সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সঞ্চয় কুমার বিশ্বাস – খুলনার সেরা পালমোনোলজিস্ট ও অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সঞ্চয় কুমার বিশ্বাস খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন (বক্ষব্যাধি) বিভাগের একজন প্রখ্যাত সহকারী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট, যার বক্ষব্যাধি ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাদানের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি রিফ্র্যাক্টরি অ্যাজমা, কোভিড-পরবর্তী ফুসফুসের জটিলতা, সিভিয়ার ব্রঙ্কোস্পাজম, পালমোনারি অ্যালভিওলার রোগ এবং মুমূর্ষু শ্বাসকষ্টের রোগীদের একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ। শ্বাসতন্ত্রের যেকোনো জটিল এবং ইমার্জেন্সি অবস্থায় তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করেন।
প্রফেশনাল বায়োগ্রাফি
ডাঃ সঞ্চয় কুমার বিশ্বাস সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগদান করেন এবং বক্ষব্যাধিতে অত্যন্ত সম্মানজনক দুটি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি এমসিপিএস (MCPS) সম্পন্ন করার পর বক্ষব্যাধিতে সর্বোচ্চ ক্লিনিক্যাল ডিগ্রি ডক্টর অব মেডিসিন (MD in Chest Disease) অর্জন করেন। চিকিৎসা সেবায় তার আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আমেরিকার সম্মানজনক ফেলোশিপ (FCCP, USA) লাভ করেন। খুলনায় সেরা পালমোনোলজিস্ট খুঁজতে গেলে রোগীরা তার সরকারি হাসপাতালের দুই দশকের অভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিক্যাল নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
তার বিশেষ চিকিৎসা ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে জটিল হাঁপানির জন্য বায়োলজিক থেরাপি, লং কোভিড রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন, তীব্র ব্রঙ্কোস্পাজমে জরুরি শ্বাসনালীর চিকিৎসা, অ্যালভিওলার রোগের জন্য বিশেষ ব্রঙ্কোস্কোপি এবং মুমূর্ষু রোগীদের জন্য নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন (NIV) সাপোর্ট। তিনি আধুনিক এইচআরসিটি (HRCT), স্পাইরোমেট্রি এবং আর্টারিয়াল ব্লাড গ্যাস (ABG) রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নির্ভুল চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
এক নজরে প্রোফাইল
| প্রোফাইল তথ্য | বিবরণ |
| পূর্ণ নাম | সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সঞ্চয় কুমার বিশ্বাস |
| প্রধান বিশেষজ্ঞতা | পালমোনোলজি ও রেসপিরেটরি মেডিসিন (বক্ষব্যাধি) |
| উপ-বিশেষজ্ঞতা | ক্রিটিক্যাল রেসপিরেটরি কেয়ার ও অ্যাজমা ইমিউনোলজি |
| পদবী | সহকারী অধ্যাপক (রেসপিরেটরি মেডিসিন) |
| কর্মস্থল | খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা |
| মোট অভিজ্ঞতা | ২০+ বছর |
| অবস্থান | খুলনা, বাংলাদেশ |
যোগ্যতা ও শিক্ষা
এমবিবিএস (MBBS) – ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি
এমসিপিএস (MCPS) – মেম্বার অব দ্য কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস
এমডি (বক্ষব্যাধি) – ডক্টর অব মেডিসিন (বক্ষব্যাধি)
এফসিসিপি (ইউএসএ) – ফেলো অব দ্য আমেরিকান কলেজ অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানস, যুক্তরাষ্ট্র
পদবী ও কর্মস্থল
পদবী: সহকারী অধ্যাপক (রেসপিরেটরি মেডিসিন)
কর্মস্থল: রেসপিরেটরি মেডিসিন (বক্ষব্যাধি) বিভাগ, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা
যে সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়
রিফ্র্যাক্টরি অ্যাজমায় (ওষুধে কাজ না হওয়া হাঁপানি) আধুনিক বায়োলজিক থেরাপি।
পোস্ট-অ্যাকিউট কোভিড-১৯ (কোভিড পরবর্তী ফুসফুসের ক্ষতি) নিরাময়ে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন।
সিভিয়ার ব্রঙ্কোস্পাজমে (শ্বাসনালী হঠাৎ সংকুচিত হওয়া) জরুরি চিকিৎসা।
পালমোনারি অ্যালভিওলার রোগে বিশেষ ব্রঙ্কোঅ্যালভিওলার ল্যাভেজ ও চিকিৎসা।
ক্রিটিক্যালি ইল বা মুমূর্ষু শ্বাসকষ্টের রোগীদের আইসিইউ (ICU) লেভেলের কেয়ার।
সিওপিডি (COPD) বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টে উন্নত ব্রঙ্কোডাইলেটর থেরাপি।
ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজে (ILD) বিশেষ অ্যান্টি-ফাইব্রোটিক কেয়ার।
ব্রঙ্কিয়েক্টেসিসে জমে থাকা কফ বের করা এবং ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ।
নিউমোনিয়ায় কালচার-ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা।
যক্ষ্মা বা টিবি (TB) রোগে দীর্ঘমেয়াদী ডটস (DOTS) প্রটোকল।
প্লুরাল ইফিউশনে (ফুসফুসে পানি জমা) পানি বের করা ও কারণ নির্ণয়।
ফুসফুসের ক্যানসারে ব্রঙ্কোস্কোপির মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও অনকোলজিক্যাল রেফারেল।
স্লিপ অ্যাপনিয়ায় (ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া) স্লিপ স্টাডি ও সিপ্যাপ (CPAP) থেরাপি।
পালমোনারি এমবোলিজমে (ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা) জরুরি চিকিৎসা।
এআরডিএস (ARDS) বা ফুসফুসের মারাত্মক প্রদাহে নিবিড় শ্বাসযন্ত্রের সাপোর্ট।
ক্লিনিক্যাল স্পেশালিটি ও চিকিৎসা ক্ষেত্র
অ্যাডভান্সড অ্যাজমা ও এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট: যেসব হাঁপানি সাধারণ ইনহেলারে নিয়ন্ত্রণে আসে না (রিফ্র্যাক্টরি) এবং হঠাৎ শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার (ব্রঙ্কোস্পাজম) মতো মারাত্মক অবস্থার সর্বাধুনিক চিকিৎসা।
পোস্ট-ভাইরাল ও ক্রিটিক্যাল রেসপিরেটরি কেয়ার: কোভিডের মতো ভাইরাসের কারণে ফুসফুস চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোগীদের পুনর্বাসন এবং আইসিইউতে থাকা মুমূর্ষু রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ভেন্টিলেশন সাপোর্ট।
অ্যালভিওলার ও জেনারেল পালমোনারি মেডিসিন: ফুসফুসের একদম ভেতরের বায়ুথলির (অ্যালভিওলাই) বিরল রোগ নির্ণয় এবং ২০ বছরের অভিজ্ঞতায় দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা।
অ্যাডভান্সড প্রসিডিউর বিশ্লেষণ
জটিল হাঁপানির জন্য বায়োলজিক থেরাপি
যাদের হাঁপানি কোনোভাবেই কড়া ডোজের ইনহেলারেও কমে না (রিফ্র্যাক্টরি অ্যাজমা), তাদের জন্য ডাঃ বিশ্বাস অত্যাধুনিক বায়োলজিক ইনজেকশন (যেমন ওমালিজুমাব) ব্যবহার করেন। এই ইনজেকশনগুলো শরীরের অ্যালার্জিক ও ইমিউন সিস্টেমের নির্দিষ্ট উপাদানকে ব্লক করে দেয়, যার ফলে হাঁপানির টান এবং ইমার্জেন্সিতে যাওয়ার হার জাদুর মতো কমে যায়।
ডায়াগনস্টিক ব্রঙ্কোস্কোপি ও ব্রঙ্কোঅ্যালভিওলার ল্যাভেজ (BAL)
এটি পালমোনারি অ্যালভিওলার রোগ এবং ফুসফুসের গভীরে থাকা ইনফেকশন নির্ণয়ের একটি অত্যাবশ্যকীয় পদ্ধতি। নাক বা মুখ দিয়ে ক্যামেরা যুক্ত নল (এন্ডোস্কোপ) ঢুকিয়ে ফুসফুসের ভেতরের বায়ুথলিতে স্যালাইন পানি দিয়ে ধুয়ে সেই পানি (Lavage) সংগ্রহ করা হয়। এই পানি পরীক্ষা করে বিরল রোগগুলো সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।
নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন (NIV) ম্যানেজমেন্ট
সিওপিডি বা তীব্র নিউমোনিয়ার কারণে যখন রোগী নিজে থেকে শ্বাস নিতে ব্যর্থ হন, তখন মুমূর্ষু অবস্থায় এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীকে অজ্ঞান করে গলায় নল না পরিয়ে, বাইরে থেকে মুখে একটি টাইট মাস্ক পরিয়ে বাইপ্যাপ (BiPAP) মেশিনের সাহায্যে নির্দিষ্ট চাপে ফুসফুসে বাতাস ও অক্সিজেন পুশ করা হয়, যা রোগীর জীবন বাঁচায়।
কন্ডিশন-নির্দিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা
রিফ্র্যাক্টরি অ্যাজমা (Refractory Asthma)
এটি হাঁপানির একটি অত্যন্ত মারাত্মক রূপ। সাধারণ হাঁপানি রোগীরা ইনহেলার নিলেই সুস্থ থাকেন, কিন্তু রিফ্র্যাক্টরি অ্যাজমার রোগীরা সর্বোচ্চ মাত্রার ইনহেলার এবং ওষুধ ব্যবহারের পরও বারবার মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভোগেন। তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হয়। এর জন্য রোগের মূল ধরন (Phenotype) বের করে বিশেষ বায়োলজিক থেরাপির প্রয়োজন হয়।
পোস্ট-অ্যাকিউট কোভিড-১৯ সিনড্রোম (লং কোভিড লাংস)
অনেক রোগী মারাত্মক কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে বেঁচে ফিরলেও তাদের ফুসফুসে স্থায়ী ক্ষত (ফাইব্রোসিস) বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থেকে যায়। এর ফলে তারা মাসের পর মাস শুকনো কাশি, অল্প হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠা এবং চরম ক্লান্তিতে ভোগেন। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন এবং বিশেষ ওষুধের প্রয়োজন হয়।
সিভিয়ার ব্রঙ্কোস্পাজম (তীব্র শ্বাসনালী সংকোচন)
কোনো অ্যালার্জি বা কেমিক্যালের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ করে ফুসফুসের শ্বাসনালীর পেশীগুলো মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে শ্বাসনালী এতই সরু হয়ে যায় যে বাতাস ঢোকা বা বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো তীব্র শব্দ হয়। এটি একটি চরম ইমার্জেন্সি অবস্থা, যার জন্য দ্রুত নেবুলাইজার এবং শিরায় স্টেরয়েড দেওয়া অপরিহার্য।
ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
ডাঃ সঞ্চয় কুমার বিশ্বাস তার ২০ বছরের ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞা দিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসায় অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি জটিল হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি রোগীর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন এবং পোস্ট-ভাইরাল ফুসফুসের ক্ষতির রোগীদের অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার দিকে এগিয়ে নেন।
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী
জরুরি সতর্কতা: যদি কোনো রোগীর হঠাৎ করে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং বুকের ভেতর থেকে কোনো বাঁশির শব্দ না আসে (সাইলেন্ট চেস্ট - অর্থাৎ শ্বাসনালী এতটাই ব্লক যে বাতাসই ঢুকছে না), রোগী যদি কার্বন ডাই-অক্সাইড জমার কারণে অচেতন বা অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে, অথবা অক্সিজেনের অভাবে ঠোঁট নীল হয়ে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
সার্টিফাইড ও পেশাগত সদস্যপদ
সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)
ফেলো, আমেরিকান কলেজ অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানস (FCCP, আমেরিকা)
সদস্য, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ
সদস্য, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন
রোগী দেখার পূর্ব প্রস্তুতি
পূর্বের করা বুকের এক্স-রে, এইচআরসিটি (HRCT) স্ক্যান এবং স্পাইরোমেট্রির রিপোর্ট সাথে আনুন।
যদি আপনি অতীতে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন বা কোভিডের জন্য অক্সিজেন নিয়েছিলেন, তবে সেই হাসপাতালের ডিসচার্জ পেপারটি অবশ্যই সাথে আনবেন।
বর্তমানে সেবন করা সকল ওষুধের তালিকা আনবেন এবং অবশ্যই আপনার ব্যবহৃত ইনহেলারগুলো সাথে আনবেন, যাতে চিকিৎসক আপনার ইনহেলার নেওয়ার নিয়ম চেক করতে পারেন।
সপ্তাহে কতবার ইনহেলার ব্যবহার করতে হয় বা রাতে কাশির কারণে ঘুম ভেঙে যায় কি না, তা ডায়রিতে লিখে আনলে ভালো হয়।
Last Modified: October 24, 2026