সহকারী অধ্যাপক ডাঃ দেবাশীষ কুমার ঘোষ – খুলনার থাইরয়েড, হরমোন, ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ দেবাশীষ কুমার ঘোষ খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের একজন প্রখ্যাত সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং বিরল হরমোন রোগের চিকিৎসায় তার ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি অটোইমিউন পলিগ্ল্যান্ডুলার সিনড্রোম, সিউডোহাইপোপ্যারাথাইরয়েডিজম, ম্যাককিউন-অ্যালব্রাইট সিনড্রোম, পেনড্রেড সিনড্রোম এবং উলফ্রাম সিনড্রোম-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। হরমোন গ্রন্থির যেকোনো জটিল অবস্থা, জেনেটিক সিনড্রোম এবং ইন্টারনাল মেডিসিনের ক্ষেত্রে তিনি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
ডাঃ দেবাশীষ কুমার ঘোষ সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগদান করেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত সম্মানজনক কয়েকটি ডিগ্রি অর্জন করেন। ইন্টারনাল মেডিসিনে তার গভীর দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ তিনি এফসিপিএস (FCPS in Medicine) অর্জন করেন এবং যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস-এর সদস্যপদ (MRCP, UK) লাভ করেন। এরপর তিনি এন্ডোক্রাইনোলজিতে সর্বোচ্চ ক্লিনিক্যাল ডিগ্রি ডক্টর অব মেডিসিন (MD in Endocrinology) সম্পন্ন করেন। খুলনায় সেরা এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সরকারি হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং এমআরসিপি (MRCP) ও এফসিপিএস (FCPS) এর মতো আন্তর্জাতিক মানের ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে অটোইমিউন পলিগ্ল্যান্ডুলার সিনড্রোমের জন্য মাল্টি-হরমোন রিপ্লেসমেন্ট, সিউডোহাইপোপ্যারাথাইরয়েডিজমের জন্য বিশেষ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ব্যবস্থাপনা, ম্যাককিউন-অ্যালব্রাইট সিনড্রোমের হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং উলফ্রাম ও পেনড্রেড সিনড্রোমের মতো জেনেটিক রোগের সমন্বিত চিকিৎসা। তিনি আধুনিক ডায়নামিক এন্ডোক্রাইন টেস্টিং, জেনেটিক ফেনোটাইপিং এবং হরমোন প্রোফাইলিংয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ভুল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | সহকারী অধ্যাপক ডাঃ দেবাশীষ কুমার ঘোষ |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন) |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | ইন্টারনাল মেডিসিন ও বিরল জেনেটিক হরমোন সিনড্রোম |
| পদবী | সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (এন্ডোক্রাইনোলজি) |
| কর্মস্থল | খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ১২+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি
বিসিএস (স্বাস্থ্য) – বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য ক্যাডার)
এফসিপিএস (মেডিসিন) – ফেলো অব দ্য বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস
এমআরসিপি (ইউকে) – মেম্বার অব দ্য রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস, যুক্তরাজ্য (MRCP, UK)
এমডি (এন্ডোক্রাইনোলজি) – ডক্টর অব মেডিসিন (এন্ডোক্রাইনোলজি)
পদবী ও কর্মস্থল
পদবী: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (এন্ডোক্রাইনোলজি)
কর্মস্থল: এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা
যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়
অটোইমিউন পলিগ্ল্যান্ডুলার সিনড্রোমে (APS) একাধিক হরমোনের নিখুঁত রিপ্লেসমেন্ট।
সিউডোহাইপোপ্যারাথাইরয়েডিজমে বিশেষ ক্যালসিয়াম ও অ্যাকটিভ ভিটামিন ডি চিকিৎসা।
ম্যাককিউন-অ্যালব্রাইট সিনড্রোমে অকাল বয়ঃসন্ধি ও হাড়ের ত্রুটির বিশেষ ব্যবস্থাপনা।
পেনড্রেড সিনড্রোমে থাইরয়েড (গয়টার) ও শ্রবণশক্তির সমস্যার সমন্বিত চিকিৎসা।
উলফ্রাম সিনড্রোমে (DIDMOAD) ডায়াবেটিস ও স্নায়বিক সমস্যার নিবিড় পরিচর্যা।
টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আজীবন ইনসুলিন থেরাপি ও নিবিড় গ্লুকোজ মনিটরিং।
টাইপ ২ ডায়াবেটিসে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওষুধ এবং ইনসুলিন ব্যবস্থাপনা।
হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিসে থাইরয়েড হরমোন রিপ্লেসমেন্ট (লেভোথাইরক্সিন)।
গ্রেভস ডিজিজে অ্যান্টি-থাইরয়েড ওষুধ বা রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিনের পরামর্শ।
কুশিং সিনড্রোমে বিশেষ হরমোন পরীক্ষা ও কর্টিসোল কমানোর চিকিৎসা।
পিটুইটারি অ্যাডেনোমায় (ব্রেইনের হরমোন গ্রন্থির টিউমার) বিশেষ ওষুধের প্রয়োগ।
অ্যাডিসনস ডিজিজে (অ্যাড্রেনাল হরমোনের অভাব) জীবন রক্ষাকারী স্টেরয়েড থেরাপি।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে (PCOS) হরমোনের ভারসাম্য ও মেটাবলিক চিকিৎসা।
প্রাইমারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজমে ক্যালসিয়াম ও মেটাবলিক মনিটরিং।
অস্টিওপোরোসিসে (হাড়ের ভঙ্গুরতা) বোন ডেনসিটি মূল্যায়ন ও হাড় শক্ত করার ওষুধ।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
বিরল জেনেটিক ও সিনড্রোমিক এন্ডোক্রাইনোলজি: এমন সব জটিল জন্মগত বা জেনেটিক রোগ যা শরীরের একাধিক সিস্টেমকে (যেমন চোখ, কান, হাড় ও হরমোন) একসাথে নষ্ট করে দেয় (যেমন উলফ্রাম, পেনড্রেড, ম্যাককিউন-অ্যালব্রাইট), তার সর্বোচ্চ একাডেমিক ও আধুনিক চিকিৎসা।
অটোইমিউন মাল্টি-গ্ল্যান্ড রোগ: ইমিউন সিস্টেম যখন একসাথে শরীরের অনেকগুলো হরমোন গ্রন্থিকে (যেমন প্যানক্রিয়াস, থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল) ধ্বংস করে দেয়, সেই প্রাণঘাতী অবস্থার নিবিড় ও নিখুঁত ব্যবস্থাপনা।
অ্যাডভান্সড ইন্টারনাল মেডিসিন ও ডায়াবেটোলজি: এমআরসিপি (MRCP) ও এফসিপিএস (FCPS) ডিগ্রির আলোকে পুরো শরীরের সিস্টেম বিবেচনা করে জটিল ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগীদের সমন্বিত চিকিৎসা প্রদান।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
কমপ্লেক্স সিনড্রোমিক ফেনোটাইপিং ও ডায়নামিক টেস্টিং
সিউডোহাইপোপ্যারাথাইরয়েডিজম বা ম্যাককিউন-অ্যালব্রাইটের মতো বিরল সিনড্রোমগুলো সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। ডাঃ ঘোষ রোগীর শারীরিক ও গঠনগত লক্ষণ (ফেনোটাইপিং) গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং ডায়নামিক হরমোন টেস্টের মাধ্যমে নির্ণয় করেন যে ঠিক কোন জেনেটিক কারণে শরীরের হরমোনগুলো কাজ করতে পারছে না বা অতিরিক্ত কাজ করছে।
মাল্টি-হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি প্রটোকল
অটোইমিউন পলিগ্ল্যান্ডুলার সিনড্রোমে (APS) রোগীর শরীর একসাথে ইনসুলিন, কর্টিসোল এবং থাইরয়েড হরমোন তৈরি করা বন্ধ করে দিতে পারে। ডাঃ ঘোষ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে একসাথে একাধিক হরমোনের ওষুধের ডোজ এমনভাবে নির্ধারণ করেন, যা শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দকে হুবহু নকল করে এবং রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়।
বোন মিনারেল ও ক্যালসিয়াম এক্সিস অপ্টিমাইজেশন
প্যারাথাইরয়েড রেজিস্ট্যান্সের কারণে রক্তে ক্যালসিয়াম মারাত্মকভাবে কমে গেলে রোগীর খিঁচুনি হতে পারে। ডাঃ ঘোষ এসব ক্ষেত্রে সাধারণ ক্যালসিয়ামের বদলে শক্তিশালী 'অ্যাকটিভ ভিটামিন ডি' (Calcitriol) এবং বিশেষ ওষুধের মাধ্যমে রক্তের ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিরাপদ পর্যায়ে রাখেন এবং হাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করেন।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
অটোইমিউন পলিগ্ল্যান্ডুলার সিনড্রোম (APS)
এটি একটি ভয়ংকর বিরল অটোইমিউন রোগ, যেখানে ইমিউন সিস্টেম একে একে শরীরের একাধিক হরমোন গ্রন্থিকে ধ্বংস করে দেয়। যেমন, একজন রোগীর একই সাথে টাইপ ১ ডায়াবেটিস, অ্যাডিসনস ডিজিজ (অ্যাড্রেনাল ফেইলিউর) এবং থাইরয়েড ফেইলিউর থাকতে পারে। এর চিকিৎসায় চরম সতর্কতার প্রয়োজন হয়, কারণ একটি হরমোনের চিকিৎসা করার সময় অন্যটির প্রতি খেয়াল না রাখলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
উলফ্রাম সিনড্রোম (Wolfram Syndrome / DIDMOAD)
এটি একটি মারাত্মক জেনেটিক রোগ। এর আরেক নাম DIDMOAD, যা এর প্রধান লক্ষণগুলোকে প্রকাশ করে: Diabetes Insipidus (বহুমূত্র), Diabetes Mellitus (ব্লাড সুগার), Optic Atrophy (দৃষ্টিশক্তি হারানো) এবং Deafness (শ্রবণশক্তি হারানো)। শৈশবে ডায়াবেটিস দিয়ে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে রোগী অন্ধ ও বধির হতে থাকেন। এর জন্য অত্যন্ত দক্ষ এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের অধীনে নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন।
সিউডোহাইপোপ্যারাথাইরয়েডিজম (Pseudohypoparathyroidism)
এটি একটি জেনেটিক রোগ যেখানে শরীর পর্যাপ্ত প্যারাথাইরয়েড হরমোন (PTH) তৈরি করে ঠিকই, কিন্তু কিডনি এবং হাড় সেই হরমোনের সিগন্যাল গ্রহণ করতে পারে না (রেজিস্ট্যান্স)। এর ফলে রক্তে ক্যালসিয়াম বিপজ্জনকভাবে কমে যায়। এই রোগীদের শারীরিক গঠনও একটু ভিন্ন হয়, যেমন তারা সাধারণত খাটো হন এবং তাদের হাতের চতুর্থ ও পঞ্চম আঙুল ছোট হয়।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ দেবাশীষ কুমার ঘোষ তার ইন্টারনাল মেডিসিনের (MRCP, FCPS) গভীর জ্ঞানের সাথে এন্ডোক্রাইনোলজির (MD) দক্ষতাকে চমৎকারভাবে সমন্বয় করেন। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তিনি বিরল জেনেটিক সিনড্রোমগুলো নির্ণয়ে অত্যন্ত পদ্ধতিগত ও গবেষণামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং জটিল রোগীদের সারাজীবন সুস্থ রাখার জন্য একটি নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি অটোইমিউন সিনড্রোমের কোনো রোগীর হঠাৎ প্রচণ্ড দুর্বলতা, বমি এবং ব্লাড প্রেসার মারাত্মকভাবে কমে যায় (অ্যাড্রেনাল ক্রাইসিস), ক্যালসিয়াম জনিত রোগের কোনো রোগীর হঠাৎ হাত-পা বাঁকা হয়ে খিঁচুনি শুরু হয় (টিট্যানি/Tetany), অথবা ডায়াবেটিস রোগীর নিঃশ্বাসে ফলের মতো গন্ধ বের হয় ও আবলতাবল বকতে থাকে (DKA), তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
মেম্বার, রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস, যুক্তরাজ্য (MRCP, UK)
ফেলো, বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (FCPS)
সদস্য, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি (BES)
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা রক্তের রিপোর্ট (বিশেষ করে Fasting সুগার, সম্পূর্ণ হরমোন প্যানেল, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং PTH লেভেল) এবং যেকোনো জেনেটিক পরীক্ষার রিপোর্ট সাথে আনুন।
সিনড্রোমিক রোগের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিশেষজ্ঞের রিপোর্ট (যেমন পেনড্রেড বা উলফ্রাম সিনড্রোমের জন্য চোখ বা কানের পরীক্ষার রিপোর্ট) অবশ্যই সাথে আনবেন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন, বিশেষ করে হরমোন বা স্টেরয়েডের সঠিক ডোজটি চিকিৎসককে জানাবেন।
পেশীর তীব্র খিঁচুনি, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলো একটি ডায়রিতে লিখে আনলে চিকিৎসকের বুঝতে সুবিধা হয়।
Last Modified: October 25, 2026