংকর হাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে ডাঃ সরকার সার্জারির আগে কড়া কেমোথেরাপি (Neoadjuvant) দেন। এর ফলে টিউমারটি শুকিয়ে ছোট হয়ে আসে এবং আশপাশের রক্তনালী ও স্নায়ু থেকে আলাদা হয়ে যায়। এর ফলে পরবর্তীতে সার্জনরা রোগীর পা বা হাত না কেটেই শুধুমাত্র ক্যানসারযুক্ত হাড়টি ফেলে দিয়ে সেখানে মেটালের হাড় বসাতে পারেন। একে লিম্ব-সালভেজ সার্জারি (Limb-salvage surgery) বলে।
সাধারণ পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো GIST ক্যানসার সাধারণ কেমোথেরাপিতে কাজ করে না। ডাঃ সরকার এর জন্য যুগান্তকারী টার্গেটেড ওষুধ (যেমন ইমাটিনিব/Imatinib) ব্যবহার করেন। এই ওষুধটি সরাসরি ক্যানসার কোষের ভেতরে ঢুকে মিউটেশন হওয়া জিনটিকে (KIT জিন) ব্লক করে দেয়, যার ফলে কেমোথেরাপির ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ক্যানসার থেমে যায়।
হাড়ের ক্যানসার বা অন্য ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়লে রোগীর অসহ্য ব্যথা হয় এবং হাড় ভেতর থেকে ফাঁপা হয়ে যায়। ডাঃ সরকার থ্রি-ডি (3D) ইমেজিং ব্যবহার করে টিউমার বরাবর নিখুঁত রেডিওথেরাপি বা সেঁক দেন। এটি দ্রুত ক্যানসার কোষ মেরে ফেলে, যার ফলে জাদুর মতো ব্যথা কমে যায় এবং দুর্বল হাড়টি ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
এটি হাড়ের সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার, যা মূলত টিনএজার বা কম বয়সী ছেলেমেয়েদের বেশি হয়, বিশেষ করে যখন তারা দ্রুত লম্বা হতে থাকে। এটি সাধারণত হাঁটুর আশপাশের হাড়ে হয়। রোগী রাতে প্রচণ্ড হাড়ের ব্যথা অনুভব করেন এবং সেখানে ফুলে যায়। যেহেতু এই ক্যানসার খুব দ্রুত ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে, তাই সার্জারির পাশাপাশি কড়া কেমোথেরাপি নেওয়া শতভাগ বাধ্যতামূলক।
এটি হাড় এবং হাড়ের চারপাশের নরম টিস্যুর একটি অত্যন্ত বিরল ও দ্রুত বর্ধনশীল ক্যানসার, যা মূলত শিশু এবং তরুণদের হয়। এটি সাধারণত কোমরের হাড় (Pelvis), ঊরুর হাড় বা পাঁজরে হয়। অস্টিওসারকোমার বিপরীতে, ইউইং সারকোমা রেডিওথেরাপি বা সেঁকের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর চিকিৎসায় কড়া কেমোথেরাপি, সার্জারি এবং রেডিওথেরাপির একটি দীর্ঘ ও কষ্টকর সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।
এটি পরিপাকতন্ত্রের এক ধরনের বিরল সারকোমা বা টিউমার, যা সাধারণত পাকস্থলী বা ছোট অন্ত্রে হয়। এই টিউমারগুলো অনেক সময় নীরবে বড় হতে থাকে, যতক্ষণ না রোগীর রক্তবমি হয়, রক্তশূন্যতা দেখা দেয় বা পেটে বড় চাকা অনুভব করেন। আধুনিক টার্গেটেড থেরাপি আবিষ্কারের পর থেকে এই রোগের চিকিৎসায় বিপ্লব এসেছে, যা ক্যানসারের বৃদ্ধির সিগন্যাল বন্ধ করে দেয়।
ডাঃ মৃণাল কান্তি সরকার তার তিন দশকের ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞা দিয়ে ক্যানসারের মতো জীবনঘাতী রোগের বিরুদ্ধে মাল্টিডিসিপ্লিনারি বা সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর জোর দেন। বিশেষ করে হাড়ের ক্যানসারে পা রক্ষা করার জন্য তিনি অর্থোপেডিক অনকোলজি সার্জনদের সাথে কাজ করেন এবং জেনেটিক মিউটেশনের জন্য সর্বাধুনিক টার্গেটেড থেরাপি ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করেন।
জরুরি সতর্কতা: যদি হাড়ের ব্যথায় ভোগা কোনো রোগী হঠাৎ করে সেই পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে না পারেন বা হাড় মটকে যাওয়ার শব্দ পান (ক্যানসার হাড় খেয়ে ফেলায় হাড় ভেঙে যাওয়া), কেমোথেরাপি চলাকালীন রোগীর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর (১০০.৪° ফারেনহাইটের ওপরে) আসে, অথবা পেটে চাকা থাকা কোনো রোগীর হঠাৎ রক্তবমি বা কালো পায়খানা শুরু হয় (GIST থেকে ব্লিডিং), তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
সদস্য, অনকোলজি ক্লাব, বাংলাদেশ
এক্স-অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার
পূর্বের করা যেকোনো বায়োপসি রিপোর্ট, ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি (IHC) মার্কার (বিশেষ করে GIST এর জন্য CD117), পিইটি-সিটি (PET-CT) স্ক্যান, এবং আক্রান্ত হাড়ের সাম্প্রতিক এমআরআই (MRI) ফিল্ম সাথে আনুন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন, এবং পূর্বে যদি কোনো কেমোথেরাপি বা সার্জারি হয়ে থাকে, তবে তার ছাড়পত্র (Discharge paper) অবশ্যই আনবেন।
হাড়ের ব্যথা কখন হয় (যেমন রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া), অস্বাভাবিক ওজন কমা বা রক্তক্ষরণের বিষয়গুলো ডায়রিতে লিখে আনলে চিকিৎসকের বুঝতে সুবিধা হয়।
সারকোমা ক্যানসারের পরামর্শ ও সার্জারি পদ্ধতি অনেক জটিল হয়, তাই সবকিছু লিখে রাখার জন্য অবশ্যই পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সদস্যকে সাথে আনবেন।
Last Modified: October 27, 2026
কার্সিনোমা হলো সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার (যেমন স্তন, ফুসফুস বা কোলন ক্যানসার) যা ত্বক বা ভেতরের অঙ্গগুলোর আবরণী থেকে তৈরি হয়। অন্যদিকে সারকোমা হলো অত্যন্ত বিরল ক্যানসার যা শরীরের কানেক্টিভ টিস্যু—যেমন হাড়, মাংসপেশি, তরুণাস্থি (কার্টিলেজ), চর্বি বা রক্তনালী থেকে তৈরি হয়। এদের প্রকৃতি ভিন্ন হওয়ায় সারকোমার চিকিৎসার জন্য বিশেষ অনকোলজিস্টের প্রয়োজন হয়।
অস্টিওসারকোমা সেই কোষগুলো থেকে তৈরি হয় যেগুলো নতুন হাড় তৈরি করে। বয়ঃসন্ধিকালে যখন ছেলেমেয়েরা খুব দ্রুত লম্বা হতে থাকে, তখন তাদের হাড়ের কোষগুলো খুব দ্রুত বিভাজিত হয় (বিশেষ করে হাঁটুর কাছে)। কোষের এই দ্রুত ও বিশৃঙ্খল বিভাজনের সময় জেনেটিক ভুল হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা থেকে হাড়ের ক্যানসার হতে পারে।
মাস্টার অফ ফিলোসফি (M.Phil) ইন অনকোলজি একটি উচ্চতর গবেষণামূলক স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। এই ডিগ্রি প্রমাণ করে যে, ডাঃ সরকার ক্যানসারের আণুবীক্ষণিক জীববিদ্যা, প্যাথলজি এবং মলিকুলার গঠনের ওপর গভীর গবেষণা করেছেন, যা তাকে ক্যানসার কীভাবে আচরণ করে এবং রেডিওথেরাপি ও ওষুধে কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে প্রগাঢ় জ্ঞান দিয়েছে।
কয়েক দশক আগে পা কেটে ফেলাই (Amputation) ছিল একমাত্র চিকিৎসা। কিন্তু বর্তমানে ডাঃ সরকারের মতো চিকিৎসকরা সার্জারির আগেই কড়া 'নিওঅ্যাডজুভেন্ট' কেমোথেরাপি দেন, যা টিউমারটিকে অনেক ছোট করে ফেলে। এর ফলে অর্থোপেডিক সার্জনরা ক্যানসারযুক্ত হাড়টি কেটে সেখানে মেটালের হাড় বসিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীর পা বা হাত রক্ষা করতে পারেন।
দুটিই কম বয়সীদের হাড়ের ক্যানসার হলেও এদের জীববিদ্যা ভিন্ন। ইউইং সারকোমা অনেক বেশি বিরল, এটি মূলত কোমরের হাড় বা পাঁজরে বেশি হয় এবং এটি রেডিওথেরাপি বা সেঁকের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল (খুব ভালো কাজ করে)। অন্যদিকে অস্টিওসারকোমা সাধারণত রেডিওথেরাপিতে কাজ করে না এবং এর জন্য সার্জারি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কর্ডোমা হলো অত্যন্ত বিরল ও ধীরগতির হাড়ের ক্যানসার যা মাথার খুলির নিচ থেকে শুরু করে মেরুদণ্ডের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। এটি চিকিৎসা করা অত্যন্ত কঠিন কারণ এটি স্পাইনাল কর্ড (মেরুদণ্ডের রগ) এবং ব্রেইনের গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুগুলোকে পেঁচিয়ে ধরে তৈরি হয়। রোগীকে প্যারালাইজড না করে টিউমারের বৃদ্ধি থামাতে অত্যন্ত নিখুঁত হাই-ডোজ রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়।
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার (GIST) প্রাকৃতিকভাবেই সাধারণ কেমোথেরাপির ওষুধগুলোকে প্রতিহত করতে পারে, তাই কেমো দিলে কাজ হয় না। তবে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে GIST একটি নির্দিষ্ট জেনেটিক মিউটেশনের (KIT জিন) কারণে বাড়ে। বর্তমানে ইমাটিনিবের (Imatinib) মতো টার্গেটেড থেরাপি বা বড়ি দিয়ে এই জিনকে সরাসরি ব্লক করে দিলে ক্যানসার জাদুর মতো থেমে যায়।
একটি সুস্থ হাড় সাধারণত বড় কোনো দুর্ঘটনা (যেমন সড়ক দুর্ঘটনা) ছাড়া ভাঙে না। কিন্তু প্যাথলজিক্যাল ফ্র্যাকচার হলো সামান্য আঘাত, হোঁচট খাওয়া বা এমনকি শুধু হাঁটার সময় হাড় ভেঙে যাওয়া। ক্যানসার (যেমন অস্টিওসারকোমা) যখন হাড়ের ভেতরটা খেয়ে ফাঁপা, পাতলা ও চরম দুর্বল করে দেয়, তখনই এমন ঘটনা ঘটে।
এখনো কোনো মতামত নেই — প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।