সহকারী অধ্যাপক ডাঃ তন্ময় রেজা মাসুম – খুলনার সেরা এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ তন্ময় রেজা মাসুম খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের একজন প্রখ্যাত সহকারী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট, যার ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগের চিকিৎসায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস, গ্রেভস ডিজিজ এবং কুশিং সিনড্রোম-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। হরমোন গ্রন্থির যেকোনো জটিল, মেটাবলিক এবং অটোইমিউন অবস্থায় তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
ডাঃ তন্ময় রেজা মাসুম সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগদান করেন এবং এন্ডোক্রাইনোলজিতে সর্বোচ্চ ক্লিনিক্যাল ডিগ্রি ডক্টর অব মেডিসিন (MD in Endocrinology) অর্জন করেন। এই ডিগ্রি প্রমাণ করে যে, সাধারণ ওষুধের বাইরে গিয়ে যেসব মারাত্মক হরমোনাল ও মেটাবলিক রোগ শরীরের একাধিক অঙ্গকে আক্রমণ করে, সেসব রোগের আধুনিক চিকিৎসায় তিনি বিশেষভাবে দক্ষ। খুলনায় সেরা এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সরকারি হাসপাতালের এক দশকের অভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিক্যাল নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের জন্য ইন্টেন্সিভ ইনসুলিন ও সিজিএম (CGM) থেরাপি, হাশিমোটো ও গ্রেভস ডিজিজের জন্য অটোঅ্যান্টিবডি মনিটরিং, কুশিং সিনড্রোমের জন্য বিশেষ হরমোনাল চিকিৎসা এবং অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির জটিল সমস্যার ব্যবস্থাপনা। তিনি আধুনিক থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড, ডায়নামিক এন্ডোক্রাইন টেস্টিং এবং এইচবিএ১সি (HbA1c)-এর ওপর ভিত্তি করে নির্ভুল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | সহকারী অধ্যাপক ডাঃ তন্ময় রেজা মাসুম |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন) |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | অটোইমিউন থাইরয়েড ডিজিজ ও অ্যাড্রেনাল ডিজঅর্ডার |
| পদবী | সহকারী অধ্যাপক (এন্ডোক্রাইনোলজি) |
| কর্মস্থল | খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ১০+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি
এমডি (এন্ডোক্রাইনোলজি) – ডক্টর অব মেডিসিন (এন্ডোক্রাইনোলজি)
বিসিএস (স্বাস্থ্য) – বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য ক্যাডার)
পদবী ও কর্মস্থল
পদবী: সহকারী অধ্যাপক (এন্ডোক্রাইনোলজি)
কর্মস্থল: এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা
যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়
টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আজীবন ইনসুলিন থেরাপি ও নিবিড় গ্লুকোজ মনিটরিং।
টাইপ ২ ডায়াবেটিসে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওষুধ এবং ইনসুলিন ব্যবস্থাপনা।
হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিসে থাইরয়েড হরমোন রিপ্লেসমেন্ট (লেভোথাইরক্সিন)।
গ্রেভস ডিজিজে অ্যান্টি-থাইরয়েড ওষুধ, রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন বা সার্জারির পরামর্শ।
কুশিং সিনড্রোমে বিশেষ হরমোন পরীক্ষা ও কর্টিসোল কমানোর চিকিৎসা।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে (PCOS) হরমোনের ভারসাম্য ও মেটাবলিক চিকিৎসা।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে (Gestational diabetes) মা ও শিশুর সুরক্ষায় নিবিড় সুগার নিয়ন্ত্রণ।
হাইপোথাইরয়েডিজমে (থাইরয়েড কমে যাওয়া) থাইরক্সিন হরমোন রিপ্লেসমেন্ট।
হাইপারথাইরয়েডিজমে (থাইরয়েড বেড়ে যাওয়া) দ্রুত থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা।
পিটুইটারি অ্যাডেনোমায় (ব্রেইনের হরমোন গ্রন্থির টিউমার) বিশেষ ওষুধের প্রয়োগ।
অ্যাডিসনস ডিজিজে (অ্যাড্রেনাল হরমোনের অভাব) জীবন রক্ষাকারী স্টেরয়েড থেরাপি।
ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথিতে স্নায়ুর ব্যথা নিরাময় ও কড়া সুগার নিয়ন্ত্রণ।
অস্টিওপোরোসিসে (হাড়ের ভঙ্গুরতা) বোন ডেনসিটি মূল্যায়ন ও হাড় শক্ত করার ওষুধ।
হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজমে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর মেটাবলিক মনিটরিং।
স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনে (Obesity) হরমোন পরীক্ষা ও বিজ্ঞানসম্মত ওজন কমানোর চিকিৎসা।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
অ্যাডভান্সড ডায়াবেটোলজি: অটোইমিউন (টাইপ ১) এবং মেটাবলিক (টাইপ ২) ডায়াবেটিসের জন্য আধুনিক সিজিএম (CGM) ব্যবহার করে সুগার নিয়ন্ত্রণ এবং ডায়াবেটিসজনিত অন্ধত্ব বা কিডনি বিকল হওয়া থেকে অঙ্গ রক্ষা।
অটোইমিউন থাইরয়েডোলজি: শরীরের ইমিউন সিস্টেম যখন ভুল করে থাইরয়েড গ্রন্থিকে ধ্বংস করে দেয় (হাশিমোটো) বা মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয় (গ্রেভস ডিজিজ), তার অত্যাধুনিক চিকিৎসা।
জটিল হরমোন ও অ্যাড্রেনাল কেয়ার: ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় কুশিং সিনড্রোম বা পিটুইটারি গ্রন্থির মতো বিরল হরমোনজনিত রোগগুলোর সঠিক রোগ নির্ণয় ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনা।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং (CGM) বিশ্লেষণ
যাদের ডায়াবেটিস মারাত্মকভাবে ওঠানামা করে, ডাঃ মাসুম তাদের জন্য সিজিএম (CGM) ডেটা ব্যবহার করেন। বারবার আঙুল ফোটানোর বদলে একটি সেন্সর শরীরে লাগানো থাকে, যা ২৪ ঘণ্টা সুগারের মাত্রা রেকর্ড করে। এই ডেটা বিশ্লেষণ করে তিনি বুঝতে পারেন রাতের বেলা রোগীর সুগার ফল করছে কি না বা খাবারের পর সুগার কতটুকু বাড়ছে, যা ইনসুলিনের ডোজ নিখুঁত করতে সাহায্য করে।
ডায়নামিক এন্ডোক্রাইন টেস্টিং
হরমোন সারাদিন ওঠানামা করে, তাই অনেক সময় শুধু রক্ত পরীক্ষায় সঠিক রোগ ধরা পড়ে না। ডাঃ মাসুম কুশিং সিনড্রোম বা পিটুইটারি রোগের জন্য বিশেষ 'ডায়নামিক টেস্ট' করেন (যেমন ডেক্সামেথাসন সাপ্রেশন টেস্ট), যেখানে রোগীকে বিশেষ ওষুধ খাইয়ে দেখা হয় তার হরমোন গ্রন্থি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কি না।
অটোঅ্যান্টিবডি প্রোফাইলিং ও থাইরয়েড ম্যানেজমেন্ট
গলায় সাধারণ ঘ্যাগ বা গয়টার নাকি অটোইমিউন থাইরয়েড ডিজিজ—তা নিশ্চিত করতে ডাঃ মাসুম বিশেষ অটোঅ্যান্টিবডি টেস্টের (যেমন হাশিমোটোর জন্য Anti-TPO বা গ্রেভসের জন্য TRAb) ওপর নির্ভর করেন। এর মাধ্যমে শুধু হরমোনের ঘাটতি পূরণ নয়, বরং রোগের মূল কারণের চিকিৎসা করা হয়।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস (Hashimoto Thyroiditis)
এটি থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়ার (হাইপোথাইরয়েডিজম) সবচেয়ে বড় কারণ। এটি একটি অটোইমিউন রোগ যেখানে ইমিউন সিস্টেম ভুল করে থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। রোগীর প্রচণ্ড ক্লান্তি, অকারণে ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়া এবং শীত শীত ভাব হয়। এর জন্য আজীবন কৃত্রিম থাইরয়েড হরমোন (Levothyroxine) সেবন করতে হয়।
গ্রেভস ডিজিজ (Graves' Disease)
এটি হাশিমোটোর ঠিক বিপরীত। এই অটোইমিউন রোগে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করতে শুরু করে (হাইপারথাইরয়েডিজম)। এর ফলে রোগীর দ্রুত ওজন কমতে থাকে, বুক ধড়ফড় করে, প্রচণ্ড অস্থিরতা লাগে এবং অনেক সময় চোখ দুটো বড় হয়ে কোটর থেকে বেরিয়ে আসার মতো (Bulging eyes) হয়।
কুশিং সিনড্রোম (Cushing Syndrome)
এটি একটি জটিল মেটাবলিক রোগ যা শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে 'কর্টিসোল' (স্ট্রেস হরমোন) অতিরিক্ত মাত্রায় থাকার কারণে হয়। পিটুইটারি টিউমার বা দীর্ঘকাল স্টেরয়েড ওষুধ সেবনের কারণে এটি হতে পারে। রোগীর পেট ও পিঠে দ্রুত চর্বি জমে, মুখ গোল চাঁদের মতো (Moon face) হয়ে যায়, ঘাড়ের পেছনে চর্বির ঢিবি হয়, এবং ত্বক পাতলা হয়ে ফেটে যায়।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
ডাঃ তন্ময় রেজা মাসুম তার এক দশকের ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞা দিয়ে একাধিক অঙ্গকে আক্রমণ করা অত্যন্ত জটিল হরমোন রোগগুলো দ্রুত শনাক্ত করার ওপর জোর দেন। তার লক্ষ্য থাকে শুধুমাত্র ওষুধ দেওয়া নয়, বরং রোগীর জীবনযাত্রার পরিবর্তন (Diet & Exercise) এবং আধুনিক ওষুধের সমন্বয়ে হরমোনের ভারসাম্য আজীবন সুরক্ষিত রাখা।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি কোনো ডায়াবেটিস রোগীর তীব্র বমি শুরু হয়, নিঃশ্বাসে ফলের মতো গন্ধ বের হয় এবং আবলতাবল বকতে থাকে (DKA বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের লক্ষণ), থাইরয়েড বেশি থাকা রোগীর হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর আসে ও বুক তীব্র ধড়ফড় করে (Thyroid Storm), অথবা হঠাৎ করে ব্লাড প্রেসার মারাত্মক নিচে নেমে গিয়ে রোগী অজ্ঞান হয়ে যান (Adrenal Crisis), তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
সদস্য, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি (BES)
সহকারী অধ্যাপক, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা রক্তের রিপোর্ট (বিশেষ করে Fasting/ABF, HbA1c, TSH, FT3, FT4 এবং লিপিড প্রোফাইল) এবং থাইরয়েড বা পেটের যেকোনো আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট সাথে আনুন।
গুরুত্বপূর্ণ: রক্ত পরীক্ষার দিন সকালে রক্ত দেওয়ার আগে কোনোভাবেই থাইরয়েডের ওষুধ (Levothyroxine) খাবেন না। রক্ত দেওয়ার পর ওষুধ খাবেন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন, বিশেষ করে আগে যদি কোনো স্টেরয়েড বা হাঁপানির ওষুধ খেয়ে থাকেন।
ওজন বাড়া বা কমা, বুক ধড়ফড় করা, বা অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও প্রস্রাব হওয়ার বিষয়গুলো ডায়রিতে লিখে আনলে চিকিৎসকের বুঝতে সুবিধা হয়।
Last Modified: October 25, 2026