সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এস. এম. মাইনুল হক – খুলনা পালমোনোলজিস্ট ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এস. এম. মাইনুল হক খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন (বক্ষব্যাধি) বিভাগের একজন প্রখ্যাত সহকারী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট, যার বক্ষব্যাধি ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ট্রাকিয়াল স্টেনোসিস, ব্রঙ্কোপ্লুরাল ফিস্টুলা, কাইলোথোরাক্স, মেডিয়াস্টিনাল মাস এবং ডায়াফ্রাগমেটিক প্যারালাইসিস-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। শ্বাসতন্ত্রের যেকোনো জটিল, কাঠামোগত ত্রুটি এবং ইমার্জেন্সি অবস্থায় তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
ডাঃ এস. এম. মাইনুল হক সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগদান করেন এবং বক্ষব্যাধিতে অত্যন্ত সম্মানজনক দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যক্ষ্মা ও বক্ষব্যাধিতে ডিপ্লোমা (DTCD) সম্পন্ন করার পর বক্ষব্যাধিতে সর্বোচ্চ ক্লিনিক্যাল ডিগ্রি ডক্টর অব মেডিসিন (MD in Chest Diseases) অর্জন করেন। এই বিরল সংমিশ্রণ প্রমাণ করে যে তিনি সাধারণ যক্ষ্মা থেকে শুরু করে ফুসফুসের সবচেয়ে জটিল ও বিরল রোগ নির্ণয়ে সমানভাবে দক্ষ। খুলনায় সেরা পালমোনোলজিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সরকারি হাসপাতালের ২২ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিক্যাল নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে শ্বাসনালী সরু হয়ে যাওয়ার (ট্রাকিয়াল স্টেনোসিস) জটিল ব্যবস্থাপনা, ব্রঙ্কোপ্লুরাল ফিস্টুলার জন্য দীর্ঘমেয়াদী ড্রেনেজ ও ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ, কাইলোথোরাক্সের জন্য প্লুরোডেসিস, বুকের মাঝখানের টিউমার নির্ণয়ে ব্রঙ্কোস্কোপি এবং ডায়াফ্রাম প্যারালাইসিসের জন্য বিশেষ রেসপিরেটরি সাপোর্ট। তিনি আধুনিক এইচআরসিটি (HRCT), স্পাইরোমেট্রি এবং ফ্লুরোস্কোপির ওপর ভিত্তি করে নির্ভুল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এস. এম. মাইনুল হক |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | পালমোনোলজি ও রেসপিরেটরি মেডিসিন (বক্ষব্যাধি) |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | জটিল শ্বাসনালীর রোগ ও থোরাসিক ত্রুটি |
| পদবী | সহকারী অধ্যাপক (রেসপিরেটরি মেডিসিন) |
| কর্মস্থল | খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ২২+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি
বিসিএস (স্বাস্থ্য) – বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য ক্যাডার)
ডিটিসিডি (DTCD) – ডিপ্লোমা ইন টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড চেস্ট ডিজিজেস
এমডি (বক্ষব্যাধি) – ডক্টর অব মেডিসিন (বক্ষব্যাধি)
পদবী ও কর্মস্থল
পদবী: সহকারী অধ্যাপক (রেসপিরেটরি মেডিসিন)
কর্মস্থল: রেসপিরেটরি মেডিসিন (বক্ষব্যাধি) বিভাগ, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা
যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়
ট্রাকিয়াল স্টেনোসিসে (শ্বাসনালী সরু হওয়া) জরুরি শ্বাসনালীর মূল্যায়ন ও ডাইলেটেশন।
ব্রঙ্কোপ্লুরাল ফিস্টুলায় (ফুসফুস ছিদ্র হওয়া) বিশেষ চেস্ট টিউব ড্রেনেজ ও চিকিৎসা।
কাইলোথোরাক্সে (ফুসফুসে লসিকা বা চর্বিযুক্ত পানি জমা) ডায়েট কন্ট্রোল ও প্লুরোডেসিস।
মেডিয়াস্টিনাল মাসে (বুকের মাঝখানে টিউমার) ব্রঙ্কোস্কোপি ও বায়োপসি।
ডায়াফ্রাগমেটিক প্যারালাইসিসে (ডায়াফ্রাম পেশী অকেজো) নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন।
সিওপিডি (COPD) বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টে উন্নত ব্রঙ্কোডাইলেটর থেরাপি।
হাঁপানি বা অ্যাজমায় সুনির্দিষ্ট ইনহেলার ও অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসা।
ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজে (ILD) বিশেষ অ্যান্টি-ফাইব্রোটিক কেয়ার।
যক্ষ্মা বা টিবি (TB) রোগে দীর্ঘমেয়াদী ডটস (DOTS) প্রটোকল।
ব্রঙ্কিয়েক্টেসিসে জমে থাকা কফ বের করা এবং ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ।
নিউমোনিয়ায় কালচার-ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা।
প্লুরাল ইফিউশনে (ফুসফুসে পানি জমা) পানি বের করা ও কারণ নির্ণয়।
ফুসফুসের ক্যানসারে ব্রঙ্কোস্কোপির মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয়।
স্লিপ অ্যাপনিয়ায় (ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া) স্লিপ স্টাডি ও সিপ্যাপ (CPAP) থেরাপি।
পালমোনারি এমবোলিজমে (ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা) জরুরি চিকিৎসা।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
জটিল শ্বাসনালী ও থোরাসিক রোগ: আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গলার শ্বাসনালী সরু হয়ে যাওয়া (Tracheal Stenosis) এবং ফুসফুস ও বুকের দেওয়ালের মাঝে লিক তৈরি হওয়া (Fistula) এর মতো জীবনঘাতী রোগের আধুনিক চিকিৎসা।
মেডিয়াস্টিনাল ও প্লুরাল প্যাথলজি: বুকের মাঝখানের অংশে টিউমার নির্ণয় এবং বুকের ভেতর চর্বিযুক্ত লসিকা (Chyle) লিক হয়ে জমা হওয়ার মতো জটিল অবস্থার ব্যবস্থাপনা।
জেনারেল রেসপিরেটরি ও যক্ষ্মা কেয়ার: ২২ বছরের অভিজ্ঞতায় হাঁপানি, সিওপিডি এবং জটিল, ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও নিখুঁত চিকিৎসা।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
ট্রাকিয়াল ডাইলেটেশন ও এয়ারওয়ে স্টেন্টিং মূল্যায়ন
যাদের গলার ভেতরের প্রধান শ্বাসনালীটি দাগ বা স্কার পড়ে সরু হয়ে যায় (ট্রাকিয়াল স্টেনোসিস), তাদের শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট হয়। ডাঃ হক ব্রঙ্কোস্কোপির মাধ্যমে এই ব্লকের মাত্রা নির্ণয় করেন এবং প্রয়োজনে বেলুন দিয়ে রাস্তাটি বড় করা বা স্টেন্ট বসানোর মতো ইমার্জেন্সি চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্লুরোডেসিস ও চেস্ট টিউব ম্যানেজমেন্ট
কাইলোথোরাক্স বা বারবার ফুসফুসে পানি জমার চিকিৎসায় এটি করা হয়। প্রথমে টিউব দিয়ে বুকের ভেতরের পানি বা পুঁজ বের করা হয়। এরপর প্লুরাল স্পেসে বিশেষ কেমিক্যাল (যেমন ট্যাল্ক) পুশ করা হয় (প্লুরোডেসিস), যার ফলে ফুসফুসটি বুকের দেওয়ালের সাথে স্থায়ীভাবে আটকে যায় এবং ভবিষ্যতে আর পানি জমতে পারে না।
ফ্লুরোস্কোপিক "স্নিফ টেস্ট"
ডায়াফ্রাম (শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রধান পেশী) কাজ করছে কি না তা দেখার জন্য ফ্লুরোস্কোপি বা লাইভ এক্স-রের সাহায্যে রোগীকে জোরে শ্বাস টানতে বলা হয়। ডায়াফ্রাম প্যারালাইসিস ধরা পড়লে রোগীকে রাতে ঘুমানোর জন্য বিশেষ মেশিনের (BiPAP) সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের সাপোর্ট দেওয়া হয়।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
ট্রাকিয়াল স্টেনোসিস (Tracheal Stenosis)
এটি গলার প্রধান শ্বাসনালীর একটি বিপজ্জনক সংকোচন। সাধারণত দীর্ঘদিন আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে বা গলায় নল (Tracheostomy) দিয়ে রাখার পর, নলের চাপের কারণে সেখানে ঘা হয়। পরে এই ঘা শুকিয়ে শক্ত দাগ (Scar) তৈরি করে শ্বাসনালীকে প্রায় বন্ধ করে দেয়। রোগীর শ্বাস নেওয়ার সময় গলায় বাঁশির মতো শোঁ শোঁ শব্দ (Stridor) হয়, যা একটি চরম জরুরি অবস্থা।
ব্রঙ্কোপ্লুরাল ফিস্টুলা (BPF)
এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক অবস্থা যেখানে ফুসফুসের প্রধান শ্বাসনালী এবং বুকের বাইরের স্তরের (Pleural cavity) মাঝে একটি অস্বাভাবিক ছিদ্র বা ফিস্টুলা তৈরি হয়। ফুসফুসের ক্যানসার সার্জারি বা যক্ষ্মার কারণে ফুসফুস পচে গেলে এটি হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাস ফুসফুসে না গিয়ে এই ছিদ্র দিয়ে বুকের গহ্বরে লিক হতে থাকে, ফলে ফুসফুস চুপসে যায়।
কাইলোথোরাক্স (Chylothorax)
এটি একটি বিরল সমস্যা যেখানে 'কাইল' (চর্বি ও লসিকার মিশ্রিত একটি সাদা দুধের মতো তরল) থোরাসিক ডাক্ট থেকে লিক হয়ে ফুসফুসের চারপাশে জমতে থাকে। বুকে বড় ধরনের আঘাত, সার্জারির ভুল বা টিউমারের কারণে লসিকা নালী ছিঁড়ে গেলে এটি হয়। এর জন্য ফ্যাট-ফ্রি ডায়েট এবং বুকের টিউব দিয়ে ড্রেনেজ অপরিহার্য।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
ডাঃ এস. এম. মাইনুল হক তার ২২ বছরের ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞা দিয়ে শ্বাসতন্ত্রের সবচেয়ে জটিল এবং ইমার্জেন্সি কেসগুলো অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে সামলান। তার মূল লক্ষ্য থাকে শ্বাসনালীর ব্লকের মতো ইমার্জেন্সি অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের ক্ষতির কারণ নির্ণয় করা এবং জটিল বক্ষব্যাধির রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি কোনো রোগীর শ্বাস নেওয়ার সময় গলা থেকে বাঁশির মতো তীব্র তীক্ষ্ণ শব্দ (Stridor) হয় (যা শ্বাসনালী ব্লক হওয়ার লক্ষণ), হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথার সাথে দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয় (ফিস্টুলা ফেটে বাতাস লিক হওয়া), অথবা কাশির সাথে প্রচুর পরিমাণে তাজা রক্ত আসে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
সদস্য, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ
সদস্য, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা বুকের এক্স-রে, এইচআরসিটি (HRCT) স্ক্যান এবং এমআরআই (MRI) রিপোর্ট (বিশেষ করে টিউমারের ক্ষেত্রে) সাথে আনুন।
যদি আপনি অতীতে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন বা আপনার গলায় নল (Tracheostomy) পরানো ছিল, তবে সেই হাসপাতালের ডিসচার্জ পেপারটি অবশ্যই সাথে আনবেন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন এবং আপনার ব্যবহৃত ইনহেলারগুলো সাথে আনবেন।
ডায়াফ্রাম প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে, শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে কি না তা চিকিৎসককে স্পষ্টভাবে জানাবেন।
Last Modified: October 24, 2026