ডাঃ শেখ আব্দুর কাদের – খুলনার সেরা পালমোনোলজিস্ট ও পেশাগত বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ
ডাঃ শেখ আব্দুর কাদের খুলনা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের একজন প্রখ্যাত এক্স-কনসালটেন্ট, যার বক্ষব্যাধি ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ২৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সিলিকোসিস, অ্যাসবেস্টোসিস, বেরিলিওসিস, কোল ওয়ার্কার্স নিউমোকোনিওসিস (কয়লার ধুলো থেকে বক্ষব্যাধি) এবং রেডিয়েশন নিউমোনাইটিস-এর একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। শ্বাসতন্ত্রের যেকোনো পেশাগত বা পরিবেশজনিত জটিল অবস্থায় তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
ডাঃ শেখ আব্দুর কাদের ঢাকা থেকে সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বক্ষব্যাধিতে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে তিনি ঢাকা থেকে টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড চেস্ট ডিজিজেস-এ ডিপ্লোমা (DTCD) সম্পন্ন করেন। আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবায় তার প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আমেরিকার সম্মানজনক ফেলোশিপ (FCCP, USA) লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ভারতের জয়পুর এবং নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বক্ষব্যাধির ওপর বিশেষ উচ্চতর প্রশিক্ষণ (Special Training) গ্রহণ করেন। খুলনায় সেরা পালমোনোলজিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার ২৭ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে সিলিকোসিস ও অ্যাসবেস্টোসিসের জন্য পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন, রেডিয়েশন নিউমোনাইটিসের জন্য বিশেষ স্টেরয়েড থেরাপি, বেরিলিওসিস নির্ণয় এবং পেশাগত কারণে হওয়া ফুসফুসের ক্ষতির মূল্যায়ন। তিনি আধুনিক স্পাইরোমেট্রি, বুকের এইচআরসিটি (HRCT) এবং পেশাগত ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে নির্ভুল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | ডাঃ শেখ আব্দুর কাদের |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | পালমোনোলজি ও রেসপিরেটরি মেডিসিন (বক্ষব্যাধি) |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | পেশাগত বক্ষব্যাধি ও যক্ষ্মা (TB) |
| পদবী | এক্স-কনসালটেন্ট (রেসপিরেটরি মেডিসিন) |
| কর্মস্থল | বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ২৭+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
এমবিবিএস (ঢাকা) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি
ডিটিসিডি (ঢাকা) – ডিপ্লোমা ইন টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড চেস্ট ডিজিজেস
এফসিসিপি (ইউএসএ) – ফেলো অব দ্য আমেরিকান কলেজ অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানস
স্পেশাল ট্রেনিং – ভারতের জয়পুর এবং নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বক্ষব্যাধির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ
পদবী ও কর্মস্থল
যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়
সিলিকোসিসে (পাথর ও বালুর ধুলোর রোগ) দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের পুনর্বাসন।
অ্যাসবেস্টোসিসে ফুসফুসের ফাইব্রোসিস বা দাগ পড়া রোধের বিশেষ যত্ন।
বেরিলিওসিসে (কেমিক্যাল ধুলোর রোগ) বিশেষ ইমিউনোসাপ্রেসিভ চিকিৎসা।
কোল ওয়ার্কার্স নিউমোকোনিওসিসে (কয়লা শ্রমিকদের রোগ) আধুনিক বক্ষব্যাধি চিকিৎসা।
রেডিয়েশন নিউমোনাইটিসে (ক্যানসারের রেডিয়েশনের পর ফুসফুসের প্রদাহ) স্টেরয়েড থেরাপি।
যক্ষ্মা বা টিবি (TB) রোগে দীর্ঘমেয়াদী ডটস (DOTS) প্রটোকল।
সিওপিডি (COPD) বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টে উন্নত ব্রঙ্কোডাইলেটর থেরাপি।
হাঁপানি বা অ্যাজমায় সুনির্দিষ্ট ইনহেলার ও অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসা।
ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজে (ILD) বিশেষ অ্যান্টি-ফাইব্রোটিক কেয়ার।
ব্রঙ্কিয়েক্টেসিসে জমে থাকা কফ বের করা এবং ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ।
নিউমোনিয়ায় কালচার-ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা।
প্লুরাল ইফিউশনে (ফুসফুসে পানি জমা) পানি বের করা ও কারণ নির্ণয়।
ফুসফুসের ক্যানসারে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও অনকোলজিক্যাল রেফারেল।
দীর্ঘস্থায়ী খুসখুসে কাশির মূল কারণ নির্ণয় ও নিরাময়।
রেসপিরেটরি ফেইলিউরে জরুরি অক্সিজেন ও ভেন্টিলেশন সাপোর্ট।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
পেশাগত ও পরিবেশগত বক্ষব্যাধি: পাথর ভাঙা, কয়লা খনি বা কারখানার বিষাক্ত ধুলো (সিলিকা, অ্যাসবেস্টস) দীর্ঘকাল শ্বাসের সাথে গ্রহণ করার ফলে ফুসফুসের যে চিরস্থায়ী ক্ষতি হয়, তার সঠিক নির্ণয় ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা।
রেডিয়েশন পরবর্তী বক্ষব্যাধি: ব্রেস্ট বা ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার পর ফুসফুসে যে মারাত্মক প্রদাহ (Pneumonitis) হয়, তার সুনির্দিষ্ট স্টেরয়েড চিকিৎসা।
জেনারেল রেসপিরেটরি মেডিসিন: ২৭ বছরের অভিজ্ঞতায় হাঁপানি, সিওপিডি এবং যক্ষ্মার মতো সাধারণ রোগগুলোর অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও নিখুঁত চিকিৎসা।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
পেশাগত বক্ষব্যাধির এইচআরসিটি (HRCT) বিশ্লেষণ
পেশাগত বক্ষব্যাধির (যেমন সিলিকোসিস বা অ্যাসবেস্টোসিস) ক্ষেত্রে সাধারণ এক্স-রেতে ফুসফুসের ক্ষতি সবসময় ধরা পড়ে না। এইচআরসিটি (High-Resolution CT) স্ক্যানের মাধ্যমে ফুসফুসের ভেতরের সূক্ষ্ম দাগ (Fibrosis) বা পাথরের মতো শক্ত নোডিউল অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বোঝা যায়, যা সঠিক চিকিৎসায় সাহায্য করে।
অ্যাডভান্সড পালমোনারি ফাংশন টেস্ট (PFT)
শিল্পকারখানার ধুলো বা রেডিয়েশনের কারণে ফুসফুসের শ্বাসনালী কতটা সরু হয়ে আছে এবং ফুসফুসের বাতাস ধরে রাখার ক্ষমতা কতটা কমে গেছে—তা মাপার জন্য এই স্পাইরোমেট্রি পরীক্ষাটি অপরিহার্য। এটি রোগের অগ্রগতি বুঝতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সিস্টেমিক স্টেরয়েড থেরাপি প্রটোকল
রেডিয়েশন নিউমোনাইটিস এবং বেরিলিওসিস রোগের চিকিৎসায় এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় পদ্ধতি। ফুসফুসের মারাত্মক প্রদাহ দ্রুত কমানোর জন্য অত্যন্ত নিখুঁত মাত্রায় স্টেরয়েড ওষুধ দেওয়া হয়, যাতে ফুসফুস চিরতরে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
সিলিকোসিস (Silicosis)
যারা পাথর ভাঙা, নির্মাণকাজ বা বালি নিয়ে কাজ করেন, তাদের শ্বাসের সাথে সিলিকা ধুলো ফুসফুসে প্রবেশ করে। বছরের পর বছর এই ধুলো জমলে ফুসফুসে পাথরের মতো শক্ত গুটি (Nodule) তৈরি হয় এবং ফুসফুস তার স্থিতিস্থাপকতা হারায়। এর ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয় এবং যক্ষ্মা হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
রেডিয়েশন নিউমোনাইটিস (Radiation Pneumonitis)
ব্রেস্ট ক্যানসার বা লাং ক্যানসারের রোগীরা যখন বুকে রেডিয়েশন (সেঁক) নেন, তখন ক্যানসার কোষের পাশাপাশি সুস্থ ফুসফুসের কোষেও মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। রেডিয়েশন শেষ হওয়ার ১ থেকে ৩ মাস পর রোগীর শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট ও হালকা জ্বর দেখা দেয়। দ্রুত স্টেরয়েড চিকিৎসা না দিলে ফুসফুস চিরতরে শক্ত হয়ে যেতে পারে।
কোল ওয়ার্কার্স নিউমোকোনিওসিস (Black Lung)
এটি কয়লা খনি বা কয়লার কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের একটি মারাত্মক বক্ষব্যাধি। দীর্ঘদিন কয়লার ধুলো শ্বাসের সাথে প্রবেশ করলে তা ফুসফুসে জমে যায় এবং ফুসফুস কালো রঙের হয়ে যায়। ধুলো জমে ফুসফুসে ঘা তৈরি হয় এবং শ্বাসকষ্ট বাড়ে। ধুলামুক্ত পরিবেশে চলে যাওয়াই এই রোগের বৃদ্ধি ঠেকানোর প্রধান উপায়।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
ডাঃ শেখ আব্দুর কাদের তার ২৭ বছরের ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞা দিয়ে রোগীর পেশাগত ইতিহাস (Occupational history) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করেন। তার মূল লক্ষ্য থাকে ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির পেছনের লুকানো কারণগুলো খুঁজে বের করা এবং রোগীকে পরিবেশগত সতর্কতা সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যমে ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি রোধ করা।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি কোনো রোগীর হঠাৎ করে বিশ্রামরত অবস্থায় প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, কাশির সাথে প্রচুর পরিমাণে তাজা রক্ত আসে, অক্সিজেনের অভাবে ঠোঁট বা আঙুল নীল হয়ে যায়, অথবা বুকে রেডিয়েশন নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
ফেলো, আমেরিকান কলেজ অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানস (FCCP, আমেরিকা)
সদস্য, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা বুকের এক্স-রে, এইচআরসিটি (HRCT) স্ক্যান এবং স্পাইরোমেট্রির রিপোর্ট সাথে আনুন।
আপনার সারাজীবনের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত ইতিহাস (যেমন কত বছর ধরে কাজ করছেন, ধুলাবালি বা কেমিক্যালের সংস্পর্শ) চিকিৎসককে জানাতে প্রস্তুত থাকুন।
যদি ক্যানসারের জন্য রেডিয়েশন থেরাপি নিয়ে থাকেন, তবে তার কাগজপত্র অবশ্যই সাথে আনবেন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন এবং আপনার ব্যবহৃত ইনহেলারগুলো সাথে আনবেন।
Last Modified: October 24, 2026