অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী – খুলনার মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ
অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ, খুলনা-এর একজন প্রখ্যাত অধ্যাপক ও সাইকোলজিস্ট, যার মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিংয়ে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি, অ্যাকসেপ্টেন্স কমিটমেন্ট থেরাপি, ডায়ালেক্টিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি, মাইন্ডফুলনেস এবং সাইকোডায়নামিক থেরাপি-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক থেরাপির মাধ্যমে রোগীদের আবেগ ও আচরণের সুস্থতা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী দেশের শীর্ষস্থানীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU) থেকে সাইকোলজিতে (মনোবিজ্ঞান) সফলতার সাথে বি.এসসি (অনার্স) এবং এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ২২তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে যোগদান করে তার একাডেমিক দক্ষতার প্রমাণ দেন। মানসিক থেরাপিতে নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে তিনি CBT, DBT এবং সোশ্যাল স্কিল ট্রেনিংয়ের ওপর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। খুলনায় সেরা সাইকোলজিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সরকারি কলেজের দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতা এবং মনস্তাত্ত্বিক দক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে CBT-এর মাধ্যমে নেতিবাচক চিন্তাধারা পরিবর্তন, DBT-এর মাধ্যমে তীব্র আবেগ নিয়ন্ত্রণ, ACT-এর সাহায্যে জীবনের মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ তৈরি এবং সাইকোডায়নামিক থেরাপির মাধ্যমে অতীতের গভীর মানসিক ট্রমা নিরসন। তিনি বিস্তারিত ক্লিনিক্যাল ইন্টারভিউ এবং সাইকোমেট্রিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে নির্ভুল থেরাপি পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | সাইকোলজি (মনোবিজ্ঞান) ও মানসিক স্বাস্থ্য |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | বিহেভিয়ারাল থেরাপি, সাইকোথেরাপি ও সোশ্যাল স্কিল ট্রেনিং |
| পদবী | অধ্যাপক (সাইকোলজি / সাইকিয়াট্রি) |
| কর্মস্থল | সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ, খুলনা খুলনা ইনিউভার্সিটি |
| মোট অভিজ্ঞতা | ২০+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
বি.এসসি (অনার্স) – ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন সাইকোলজি
এম.এসসি (সাইকোলজি, DU) – মাস্টার অব সায়েন্স (মনোবিজ্ঞান), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২২তম বিসিএস (শিক্ষা) – বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শিক্ষা ক্যাডার)
অ্যাডভান্সড ট্রেনিং – CBT, DBT, সোশ্যাল স্কিল ও মাইন্ডফুলনেস-ভিত্তিক থেরাপি
পদবী ও কর্মস্থল
যে সকল মানসিক সমস্যার চিকিৎসা করা হয়
তীব্র বিষণ্ণতায় (Depression) কগনিটিভ-বিহেভিয়ারাল পরিবর্তন প্রয়োজন।
আবেগ নিয়ন্ত্রণের অভাবে ডায়ালেক্টিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি (DBT) লাগে।
দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ ও স্ট্রেস কমাতে মাইন্ডফুলনেস-ভিত্তিক চিকিৎসা।
শৈশবের গভীর ট্রমা কাটাতে সাইকোডায়নামিক থেরাপি প্রয়োজন।
মূল্যবোধ ও আচরণের দ্বন্দ্বে অ্যাকসেপ্টেন্স কমিটমেন্ট থেরাপি (ACT) লাগে।
সামাজিক ভীতি (Social anxiety) দূর করতে সোশ্যাল স্কিল ট্রেনিং।
অবসেসিভ-কম্পালসিভ (OCD) আচরণে এক্সপোজার থেরাপি প্রয়োজন।
নির্দিষ্ট বস্তুর ভীতি (Phobia) কাটাতে সিস্টেমেটিক ডিসেনসিটাইজেশন।
রাগ নিয়ন্ত্রণের (Anger management) সমস্যায় ইমপালস কন্ট্রোল থেরাপি।
কর্মক্ষেত্রের মানসিক ক্লান্তি (Burnout) দূর করতে রেজিলিয়েন্স কোচিং।
আত্মবিশ্বাসের অভাবে কগনিটিভ রিফ্রেমিং ও সেলফ-কম্প্যাশন ট্রেনিং।
দাম্পত্য ও সম্পর্কের দ্বন্দ্বে কমিউনিকেশন স্কিলস থেরাপি।
প্রিয়জন হারানোর শোকে (Grief) মানসিক সাপোর্টিভ কাউন্সেলিং।
বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি সমস্যায় নিবিড় DBT প্রটোকল প্রয়োজন।
জীবনের নতুন পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে (Adjustment) বিশেষ থেরাপি।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
এভিডেন্স-বেসড সাইকোথেরাপি: বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং ব্যক্তিত্বের সমস্যা দূর করতে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) এবং ডায়ালেক্টিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপির (DBT) প্রয়োগ।
মাইন্ডফুলনেস ও অ্যাকসেপ্টেন্স থেরাপি: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং অস্তিত্বের সংকট নিরসনে ACT এবং মাইন্ডফুলনেস প্রটোকলের নিখুঁত ব্যবহার।
সাইকোডায়নামিক ও ইন্টারপার্সোনাল কাউন্সেলিং: মানুষের অবচেতন মন এবং শৈশবের স্মৃতি বিশ্লেষণ করে বারবার ঘটে চলা নেতিবাচক আচরণের কারণ খুঁজে বের করা।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT)
এটি একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সময়ভিত্তিক সাইকোলজিক্যাল থেরাপি। মানুষ অনেক সময় নেতিবাচক চিন্তার ফাঁদে আটকে যায় যা তার আচরণ ও আবেগকে ধ্বংস করে দেয়। CBT-এর মাধ্যমে রোগীকে সেই ভুল চিন্তাধারাগুলো (Cognitive distortions) শনাক্ত করতে এবং যুক্তির মাধ্যমে তা পরিবর্তন করতে শেখানো হয়।
ডায়ালেক্টিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি (DBT)
যেসব রোগী তাদের আবেগ একদমই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না এবং কথায় কথায় মারাত্মক রেগে যান বা নিজেকে আঘাত করেন, তাদের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী থেরাপি। এতে মাইন্ডফুলনেস, মানসিক কষ্ট সহ্য করা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার চারটি মূল কৌশল শেখানো হয়।
অ্যাকসেপ্টেন্স অ্যান্ড কমিটমেন্ট থেরাপি (ACT)
এই থেরাপিতে রোগীকে তার নেতিবাচক আবেগ বা ভয়ের সাথে যুদ্ধ না করে বরং তা মেনে নিতে (Acceptance) শেখানো হয়। এরপর রোগীকে তার জীবনের নিজস্ব মূল্যবোধ অনুযায়ী কাজ করার (Commitment) মানসিক শক্তি জোগানো হয়, যাতে ভয় থাকা সত্ত্বেও তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
আবেগ নিয়ন্ত্রণহীনতা (Emotion Dysregulation)
এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে ব্যক্তি কোনো ঘটনা বা কথার প্রতিক্রিয়ায় নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। এর ফলে মেজাজ চরমভাবে ওঠানামা করে, হঠাৎ রাগের বিস্ফোরণ ঘটে এবং মানুষের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়। থেরাপির মাধ্যমে তাদের কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ানো হয়।
দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ ও প্যানিক (Chronic Anxiety)
এটি হলো দৈনন্দিন কাজকর্মে সারাক্ষণ অমূলক ভয় বা দুশ্চিন্তা কাজ করা। এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে না, তবে এটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে অচল করে দেয়। সাইকোলজিস্টরা কগনিটিভ রিফ্রেমিং এবং রিলাক্সেশন টেকনিকের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করেন।
ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন (তীব্র বিষণ্ণতা)
এটি গভীর হতাশা এবং জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার একটি মানসিক অবস্থা। সাইকিয়াট্রিস্টরা যেখানে ওষুধ দিয়ে ব্রেইনের কেমিক্যাল ঠিক করেন, সেখানে একজন সাইকোলজিস্ট থেরাপির মাধ্যমে রোগীর মনের নেতিবাচক চিন্তার জট ছাড়িয়ে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করেন।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী অত্যন্ত সহানুভূতি ও মনোযোগের সাথে রোগীর কথা শোনেন। তিনি কোনো ধরনের বিচার বা জাজমেন্ট ছাড়াই রোগীর জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেন। তার মূল লক্ষ্য থাকে রোগীকে বাস্তবসম্মত মানসিক কৌশলগুলো শিখিয়ে দেওয়া, যাতে একসময় রোগী নিজেই নিজের থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি কোনো রোগী আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে বা প্রকাশ করে, নিজেকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে, বাস্তব জগত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় (সাইকোসিস বা হ্যালুসিনেশন), অথবা মানসিক কষ্টের কারণে সম্পূর্ণ খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইমার্জেন্সি সাইকিয়াট্রিস্ট বা হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (BPA)
বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডার অফিসার
অ্যালামনাই, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা আইকিউ টেস্ট (IQ test) বা যেকোনো সাইকোলজিক্যাল অ্যাসেসমেন্টের রিপোর্ট সাথে আনুন।
বর্তমানে যদি কোনো সাইকিয়াট্রিস্টের দেওয়া মানসিক রোগের ওষুধ সেবন করে থাকেন, তবে তার তালিকা অবশ্যই সাথে রাখবেন।
রাগ, দুশ্চিন্তা বা বিষণ্ণতা কখন বেশি হয়, তার কারণগুলো একটি ডায়রিতে লিখে আনলে থেরাপিতে অনেক সুবিধা হয়।
থেরাপিতে সম্পূর্ণ সততা প্রয়োজন, তাই নিজের অতীত ইতিহাস নিয়ে মন খুলে কথা বলার প্রস্তুতি নিয়ে আসুন।
Last Modified: October 24, 2026