পালমোনোলজিস্ট (বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ): সম্পূর্ণ গাইড
পালমোনোলজি হলো ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র-সংক্রান্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা। ফুসফুস, ব্রঙ্কাস, শ্বাসনালি এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যার মূল্যায়ন ও চিকিৎসায় পালমোনোলজিস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দীর্ঘদিনের কাশি, বারবার শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ, ঘন ঘন বুকের সংক্রমণ অথবা বুকের এক্স-রে-তে অস্বাভাবিকতা থাকলে চেস্ট স্পেশালিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
পালমোনোলজিস্ট কোন কোন রোগের চিকিৎসা করেন?
চেস্ট স্পেশালিস্ট সাধারণত নিম্নলিখিত রোগ ও সমস্যার মূল্যায়ন এবং চিকিৎসা করেন:
হাঁপানি বা অ্যাজমা
COPD
দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস ও এমফাইসেমা
নিউমোনিয়া ও বারবার বুকের সংক্রমণ
যক্ষ্মা বা TB
ব্রঙ্কিয়েকটেসিস
ফুসফুসে ফাইব্রোসিস বা দাগ তৈরি হওয়া
ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ
ফুসফুসের নডিউল
পালমোনারি হাইপারটেনশন
ফুসফুসের চারপাশে পানি জমা
স্লিপ অ্যাপনিয়া
কর্মক্ষেত্রের ধুলা ও রাসায়নিকের কারণে ফুসফুসের রোগ
দীর্ঘস্থায়ী কাশি ও অজানা কারণে শ্বাসকষ্ট
প্রতিটি চিকিৎসকের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সেবার পরিধি আলাদা হতে পারে।
কোন লক্ষণ দেখা দিলে চেস্ট স্পেশালিস্ট দেখাবেন?
নিম্নলিখিত লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
দীর্ঘদিন কাশি থাকা বা বারবার কাশি হওয়া
হাঁটা বা সিঁড়ি ওঠার সময় শ্বাসকষ্ট
শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ
বুক ভারী লাগা বা শ্বাসের সঙ্গে বুকের অস্বস্তি
বারবার নিউমোনিয়া বা বুকের সংক্রমণ
কাশির সঙ্গে রক্ত আসা
দীর্ঘদিন কফ বা শ্লেষ্মা থাকা
অতিরিক্ত নাক ডাকা ও দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব
আগের তুলনায় কম পরিশ্রমেই ক্লান্ত বা শ্বাসকষ্ট হওয়া
বুকের এক্স-রে বা CT স্ক্যানে অস্বাভাবিকতা
লক্ষণ কতদিন ধরে আছে, কতটা তীব্র এবং রোগীর অন্যান্য শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন কি না।
কখন জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে?
নিম্নলিখিত অবস্থায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন:
হঠাৎ বা তীব্র শ্বাসকষ্ট
ঠোঁট বা আঙুল নীলচে হয়ে যাওয়া
শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকব্যথা
অজ্ঞান হওয়া বা বিভ্রান্তি
উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কাশির সঙ্গে রক্ত আসা
দ্রুত শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া
এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।
পালমোনোলজিস্ট কীভাবে রোগ নির্ণয় করেন?
প্রথমে চিকিৎসক রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস নেন এবং শারীরিক পরীক্ষা করেন। ধূমপান, ধুলা বা রাসায়নিকের সংস্পর্শ, অ্যালার্জি, পূর্বের সংক্রমণ, পারিবারিক ইতিহাস এবং লক্ষণের ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে।
প্রয়োজন অনুযায়ী নিম্নলিখিত পরীক্ষা করা হতে পারে:
স্পাইরোমেট্রি: ফুসফুস দিয়ে বাতাস প্রবাহের পরিমাণ ও গতি পরিমাপ করে।
পালমোনারি ফাংশন টেস্ট: ফুসফুসের বিভিন্ন কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করে।
চেস্ট এক্স-রে: ফুসফুসের কিছু সংক্রমণ বা অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
চেস্ট CT স্ক্যান: ফুসফুসের আরও বিস্তারিত ছবি পাওয়ার জন্য করা হয়।
রক্ত পরীক্ষা: সংক্রমণ বা প্রদাহসহ কিছু কারণ মূল্যায়নে সহায়তা করতে পারে।
কফ পরীক্ষা: নির্দিষ্ট সংক্রমণ বা যক্ষ্মার সন্দেহ থাকলে করা হতে পারে।
ব্রঙ্কোস্কোপি: প্রয়োজন হলে শ্বাসনালির ভেতর পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি।
স্লিপ স্টাডি: ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া বা স্লিপ অ্যাপনিয়া নির্ণয়ে ব্যবহৃত হতে পারে।
সব রোগীর সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। রোগীর লক্ষণ ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা নির্বাচন করা হয়।
চিকিৎসার পদ্ধতি
চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, তীব্রতা, রোগীর বয়স ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর। সম্ভাব্য চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:
হাঁপানি ও COPD-এর জন্য ইনহেলার
প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক
চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে যক্ষ্মার চিকিৎসা
অ্যালার্জি ও রোগের ট্রিগার এড়ানো
ধূমপান বন্ধের পরামর্শ
নির্দিষ্ট রোগীর জন্য অক্সিজেন থেরাপি
পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন
শ্বাসের ব্যায়াম ও শারীরিক কার্যক্রমের পরামর্শ
ঘুম-সম্পর্কিত শ্বাসের সমস্যার চিকিৎসা
প্রয়োজনে বিশেষ পদ্ধতি বা অন্য বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনহেলার, স্টেরয়েড, অ্যান্টিবায়োটিক বা অক্সিজেন থেরাপি শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করা উচিত নয়।
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে কী প্রস্তুতি নেবেন?
অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে প্রস্তুত রাখুন:
লক্ষণের তালিকা ও কতদিন ধরে আছে
পূর্বের প্রেসক্রিপশন ও পরীক্ষার রিপোর্ট
বর্তমানে গ্রহণ করা ওষুধ ও ইনহেলারের তালিকা
ধূমপান বা পরোক্ষ ধূমপানের ইতিহাস
ধুলা, ধোঁয়া বা রাসায়নিকের সংস্পর্শের তথ্য
আগের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য
চিকিৎসকের কাছে জিজ্ঞাসা করার প্রশ্ন
ইনহেলার ব্যবহার করলে সেটি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন, যাতে প্রয়োজনে চিকিৎসক আপনার ব্যবহারের পদ্ধতি পরীক্ষা করতে পারেন।